ঔপনিবেশিক ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে জনগণের সেবায় পুলিশ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৮তম বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরণ পাল্টে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে। জনগণ যেন পুলিশকে বন্ধুর মতো পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, তার সরকার সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশ ফোর্সকে একটি সার্ভিসে রূপান্তর করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য ঔপনিবেশিক আমলের আইন বিধি ও কাঠমোতে ব্যাপক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। পুলিশ সদস্যদেরকেও ঔপনেবিশিক ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ডে নতুন কৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিংসহ নতুন নতুন অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে নতুন কৌশল ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে।’

পুলিশ বাহিনীর কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি করেছিল। এছাড়া তিনি সময় প্রত্যেক থানায় নিজস্ব ভবন ও ব্যারাক নির্মাণে উদ্যোগ এবং ঝুঁকি ভাতা ও কল্যাণ তহবিল চালু করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, এবার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্নমুখি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ৩২ হাজার ৩১টি ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২৩ ক্যাডার পদসহ প্রায় ১৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬১০টি ক্যাডার পদসহ ১৪ হাজার পুলিশ পদও সৃষ্টির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের দাবি ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন বাংলার মাটিতে হয়। তাছাড় এটি সরকারেরও লক্ষ্য ছিল। এই বিচার স্বাধীনতার পরে শেখ মুজিবুর রহমান শুরু করেছিলেন। কিন্তু ’৭৫ সালের পরে তাদের রেহাই দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিশপ্ত থাবা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শক্ত হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। চরমপন্থীদের আইনের আওতায় এনেছি। ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার কঠোরভাবে দমন করেছি।’

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট ও রংপুর রেঞ্জ গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই দুটি সিকিউরিটি ও প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। এছাড়া বিমান বন্দরগুলোর নিরাপত্তায় প্রযুক্তি নির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ গঠনের বিষয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। সেই সাথে অভিনন্দন জানান নতুন কর্মকর্তাদের। স্মরণ করিয়ে দেন পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/এইএন নিউজ

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here