ব্রেকিং নিউজ

গাজীপুরে ফ্যান কারখানায় আগুনে নিহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার :: রোববার গাজীপুরে একটি ফ্যান কারখানায় আগুনে অঙ্গার হলো ১০ জন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার বারিয়া ইউনিয়নের কেশোরিকা এলাকায় লাপারি ফ্যান কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভেতর থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা সবাই শ্রমিক। তাদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- পারভেজ ও ইউসুফ (ঠিকানা জানা যায়নি), কেশোরিকা গ্রামের বীর চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস, রংপুরের ফরিদুল ইসলাম, শ্রীপুরের রাশেদ, শামীম ও কালনী গ্রামের সাইফুল ইসলাম খানের ছেলে ফয়সাল খান। নিহত ফয়সাল কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্র ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ওই কারখানায় চাকরি করত সে। সবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। একই হাসপাতালে ভর্তি আছেন আহত দু’জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামের ভেতর নির্জন এলাকায় তিনতলা ভবনের ছাদের ওপর বড় একটি টিনশেড ঘর। ওই টিনশেড ঘর থেকে নিচে নামার জন্য তৈরি সরু সিঁড়ি বরাবর ছোট্ট একটি দরজা। বাইরের আলো-বাতাস যাওয়ার কোনো উপায় নেই। জীর্ণ ওই ঘরটির ভেতরেই বসে ১৩ জন শ্রমিক বৈদ্যুতিক ফ্যান তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই দরজার কাছে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকরা বাঁচার জন্য দৌড়ে দরজার বিপরীত দিকে গিয়ে অবস্থান নেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। ততক্ষণে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মুহূর্তে আগুন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। টিনশেডের একটি কক্ষে কয়েকজন কর্মী আটকে পড়েন। পরে দমকল কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক জাকারিয়া খান সাংবাদিকদের জানান, দরজার কাছে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার পর শ্রমিকরা ভেতরে চলে যান। পরে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তাদের কেউ কেউ বাইরে বের হয়ে যেতে পারলেও ভেতরে অনেকে আটকা পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে ১০ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। কারখানাটিতে ১৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান জাকারিয়া খান। কারখানার মালিকের নাম মো. জাহিদ বলে জানা গেলেও কর্তৃপক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, এসব কারখানা চালানোর নামে টাকাওয়ালা কিছু মানুষ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণেই ১০টি তাজা প্রাণ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল। তিনি বলেন, এমন পরিবেশে কখনও মানুষ কাজ করতে পারে না, এত বড় ঘরের জন্য ছোট্ট একটি দরজা রাখা হয়েছে। একাধিক দরজা থাকলে আজ হয়তো এই মানুষগুলো বেঁচে যেতেন। মালিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এই কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটা অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দাফন-কাফনের জন্য নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আরও ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বঙ্গবন্ধুর নীতিতেই সরকার কূটনীতি পরিচালনা করছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই সরকার কূটনীতি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন ...