ব্রেকিং নিউজ

খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেই

খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেই

রওশন আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: খনিজ সম্পদের সন্ধানে সর্বশেষ গাইবান্ধায় কুপ খনন করা হয়েছে ৩৯ বছর আগে। সেসময় সদর উপজেলার দারিয়াপুরে খনন করা ওই কুপে কিছুই পায়নি বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। এরপর আজ অবধি এ জেলায় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য কোনও কুপ খনন করেনি রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠান। শুধু গাইবান্ধাতেই নয় উত্তরবঙ্গে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জিএসবি, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সুত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ১০ নভেম্বর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জিএসবিকে তেল ও গ্যাস ছাড়া দেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই বছরের ২৬ মার্চ গঠিত বাংলাদেশ খনিজ, তৈল ও গ্যাস করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য।

পরে ১৯৭৪ সালের ২২ আগষ্ট বাংলাদেশ তৈল ও গ্যাস করপোরেশন নামে পুনর্গঠন করে নামকরণ করা হয় পেট্রোবাংলা। ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান পরিদপ্তরকে অবলুপ্ত করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) নামে পেট্রোবাংলার অধীনে একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠন করা হয় ও পরে ২০০০ সালে অনুসন্ধান কার্যক্রমের পাশাপাশি উৎপাদন কোম্পানি হিসেবে পুনর্গঠন করা হয় বাপেক্সকে।

পূর্বে গাইবান্ধা ছিল রংপুর জেলাধীন। পরে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করা হয়। স্বাধীনতার পরে দারিয়াপুরে একবার ছাড়া আর কখনও এ জেলায় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য কুপ খনন করা হয়নি বলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বুলু, সদরের গোবিন্দ লাল দাস, সাদুল্লাপুরের শাহজাহান সোহেল, পলাশবাড়ীর মঞ্জুর কাদির মুকুল, গোবিন্দগঞ্জের গোপাল মোহন্ত, সাঘাটার আসাদ সরকার ও ফুলছড়ি উপজেলার আমিনুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেছে। এ জেলায় এমন কুপ কোথাও খনন করা হয়েছে এমনটি তাদের জানা নেই।

শুধু নব্বইয়ের দশকের দিকে সুন্দরগঞ্জে একবার জরিপ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বুলু। এ ছাড়া অন্য কোন উপজেলায় কোন জরিপ করা হয়েছে বলে জানা নেই এই সাংবাদিকদের। কেননা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য কোথাও কোন সার্ভে বা কুপ খনন করা হলে অন্তত সংশ্লিষ্ট উপজেলার এসব সাংবাদিকরা জানতো বলে তারা জানান।

জেলা শহরের প্রবীণ সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাস বলেন, গাইবান্ধার পাশ্ববর্তী জেলা রংপুর, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে কয়লা ও চুনা পাথর খনি যেহেতু আছে তাহলে আমাদের এ জেলাতেও থাকতে পারে মূল্যবান খনিজ সম্পদ। তাই খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য এ জেলায়ও জরিপ ও কুপ খনন করা প্রয়োজন। কিছু পাওয়া গেলে সেটা দেশেরই উন্নয়নে কাজে লাগবে।

মানুষের বিশ্বাস গাইবান্ধার আশেপাশের জেলাগুলোতে যদি খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় তবে এ জেলাতেও অবশ্যই খনিজ সম্পদ রয়েছে। তাই জিএসবি ও বাপেক্সের কাছে খনিজ সম্পদের সার্ভে ও কুপ খনন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য দাবি করেছে মানুষ।

এ দিকে একটি সুত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ভূপদার্থ বিজ্ঞানের গবেষক ডিওন ওয়েদারলির মতে, ভূমিকম্পের প্রচন্ড তাপ ও চাপের ফলে ভেঙ্গে যায় সেখানকার পানির কণাগুলো। এতে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান খনিজ পদার্থের সৃষ্টি হয়। তখন অন্যান্য খনিজ পদার্থের মতো স্বর্ণের উপাদানগুলো সেখানে বালি ও কাদা মিশ্রিত থাকে। এভাবে স্বর্ণ-রৌপ্যের খনিও সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে গাইবান্ধা জেলার মুল ভূখন্ড নদীর তলদেশে ছিল এবং ১৮৯৮ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে নদী তলদেশের উত্থান ঘটে এবং স্থলভূমিতে পরিণত হয়। এই ভূমিকম্পের ফলে এ জেলার ভূপৃষ্ঠের যথেষ্ট পরিবর্তনও ঘটে। আর বিজ্ঞানীদের গবেষণামতে যদি ভূমিকম্পের ফলে মূল্যবান খনিজ পদার্থের সৃষ্টি হয় তাহলে এ জেলাতেও স্বর্ণের মতো মুল্যবান খনিজ সম্পদ থাকতে পারে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং কঠিন শিলা ও খনিজবিষয়ক গবেষক ড. এস এম মাহবুবুল আমীন চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকে “উত্তরবঙ্গের মাটির নিচে সোনা-রুপা” শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলেন। তাই বলা যায় যে, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে উত্তরবঙ্গে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার সংশ্লিষ্ট রাস্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

বাপেক্সের খনন পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধায় সাইসমিক জরিপ রিপোর্টে পজিটিভ সাইন পাওয়া যায়নি। তাই খননও করা হয়নি। তবে বাপেক্সের একটি সুত্রে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোন জরিপ পরিচালনা করেনি এ প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যাপারে জিএসবির খনন প্রকৌশল বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মহিরুল ইসলাম বলেন, কয়লার সন্ধানে ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে গাইবান্ধার দারিয়াপুরে একবার কুপ খনন করা হয়েছিল। তবে সেখানে কয়লা বা কোন খনিজ সম্পদ না পাওয়ায় কুপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার :: প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই ...