গরিবের জেলা পটুয়াখালী!

শংকর লাল দাশ :: দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষের বাস পটুয়াখালী জেলায়। জেলার শতকরা ৬০ দশমিক ৬০ ভাগ খানার মানুষই গরিব। এ জেলায় টেলিভিশন আছে মাত্র ১৮.২ শতাংশ বাড়িতে। আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলার ৯৪.৫ শতাংশ পরিবারের মানুষ।
.
সোমবার ১৯ অক্টোবর ‘সবচেয়ে গরিব মানুষ পটুয়াখালী জেলায়’ শীর্ষক শিরোনামে প্রথম পাতায় পরিবেশিত এক সংবাদে প্রথম আলো এসব তথ্য দিয়েছে। দু’টি প্রতিষ্ঠানের করা জরিপ ফলাফলের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
.
পটুয়াখালীবাসীর একজন হিসেবে জরিপের ফলাফল ও প্রতিবেদন নিয়ে কৌতুহল জাগা স্বাভাবিক। প্রতিবেদনের তথ্য যদি শতভাগ সঠিক হয়, তাহলে সবার আগে গরিব মানুষের প্রকৃত সংখ্যা জানা জরুরি।
.
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী জেলার বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫৪ জন। প্রথম আলোয় প্রকাশিত শতকরা ৬০ দশমিক ৬০ ভাগ মানুষ গরিব হলে জেলায় এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৭২৭ জনে। অর্থাৎ এ বিপুলসংখ্যক মানুষ গরিব। আবার খানাওয়ারি  হিসাব ধরা হলে গরিবের সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়বে। প্রতিবেদনে প্রতি খানায় লোকসংখ্যা ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৬ জন। সে হিসাবে গরিব ১০ লাখ ২১ হাজার ৬ জন। জেলায় মোট খানা ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৮টি।
.
পটুয়াখালীর মতো দক্ষিণের শেষ প্রান্তের একটি জেলার কমবেশি ১০ লাখ মানুষ গরিব, বিষয়টি অনেকের কাছেই বিষ্ময়কর।
.
তারচেয়ে আরও বিষ্ময়কর হচ্ছে গরিবের সূচক নির্ধারণ। পারিবারিক আয় ছাড়াও ঘরের অবস্থা, বিদ্যুত, টয়লেট, টিভি ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার সূচক হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। আসলে এ সূচকগুলো দিয়ে দারিদ্র্যতা বিবেচনা কতটা যৌক্তিক, এনিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়ে গেছে।
.
মোবাইল ফোন ব্যবহার যদি সূচক হিসাবে ধরা হয় তবে জেলার শতকরা ৯৪.৫ ভাগ হিসাবে ২লাখ ৯ হাজার ৭৫০ পরিবারের মানুষকে অবশ্যই ধনী বলতে হবে। তারমানে কমবেশি মাত্র ৬ ভাগ মানুষ গরিব।
.
পটুয়াখালী জেলার মানুষ ভৌগলিক, পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন কারণে এখনো পাকা বাড়িঘরে অভ্যস্ত নয়। এটা গরিবিয়ানা প্রমান করে না। তারপরও প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার ৯৫.২ শতাংশ ঘর উন্নত বলে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। ঘরের সূচকে এগিয়ে থাকার পরেও জেলার অধিক সংখ্যক মানুষ কেন গরিব, তার কোন ব্যাখ্যা নেই। একই ভাবে ব্যাখ্যা নেই বিদ্যুত ও টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও।
.
জেলার ৮২ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে এবং ৫৬.২ শতাংশ টয়লেটই উন্নত। এরপরও জেলায় গরিবের সংখ্যা বেশি, এ তথ্য  মানতে কষ্ট হয়।
.
জেলার ৮২ শতাংশ পরিবার বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করছে, অথচ টেলিভিশন আছে মাত্র ১৮.২ শতাংশ বাড়িতে, এ তথ্য আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়।
.
জেলায় অবশ্যই গরিব আছে এবং তা সংখ্যায় প্রচুর। সব মহল থেকেই এ তথ্য নিশ্চয়ই স্বীকার করে নেয়া হবে, এতে দ্বিমত নেই। প্রশ্ন কেবল শীর্ষস্থান নিয়ে।
.
কেন মানুষ গরিব। এর অনেকগুলো কারণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে চিন্তা ভাবনার সুযোগ রয়েছে। আবার এ সুযোগের যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। জেলায় বর্তমানে অনেকগুলো মেগা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার সুফল জেলার পরিধি ছাড়িয়ে যাবে, তা নিশ্চিত। জেলার মানুষ গরিব এ শোরগোল তুলে যেন মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ ব্যহত না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি প্রয়োজন।
.
.
.
.
লেখক:  পটুয়াখালীর নাগরিক ও স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জনকণ্ঠ।  ইমেইল: [email protected]
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনা মোকাবিলায় প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার::করোনা মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প ...