ব্রেকিং নিউজ

জমি নিয়ে বিরোধে সপরিবারে খুন

picষ্টাফ রিপোর্টার :: ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে শ্রমিকদল নেতা বাচ্চুকে। সোমবার দিনগত গভীর রাতে ভালুকা উপজেলার লবণকোঠা গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দুর্বৃত্তরা বাড়ির উঠানে রাখা বাসে ঘুমিয়ে থাকা রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে কুপিয়ে হত্যার পর তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্থানীয়দের ধারণা, হত্যা আগে বাচ্চুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) ভালুকা উপজেলার লবণকুঠা গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে এবং হবিরবাড়ি ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক। তার স্ত্রীর নাম শেফালী আক্তার (৩০), বড় মেয়ে জিনিয়া (৬) ও ছোট মেয়ে রিভা (২)।

পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তবে দুপুর পর্যন্ত ঘটনার কারণ কিংবা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বাচ্চুর বাবা ওয়াইজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি পার্শ্ববর্তী পাড়াগাঁও গ্রামে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করি। আমার ছেলে বাচ্চু তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে লবণকোঠা গ্রামে থাকতো।’
ওয়াইজ উদ্দিন বলেন, ‘পাড়াগাঁও মৌজার ২১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সালাহউদ্দিন ও হানিফের সঙ্গে আমার বিরোধ চলে আসছে। তারা আমার ওই জমি জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। ইতিপূর্বে স্থানীয় সিডস্টোর বাজারে তারা আমার ছেলেকে ব্যাপক মারধোর করে আহত করে। ওই ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

বাচ্চুর স্ত্রীর বড় ভাই উকিল উদ্দিন ভূইয়া জানান, বাচ্চুকে বাড়ির উঠোনে রাখা তার নিজস্ব বাসে (ঢাকা মেট্রো- জ-৪৫১৬) ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। ওই সময় ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা আমার বোন শেফালীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তারা দুই ভাগ্নি জিনিয়া ও রিভাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

উকিল উদ্দিন আরো জানান, আমার বোন ভাগ্নি প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে উঠে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা বেজে যাওয়ার পরও তারা ঘুম থেকে না ওঠায় তাদের মোবাইল ফোনে কল দিই। কিন্ত মোবাইল বন্ধ পাই। পরে খোঁজ নিতে এসে বাসের মাঝে বাচ্চুর লাশ দেখতে পাই। আমার কান্না শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে উকিল উদ্দিন ভূইয়া বাসের মাঝে বাচ্চুর লাশ দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করে। খবর পেয়ে এলাকবাসী ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। এরপর ঘরের জানালা দিয়ে বাচ্চুর স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে লেপ দিয়ে মোড়ানো বিবস্ত্র অবস্থায় ঘরের মেঝে থেকে শেফালি ও তার দুশিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশীদের ধারনা, দুর্বৃত্তরা শেফালিকে ধর্ষণের পর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও দুই শিশুকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এদিকে, নিহত বাচ্চুর বাড়িতে তার মা রাবেয়া খাতুন, বৃদ্ধ বাবা ওয়াইজ উদ্দিন ও শাশুড়ি আলতান নেছাসহ আত্মীয়-স্বজনের শোকের মাতম চলছে।

ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) আব্দুল কাদির বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর শেফালীকে কুপিয়ে ও দু’শিশু কন্যাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’

পরিদর্শক আব্দুল কাদির বলেন, ‘বাচ্চুর বাবার অভিযোগ স্থানীয় হানিফ ও সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে বাচ্চুর দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি নিয়ে এ বিরোধের কারণও থাকতে পারে। তবে প্রকৃত তদন্ত ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা বলা সম্ভব নয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের তীব্র নিন্দা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার :: সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের ...