জনগণ প্রায়োগিক কাজে বাজেট ব্যবহার দেখতে চায়: এএইচএম নোমান

স্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্মুক্ত চিন্তা ভাবনা প্রসূত প্রান্তিক জন বাজেট দর্শণ দেখতে চাই। বঙ্গবন্ধুর শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার মুক্ত বাংলা গড়ার বাজেট দর্শন হোক দারিদ্র দূরীকরণের। সংখ্যালঘু সম্পদবানদের স্বার্থ রক্ষায় ‘বায়াস’ থাকলে আদর্শীক ও নৈতিক রাজনীতি সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। তখন অভিজাত চার্টার্ড একাউন্টেন্স প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ন্যায্যতার বিকল্প নেই। অর্থ মন্ত্রীর বাজেট কার স্বার্থে? জনগণ তাই ব্যালেন্স সিটে, কথা নয়, প্রায়োগিক কাজের ব্যবহার দেখতে চায় বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট উন্নয়ন, মানবাধিকার সংগঠক ও মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং স্বপ্ন প্যাকেজ প্রবর্তনকারী সংগঠন- ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান।

আজ রবিবার (২৮ জুন) সকালে তিনি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আর বলেন, ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় চার্টার্ড একাউন্টেন্ট প্রত্যয়ী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির ১৩০ পৃষ্ঠার লাল সবুজ প্রচ্ছদের সাহিত্য অংক হিসাব এবং পবিত্র কোরআন থেকে আল্লাহর আয়াত টেনে উপসংহার টেনেছেন।

এএইচএম নোমান বলেন, করোনার থাবায় স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থা দূর্নীতির বিশাল যজ্ঞ ডাক্তার হাসপাতাল ঔষধ কোম্পানি- ত্রয়ীদের সিন্ডিকেট সংস্কার- ভাঙ্গার পথ খুঁজতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালীদের জঘন্য ব্যবসায়িক গোঁ করোনার আঘাতকেও হার মানিয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ বা পিপিপিপি আওতায় আনা যায় কিনা সরকার নীতি নির্ধারক বিশেষজ্ঞরা এর উত্তর ঠিক করবেন। কৃষি ও সংশিষ্ট ক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান ধন্যবাদ যোগ্য সর্ব গৃহীত পদক্ষেপ। ব্যাংক, পিকেএসএফ থেকে এর লেজুড় ধরতে এনজিওসহ সংশিষ্টরা নিয়ম নীতিমালার প্যাঁচে এখনো ধোঁয়াশায় ও উৎকন্ঠিত।

তিনি বলেন, গ্রামকে শহর করার পরিপন্থী অন্তর্ভূক্তিমূলক কৌশল’র স্থানীয় সরকার তথা জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ‘সেবক’ আওতায় এনে পরিবর্তন চাই। ধর্ম-কর্মের বৈষম্যের দৃষ্টান্ত ফলে, করোনা দূর্যোগও আজ গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি আবির্ভূত। এর থেকে উপলদ্ধির শিক্ষা নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের শিখন্ডি হয়ে পুতুল ভূমিকায় বসে থাকে। এমনকি কোন কোন সময় ‘মা’ তথা মানবাধিকার বিরোধীমনা অবসরপ্রাপ্ত আমলারা এর প্রধান হয়ে বেতন ভাতা সুবিধাদি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্দ্বিধায় ভোগ করেন। জবাবদিহিতার কোন বালাই নাই।

জনাব নোমান বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে জবাবদিহিতামূলক সরকারের স্বয়ংক্রিয় কাঠামোই হলো দূর্নীতি দমনের মূলমন্ত্র। কমিশন হবে সকল যন্ত্রমন্ত্র কলকাঠি সঠিকভাবে চলার জন্য মনিটরিং, দৃষ্টান্তমূলক দূর্নীতি দমন ও শাস্তি প্রদানের সহায়ক রেফারি ও মূলচাবি-শক্তি।

এএইচএম নোমান বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা আওতায় ১শ উপজেলায় সকল প্রবীন, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে টেকসই এবং গতিশীল কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ দর্শনের পল্লী সড়ক উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বেড়েছে। তবে যা পেটুয়া বাহিনী পালন ও দূর্নীতির ক্ষেত্র সম্প্রসারণ নামে বেশী পরিচিত। এ বাজেট বাড়তিতে চোর চোট্টাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমকে ভেদ করে সরকার ও জনস্বার্থ রক্ষার পথ পরিক্রমা নাই। গণতান্ত্রিক ও ক্রস চেকিং এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনয়নের বিকল্প নাই।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা মাসে ৮ শত টাকা চলমান থাকবে ঘোষনা করা হয়েছে, এ জন্য ধন্যবাদ। তবে এ ভাতা পোষাক শ্রমিক সমমানে মাসে ৮ হাজার টাকা করার দাবী করছি। একই সঙ্গে ৩ বছর মেয়াদের স্থলে শিশুর স্কুল ভর্তি হওয়া পর্যন্ত ৫ বছর করা হোক। স্বল্প-মধ্য মেয়াদী বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি দীর্ঘ ২০ বছর এক প্রজন্ম মেয়াদী অধিকার ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ চাই। এক মা এক লক্ষ টাকা বাজেট রেখে ১ কোটি গরীব মাকে টার্গেট করে দারিদ্র্য বিমোচনের ভিত রচনা করাই হবে জন বান্ধব বাজেট দর্শন যা এসডিজি’র এন্ডিং পোভার্টির বাস্তবায়ন ভিত। বাজেট বরাদ্দের আরেকটি সৌন্দর্য যে, ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ রেখেছেন, তা থেকে ১০০ উপজেলায় ১ হাজার কোটি টাকা ‘মাতৃত্বকালীন ভাতাকেন্দ্রিক স্বপ্ন প্যাকেজে’ কর্মসূচী বাস্তবায়নে বরাদ্দ প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

স্টাফ রিপোর্টার :: আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের ...