চার চোখে স্বদেশ দেখছেন তারা

চার চোখে স্বদেশ

স্টাফ রিপোর্টার :: চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে চার চোখে স্বদেশ দেখা শুরু করেছেন এ.এস.এম রাশেদুল হাসান রাসেল ও তার স্ত্রী সারিয়া তাসকিন।

সখের বসে নয়- স্বপ্নপূরণের ভাবনা ও দেশের পর্যটন ঐতিহ্য সবার মাঝে তুলে ধরতে তাদের এই স্বপ্ন যাত্রা শুরু হয়েছে। তারা স্বামী-স্ত্রী, চার চোখে বাংলাদেশকে ঘুরে দেখার এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন- ‌’চার চোখে স্বদেশ’

চার চোখে স্বদেশ

এ.এস.এম রাশেদুল হাসান রাসেল একজন শিক্ষানুরাগী। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের সন্তান ।  ইতোমধ্য তিনি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে অন্যতম ‘নবধারা শিক্ষা পরিবার’। পাশাপাশি রাজধানীতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ‘স্বপ্নপোকা ট্রাভেল এণ্ড ট্যুরিজম’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান।

রাশেদুল হাসানের স্বপ্ন পূরণের সহযাত্রী তার স্ত্রী সারিয়া তাসকিন পেশায় একজন চিকিৎসক। পঞ্চগড়ের মেয়ে সারিয়া তাসকিন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করছেন। তিনিও একজন একজন ভ্রমণ পিপাসু।

চার চোখে স্বদেশ

তিন পর্বে রাশেদুল হাসান ও সারিয়া তাসকিন দম্পতি দেশের ১০টি জেলার ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন।জেলাগুলো হচ্ছে- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।

চতুর্থ পর্বে তারা আগামী সপ্তাহে যাচ্ছেন, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা জেলা।

চার চোখে স্বদেশ

রাশেদুল হাসান জানান, ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের নেশাটা মাথায় ঢুকেছিল যখন স্কুলে পড়তাম সাইকেল চড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি আশেপাশে বহু গ্রাম। দুরে যাওয়ার অনুমতি ছিলনা বিধায় জেলার বাইরে যেতে পারতাম না। তখন থেকেই মনে সুপ্ত স্বপ্নের বীজ বপন করতে থাকি পুরো জগৎটাকে দেখার। বড় হয়ে স্বপ্ন নিয়ে চলতে চলতে দেখা পেলাম জীবনের অন্য এক স্বপ্নের। জীবন সঙ্গীকে নিয়ে প্রথমত আমরা ৬৪ জেলা ভ্রমনের পরিকল্পনা করি। ভালবাসার মানুষকে নিয়ে ভ্রমণে তাই আমাদের স্লোগান, “চার চোখে স্বদেশ”।

চার চোখে স্বদেশরাশেদুল হাসান ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, প্রতিটা জেলাতেই কিছু না কিছু দেখার মত স্থান আছে সেই সঙ্গে আছে স্থানীয় ঐতিহ্য। এমনো দেখেছি, স্থানীয় লোকজন কিন্তু সেখানকার অতুলনীয় স্থানীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত নন। আমরা রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত কবি মীর মোশাররফ হোসেনের স্মৃতি কমপ্লেক্স এ যাওয়ার সময় সেখানকার স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা তেমন সদুত্তর দিতে পারেনি। অনেক মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে স্মৃতি কমপ্লেক্সে পৌছলাম। যেয়ে হতবাক হলাম। নির্জন স্থানে এত চমৎকার স্থাপনা। বিশাল বাউন্ডারি এরিয়ায় সবুজ শাস আর নাম না জানা শত ফুলগাছের সমাহারের মাঝে আধুনিক স্থাপত্য শৈলী। লাইব্রেরী, ছোট ছোট গ্যালারী রুমে সাজানো বাধাই করা ফ্রেমে কবির কবিতা। নিরাপত্তা রক্ষীসহ মালি, কেয়ারটেকার রয়েছেন।দেখার পর শুধু একটা ভাবনাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, এত সুন্দর একটা স্থাপত্য শৈলীর কথা কেন কেউ এলাকার মানুষ জানবে না? কেন দেশের মানুষ জানবে না? এরকম শুধু একটি নয়, শত শত অতুলনীয় ঐতিহ্য দেশের কত আনাচে কানাচে পড়ে আছে, ক’জন তার খবর জানেন? আমরা চেষ্টা করছি-করবো সেই সব ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে, পর্যটন শিল্পকে আরো এগিয়ে নিতে। আমরা চাই ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে।

চার চোখে স্বদেশ

সারিয়া তাসকিন তার অভিজ্ঞতায় বলেন, দেশ ভ্রমণের কথা জানতে পেরে অনেক মানুষের ভালবাসা ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছি যা আমাদের লক্ষ্য পুরণে উৎসাহ যোগাবে। বেশ কিছু জেলায় বিশেষ বিশেষ আতিথেয়তার কথা ভোলার মত নয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্ষুধার্ত মানুষ

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ কোটি

ডেস্ক নিউজ :: ২০১৮ সালে বিশ্বের ৮২ কোটি মানুষ পেটে ক্ষুধা নিয়ে ...