গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার দাবী প্রতিবন্ধী নারীদের

গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার দাবী প্রতিবন্ধী নারীদের

ঢাকা :: ১৬ মে বিশ্ব প্রবেশগম্যতা সচেতনতা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে প্রতিবন্ধী মানুষ ও প্রতিবন্ধী নারীর স্বাধীন চলাচল ও যাতায়াতের প্রেক্ষাপট জানতে এবং এ বিষয়ে সরকারি বেসরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত হতে গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী নারীর অবস্থান শীর্ষক একটি গণশুনানীর আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় গার্লস অ্যাডভোকেসি এ্যালায়েন্স প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

গণশুনানীতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এর ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) প্রকল্প পরিচালক – ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং (উপসচিব) নাসির উদ্দিন তরফদার, এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) এর অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার এবং  নিরাপদ সড়ক চাই এর দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বি-স্ক্যান এর সমন্বয়কারি ইফতেখার মাহমুদ বি-স্ক্যান এর পরিচিতি এবং বিশ্ব প্রবেশগম্যতা সচেতনতা দিবস পালনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার দাবী প্রতিবন্ধী নারীদের

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারি আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো প্রতিবন্ধী মানুষদের বিষয়ে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। আমরা এর বাস্তবায়ন কবে পাবো তা জানতে চান।

সংরক্ষিত আসনে প্রতিবন্ধী নারীদের অবস্থান চান কর্মজীবি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী সানজিদা আক্তার।

চলন্ত বাসে উঠানামার ক্ষেত্রে বাসে উঠতে না পারায় রিক্সায় অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী রেবেকা মুন্সি সীমা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সগীর হোসাইন সকল বাস হুইলচেয়ার উপযোগি হওয়ার দাবী তোলেন। শুধুমাত্র অল্প কিছু বাস প্রবেশগম্য হলে সেই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘক্ষণ।

পরিবহন শ্রমিকদের অসহযোগিতার কারণে বাসে চড়তে অসুবিধার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী তনিমা।

গণপরিবহনে যৌনসহিংসতা বন্ধ করতে আহ্বান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দীন হলের হল সাংসদ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নাঈম মোল্লা।

সবশেষে সমাপনী বক্তব্যে বি-স্ক্যান এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, ২০১২ সাল থেকে বিআরটিসির সাথে কাজ করে আজও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রবেশগম্য বাসের ব্যবস্থা করতে পারেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ১১.২ এ অরক্ষিত পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারি জনগোষ্ঠী নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে প্রধানত রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত যানবাহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সুলভ এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় সকলের অভিগম্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয় বাস্তবায়নে সরকারের দূর্বল পদক্ষেপ এবং বাস মালিকদের প্রবেশগম্য বাস আমদানিতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনার অভাবকে দায়ী করেন তিনি। চাকুরি এবং শিক্ষার মতো যাতায়াতকে একীভ’ত পরিকল্পনার অধীনে আনতে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের সাধারণ নারীদের জন্য গৃহিত নানামূখি পদক্ষেপে বাদ পড়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধী নারীরা। এই বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঘাসফুলের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

ঘাসফুলের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

স্টাফ রিপোর্টার :: গত ০৫ আগস্ট ‘শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে মাতা-পিতাকে উৎসাহিত ...