গরম থেকে বাঁচতে রোজ শসা খান

বাংলাদেশেসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যেভাবে গরম বাড়ছে, তাতে শরীরকে চাঙ্গা এবং রোগমুক্ত রাখতে শসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের ডায়েটে যদি শসাকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে শরীরের পানির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও নানা উপকার পাওয়া যায়।
হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : নিয়মিত শসা খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে হার্টের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে কোনও ধরনের হার্টের রোগ ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এই কারণেই তো যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের প্রতিদিনের ডায়েটে শসাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।
খনিজের ঘাটতি দূর হয় : খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই ত্বকের পরিচর্যায় শসাকে কাজে লাগিয়ে থাকেন। শসার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম,পটাসিয়াম এবং সিলিকন। এই সবকটি খনিজ শরীরের উন্নতির পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যদি অল্প দিনেই তরতাজা ত্বক পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই কাজে লাগানো শুরু করতে পারেন শসাকে।
গরমের সময় দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে : প্রতিদিন গরম যাচ্ছে বেড়ে। এমন অবস্থায় দেহের তাপামাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শাসা খাওয়াটা জরুরি। কারণ শসা দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে সানস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ত্বক পুড়ে গেলেও শসা লাগাতে পারেন। কারণ পোড়া ভাব কমাতে শসা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
শরীর বিষমুক্ত হয় : শসার শরীরে উপস্থিত বিপুল পরিমাণ পানি দেহে প্রবেশ করে জমে থাকা টক্সিক উপাদনকে ধুয়ে মুছে বার করে দেয়। ফলে শরীরে বিষের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে কোনও ধরনের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।
ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে : অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে সকাল-বিকাল শসা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ শসাতে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরে মজুত অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
জলের ঘাটতি মেটে : দেহে পানির মাত্রা স্বাভাবিক থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তো প্রতিদিন শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে শসার শরীরে এত মাত্রায় পানি আছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ, যে খুব সহজেই জলের ঘাটতি দূর করে ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা কমানো সম্ভব।
ভিটামিনের ঘাটতি মেটে : শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিনের প্রয়োজন পরে। সেই ভিটামিনের যোগান ঠিক রাখতে শাসা খাওয়া মাস্ট! কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি এবং এ থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি এনার্জির ঘাটতি দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় : শসাতে সিলিকা নামক একটি উপদান রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশ করার পর কেষেদের কর্মক্ষমতাকে বাড়িতে তোলে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি তো পায়েই, সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি পেশী, লিগামেন্ট এবং হাড়ের শক্তিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে : ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাস্তবিকই এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শসা খাওয়া মাত্র শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৭১ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে ধূমপান হয়

স্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানীর ৭১ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে ধূমপান করা হয়। আর ...