ঘের ব্যবসায়ীদের দখলে সরকারি খাল ও রাস্তা !

ঘের ব্যবসায়ীদের দখলে সরকারি খাল ও রাস্তা !

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাসুম, মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি :: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের সকল খাল ও রাস্তা দখল করে নিয়েছে ঘের ব্যবসায়ীরা । যে যার মত করে জনগুরুত্বপূর্ণ খালে বাঁধ দিয়ে ও রাস্তা কেটে ঘেরে পানি ওঠা নামানোর কাজ করছে। ইউপি চেয়ারম্যান নিজেও খাল ও রাস্তা দখল করে চুটিয়ে ঘের ব্যবসা করছেন। ফলে উন্নয়নের কোনই ছোয়া লাগেনি এ ইউনিয়নে। এক ইঞ্চি পিচ ঢালাই রাস্তা নেই। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য নেই একটি ইটসোলিং রাস্তাও। ফলে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এ ইউনিয়নের ২২ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস্য মাছ চাষ। বাগদা, গলদা ও সাদা মাছের ঘের ব্যবসার সাথে জড়িত এলাকার অধীকাংশ মানুষ। এ ইউনিয়নে ছোট বড় মিলিয়ে ৮শ’টি ঘের রয়েছে। খাল রয়েছে ৩১টি। কাচা রাস্তা রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। আংশিক পাকা বা ইটসোলিং রাস্তা প্রায় ১১ কিলোমিটার। ঘের ব্যবসায়ীরা রেকর্ডীয় ৩১টি খালের ৩০টিতেই বাঁধ দিয়ে ঘের হিসেবে ব্যবহার করছেন।

খালের পানি প্রবাহ নির্ভর করে ঘের মালিকদের ইচ্ছার ওপর। অনেক খাল অস্তিত্বও হারিয়েছে। পূর্ব বহরবুনিয়া হিন্দু পাড়ার নাদের আলী খাল, কলেজ বাজার এলাকার জুব্বার আলী খাল, সিরাজ মাটারের বাজার সংলগ্ন কাটা খাল, হোগলাবুনিয়ার খালসহ উল্লেখযোগ্য সরকারি খাল গুলো ঘের ব্যবসায়ীদের দখলে। অসংখ্য বাঁধ ও গড়া দিয়ে প্রভাবশালীরা এসব খালে ঘের করছেন।

সূর্যমুখী খালের পশ্চিম পাড় থেকে শুরু করে সিরাজ মাস্টারের বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার কাচা রাস্তার ১০-১২ স্থানে কেটে কাঠের বক্স বসানো হয়েছে। কালিবাড়ি হয়ে পূর্ব বহরবুনিয়ায় যাবার ইটসোলিং রাস্তা বিভিন্ন জায়গা থেকে কেটে বক্স ও পাইপ বসিয়েছেন ঘের ব্যবসায়ীরা।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রিপন তালুকদার নিজেও কয়েকটি ঘেরের মালিক। খাল দখল ও রাস্তা কাটায় তার ভূমিকা চোখে পড়ার মত। মিয়ার খাল ও জুব্বার আলীর খাল দুটি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের দখলে। জুব্বার আলীর খালে ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে বাঁধ দেয়ায় ২৫-৩০টি পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান রিপন তালুকদার বলেন, জনসাধারণের অসুবিধা হয় এমন কিছু করা হয়নি। ৩১টি খালের পানি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। অন্যথায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

খাল বেদখলের বিষয়ে সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন সচিবের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান মোবাইল ফোনে বলেন, ওই ইউনিয়নে খাল দখল ও রাস্তা কাটার বিষয়টি যুগযুগ ধরে চলে আসছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার একটি কাঠের বাক্স অপসারণ করা হয়েছে। খালের বাঁধ অপসারণ ও রাস্তা কাটার বিষয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আবারো উত্তপ্ত পাহাড়: বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :: আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার সকাল ...