চলতি বছর কর্মক্ষেত্রে নিহত ১২৪০ শ্রমিক

শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহতষ্টাফ রিপোর্টার :: ২০১৬ সালে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ১ হাজার ২৪০ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ৫৪৪। নিহতের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেড়েছে ২৮৯ জন। ২০১৫ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৯৫১ শ্রমিক।
চলতি বছর দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পরিবহন খাতে। তবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে শ্রমিক নিহতের সংখ্যা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এ বছর বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ৫৫ জন শ্রমিক। এর বেশিরভাগই কৃষি শ্রমিক বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া নির্মাণখাত, তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, অন্যান্য কারখানা, গৃহকর্মী ও মত্স্য শ্রমিকও নিহতের তালিকায়। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ওশি) ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন সাকি রেজোয়ানা। এ সময় ফাউন্ডেশনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ওশি ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এ সময় জানানো হয়, ২০১৪ সালে কর্মক্ষেত্রে ৪৬৫ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছিলেন ৪৪৪ জন। এর আগের বছর ২০১৩ সালে নিহত ১ হাজার ৭২৭, আহত ২৩০৩ জন এবং ২০১২ সালে নিহত ২৩৩ জন আর আহত ১৭২ জন।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সুপারিশও তুলে ধরা হয়। শ্রম আইনে উল্লেখিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল প্রয়োগকে প্রধান কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর্যাপ্ত পরিদর্শন ব্যবস্থাও অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে শ্রমিকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা বিষয়ক জ্ঞানের অভাব, কারখানায় সেফটি কমিটি গঠনের বিধানকে উপেক্ষা করা, বয়লার পরিদর্শন বিভাগের সীমাবদ্ধতা এবং গৃহকর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ অন্যতম।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নিহত শ্রমিকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৩৫৯ জন এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৮১ জন কাজ করতেন। খাতভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, পরিবহণ খাতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮৬ জন। ১৪৭ জন নির্মাণখাতে, পোশাক শিল্পে ৮৮ জন, কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছে ৮৭ জন। দিনমজুরি ৬৯ জন, টাম্পাকো ফয়েল কারখানায় ৪৭ শ্রমিক এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন শ্রমিক।
দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যমান শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগের লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি নীতিমালা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা, কর্মস্থলে সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য ইউনিট চালু করা, সরকারি হাসপাতালে পেশাগত রোগের চিকিত্সার জন্য বিশেষায়িত চিকিত্সকের সংখ্যা বাড়ানোসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

২১ বিশিষ্ট নাগরিককে প্রধানমন্ত্রীর একুশে পদক প্রদান

২১ বিশিষ্ট নাগরিককে প্রধানমন্ত্রীর একুশে পদক প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার :: নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন ...