ডেস্ক রিপোর্টঃঃ বৃষ্টি জরা আষাঢ়ের এক বিকেলে নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ‘চাটখিল সরকারী পি, জি উচ্চ বিদ্যালয়’ এর ১৯৮১-৮২ এস এস সি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান। গত ১৭ই জুন ২০২২ রোজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির পানসী রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয় এই মিলনমেলা। মোবাইল, ইন্টারনেট এর যুগে স্কুলের বন্ধুদের সাথে এমন সময় কাটানো সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার। যে সময়ে আমরা বছর ঘুরতেই ভুলে যাই বন্ধুকে, ভুলে যাই কাছের মানুষকে, সেখানে ১৯৮১-৮২ থেকে আজ ২০২২ সাল।

অবশ্য এমন মিলনমেলা এটাই নতুন নয়। আর আগেও দুটো মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে একটু একটু করে আলোচনা হয় কিভাবে নিজেদের এই সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, কিভাবে অন্যদের জন্যে কাজ করা যায়। অনুষ্ঠানের
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন – মোহাম্মদ শাহজাহান, অতিরিক্ত সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। শেখ মো. ফানাফিল্লাহ, পরিচালক, দুদক। মো: আনোয়ারুল কবির, ভাইস চ্যান্সেলর, STATE
UNIVERSITY OF BANGLADESH.

মিলনমেলার অনুষ্ঠানটি শুরু হয় কোরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে। তেলওয়াত করেন মোঃ বাহা উদ্দিন। এরপর বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ‘৮১-৮২ ব্যাচ এর বন্ধুরা।

অনুষ্ঠানে ব্যাচের অনেকেই স্কুল জীবনের সুন্দর স্মৃতিচারণ করেন। প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন করে ভাবনার কথা বলেন। বর্তমান প্রজন্মের পাশে থেকে তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার কথা বলেন। সিনিয়ার আর জুনিয়ারের মাঝে যে ব্যবধান তা দূর করে সুন্দর আগামীর কথা বলেন। প্রিয় স্কুলের অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে কি ভাবে দাঁড়ানো যায়, কিভাবে তাদেরকে স্কুল পাশের পর উচ্চশিক্ষার জন্য পথ দেখানো যায় তাও আলোচনায় উঠে আসে। আমরা জানি দশের লাঠি একের বোঝা। ব্যক্তিগত ভাবে একজন যা করা সম্ভব নয় দশজনে সেটা একসাথে করলে অনেক ভালো ভাবেই করা যায়।

উপস্থিত বক্তারা আলোচনায় নিয়ে আসেন পি, জি উচ্চ বিদ্যালয়’ এর বর্তমান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়। স্কুলে বা এলাকায় লাইব্রেরি স্থাপনের বিষয়। তরুন প্রজন্মকে মোবাইল ও নেশা জাতীয় আশক্তি থেকে কিভাবে পাঠ্যপুস্তক পাশাপাশি দেশ বিদেশের সাহিত্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা যায়।

প্রোগ্রামের শেষ দিকে থাকে রাতের খাবারের আয়োজন তার সাথে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির পানসী রেস্টুরেন্টে হয়ে উঠে একটুকরো চাটখিল। সবশেষে ‘৮১-৮২ ব্যাচ এর গ্রুপ ছবির ফটোশপ হয়। উপস্থিত সবার মাঝে নিজের লেখা বই বিতরণ করি আমি রহিমা আক্তার মৌ।

এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন, কর- কমিশনার। পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজকের দায়িত্বে ছিলেন- মোঃ বাহা উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আরিফ মাসুদ চৌধুরী, মনজুরুল আহমদ মঞ্জুর ও সামছু। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জসিম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন উনার বি. সি. এস. পরীক্ষার কথা। উচ্চশিক্ষা বা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে এগিয়ে যেতে কোন পথ ধরে এগুতে হবে তা আগে ঠিক করা সবার প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে নিজে একা একা ঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে নির্ভর করা যায় এমন কারো পরামর্শ নেয়া খুবই জরুরি। প্রথমবার বি. সি. এস. পরীক্ষায় তিনি উন্নিত হতে পারেন নি। পরের বার তিনি পছন্দের তালিকার দ্বিতীয় বিষয় দেন ‘কর’। সত্যিই তিনি পরেরবার কৃতকার্য হন এবং ‘কর’ বিভাগেই হন।

উপস্থিত সবার সহধর্মিণী সহ নিমন্ত্রিত থাকলেও অনেকের সহধর্মিণীগন ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেন নি। ৮১-৮২ ব্যাচ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার কয়েকজন ছোট ভাই ও বোনেরা। সকলের উপস্থিতিতে আষাঢ়ের এই সন্ধ্যাটা প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here