মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ::
গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করা শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে আইডি নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা হতে ১২ জুলাই রাত ১১:৫৯ মিনিটের মধ্যে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সময় বাড়ানোর আর সুযোগ থাকবে না। তবে ১৫ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীর ছবি ও প্রশ্নের ভার্সন পরিবর্তন করা যাবে। পরীক্ষার কেন্দ্র, কক্ষ নং, ভবন ও সেন্টারের নাম পরবর্তীতে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
গুচ্ছভুক্ত টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ আজম বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার বলেন, গত শিক্ষাবর্ষের চেয়ে এই শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী বেশি আবেদন করেছে। আমরা আবেদনের সময় দিয়েছিলাম মাত্র ১০ দিন। আবেদনকারী ভর্তিচ্ছুরা ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
অধ্যাপক ড. মো. শাহ আজম বলেন, নির্ধারিত নিয়মে ১২ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে যেয়ে তাদের কোন তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ পাবে, কেউ চাইলে ছবিও পরিবর্তন করতে পারবে এতে তাদের অতিরিক্ত কোন ফি দিতে হবে না।
বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবেশপত্র ডাউনলোড কিংবা ভর্তি পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির মিটিংয়ে কোন আলোচনা হয়নি। এখন বন্যা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে তবে যদি পরিস্থিতি খুব খারাপ অবস্থা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি কোন নির্দেশনা আসে তখন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শেষ হয় ২৫ জুন।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা ৩০ জুলাই, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৩ আগস্ট এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ এই তিনটি ইউনিটে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৪ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটে। এই ইউনিটে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি আবেদন করেছেন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে আবেদন পড়েছে সবচেয়ে কম। এই ইউনিটে আবেদন করেছে ৪২ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। আর মানবিকের জন্য নির্ধারিত ‘খ’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ৯০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির আহবায়ক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পেছানো নিয়ে এখনো কোনো চিন্তা ভাবনা করা হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়; জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়; রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়; শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
কোন কেন্দ্রে কত আবেদন
গুচ্ছভুক্ত ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মূল কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করবে। এই কেন্দ্রের আশপাশে উপকেন্দ্র হবে।
পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা মিলে এক লাখ ৪ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু। এর মধ্যে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগেই ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।
ভর্তিচ্ছুদের কেন্দ্র নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে আবেদন করেছে ২৪ হাজারের বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছে ৭ হাজার ৩০০ এর কিছু বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পড়েছে ৪ হাজার।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পড়েছে তিন হাজার ৭০০, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ হাজার, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৮০০, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ হাজার ৪০০, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ৮০০, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ হাজার ৮০০, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৯০০, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৩০০, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭০০, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ হাজার ৪০০, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ৩০০, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ হাজার ৮০০, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার ৪০০, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ৬০০ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ৫০০ এর কিছু বেশি ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছে।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here