চলন্ত সিএনজিতে ব্যবসায়ীকে হত্যা: দুজনের স্বীকারোক্তি

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: টাকা আত্মসাৎ করতে চলন্ত সিএনজিতে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ব্যবসায়ী আলমগীর হত্যা কান্ডে গ্রেফতার হয়া ঘাতক মেহেদী হাসান রুবেল।

কিভাবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়টিও আদালতকে জানান সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাগর।

শুক্রবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকতার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় দুই আসামীকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আবদুল কাদেরের আদালতে তোলা হয়।

পরে হত্যকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান রুবেল ও সিএনজি চালক সাগর কিভাবে ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে সে বিষয়টি আদালতে বর্ননা দেয়। পরে তাদের দুইজনকে জেল হাজতে প্রেরন করে আদালত। এর আগে সদর উপজেলার পশ্চিম বটতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান রুবেল ও দক্ষিন মান্দারীর জামাল উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালক সাগরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও আত্মসাৎকৃত আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকতার হোসেন জানান, সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের সুপারী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রুবেল ও রায়পুর শহরের ব্যবসায়ী নিহত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এক সাথে ব্যবসা করে আসছিল। এর মধ্যে মেহেদী হাসান রুবেলের কাছে ৬ লাখ টাকা পাওনা হন আলমগীর হোসেন। মঙ্গলবার বিকেলে আলমগীর হোসেন ওই পাওনা টাকার জন্য মান্দারী বাজারে রুবেলের কাছে আসেন।

এ সময় আলমগীর হোসেনকে তিন লাখ টাকা দেয় রুবেল। আরো তিন লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে তারা। পরে ফয়েজ নামে এক পেশাদার কিলারকে সিএনজিতে উঠিয়ে নেয় রুবেল। আলমগীর হোসেনকে সিএনজির মাঝখানে বসিয়ে ডানে পাশে বসে কিলার ফয়েজ ও বাম পাশে রুবেল। পরে মীরগঞ্জ সড়কে চলন্ত সিএনজিতে ওই তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য আলমগীর হোসেনের হাত-পা চেপে ধরে রুবেল ও গলাকেটে হত্যা করে ফয়েজ।

পরে তার লাশ কাজির দিঘীর পাড় এলাকায় একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। এ সময় ওই তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পেশাদার কিলার ফয়েজকে দেয়া রুবেল। বাকী আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকালে পাওনা ৬ লাখ টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। পরে বুধবার সকালে সদর উপজেলার কাজির দিঘীর পাড় বাজার এলাকার একটি পুকুর থেকে কম্পিউটার ব্যবসায়ী

আলমগীর হোসেনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আলমগীর হোসেন জেলার রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের মৃত বশির উল্যাহর ছেলে। তিনি রায়পুর পৌর শহরের শাহী হোটেল সংলগ্ন তানহা কম্পিউটার দোকানের মালিক। এছাড়াও তিনি নারিকেল-সুপারি, ইট, বালুসহ কয়েকটি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘সফল উদ্যোক্তারাই গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ’

স্টাফ রিপোর্টার :: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, ...