গাসিকের সাবেক প্রকৌশলী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সাবেক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও পরিবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এম কাওসার আহমেদ।

অ্যাডভোকেট এম কাওসার আহমেদ বলেন, ২০২০ সালের ১১ মে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার এক দিন পর আমরা এ হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারি। পরবর্তীতে এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। সিটি কর্পোরেশনের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অপকর্মে সায় না দেওয়ায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রে প্রকৌশলী দেলোয়ারের সহকর্মী সেলিম, গাড়ি চালকসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পরবর্তীতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী তারা ছাড়া অন্য কেউ জড়িত নন। তবে পুলিশ অভিযোগ জমা দিলেও রহস্যজনকভাবে আমাদের জানায়নি। পরবর্তীতে আমরা আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করেছিলাম। যেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ না খুলতে হুমকি দিচ্ছিলেন। ভয়ভীতি এবং হুমকির কারণে আমরা বিষয়টি নিয়ে কোনো দিন কথা বলতে পারিনি। জিডির বিষয়টি পুলিশ এক বারের জন্যও আমলে নেয়নি এবং তদন্ত করেনি। এমনকি পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বরাবর অন্য আরেকটি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর জন্য আবেদন (কপি সংযুক্ত) করলেও সেটির কোনো ফল পাইনি।

কাওসার আহমেদ বলেন, তৎকালীন মেয়রের ঘনিষ্ঠজন মনির হোসেন নামে একজন প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে নানা সময়ে অনৈতিক কাজ করতে চাপ দিতেন বলে জানতে পেরেছি। এমনকি প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার আগে অফিসিয়ালি চাপের মুখে আছেন বলে তার স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু চাপা স্বভাবের হওয়ায় কী চাপ সেটা বলেননি। আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের পেছনে শক্তিশালী কেউ জড়িত আছে। সেই ধারণা আরও শক্ত হয়েছে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর। পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার আগে বাদীকে একবারের জন্যও জানানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করেনি। এছাড়া প্রতিবেদনে যেভাবে হত্যার কথা বলা হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নাটকীয়তায় ভরা একটি গল্প সাজানো হয়েছে। দুইজনের পক্ষে যেভাবে হত্যার কথা বলা হয়েছে, সেটি অসম্ভব বলে মনে করছি। আমরা মনে করি, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যেমন রাঘববোয়াল জড়িত, তেমনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও আরও কেউ জড়িত। যেটি সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আরেকটি বিষয়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়িটিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডটি নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে বলে মনে করছি না।

গত ৮ জুলাই আলোচিত মামলাটির এক নম্বর আসামি সেলিম জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। জামিনে বেরিয়ে তিনি বিভিন্ন লোক দিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বাদী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী খোদেজা আক্তার, ভাই নুরুন্নবী চিশতী এবং দুই ছেলে তমাল ও হিমেল।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here