ব্রেকিং নিউজ

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাততের ঘটনায় মামলা দায়ের: দুই জন আটক

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল,  নোয়াখালী প্রতিনিধি :: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণ চেষ্টায় বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ৯জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫) বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’দফায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে আটক করে। এক আসামিকে রোববার বিকেল ৪টায় এবং অপর আসামিকে রাত ১১টায় একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো- একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিদন ভূঁইয়া বাড়ির শেখ আহম্মদ দুলাল’র ছেলে  মো. রহীম (২০) ও একই এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আব্দুর রহীম’র ছেলে মো.রহমত উল্যাহ (৪১)।
বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হারুন উর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশের ৫টি ইউনিট ৭ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে দুই আসামি আটক করে। অপরদিকে, ভয়ে বাড়ি ছাড়া নির্যাতিতা গৃহবধূকে সদর উপজেলার মাস্টার পাড়ার তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মাসের (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূ (৩৫) এর বসত ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে  পাশের কক্ষে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে শ্লীলতাহানি করে স্থানীয় বাদল ও তার সংঘবদ্ধ বখাটে যুবক দল। ঐ সময় গৃহবধূ বাঁধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।
ওসি মো.হারুন উর রশীদ আরো জানান, পুলিশ অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। আটককৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন  জানিয়েছেন , ইতিমধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আজকের মধ্যেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
 
তিনি এখনো বেগমগঞ্জ থানায় অবস্থান করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সবগুলো নরপিশাচ কে গ্রেফতার না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এখানেই আছেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২দিন পর  গৃহবধূকে নির্যাতনের ঐ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়ে গেলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনার পর থেকে গত ৩২ দিন অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছু দিন অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসত বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলে পুরো ঘটনা দীর্ঘদিন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে থাকে। পরে ঘটনার জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ২ আসামিকে আটক করে।
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভোলায় ১১ মাসে ৮৬ ধর্ষন, ১৭ খুন

শিপুফরাজী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: ভোলার ৭ উপজেলায় বেড়েই চলছে হত্যা ও ধর্ষনের ...