কোহলির জন্য আদর্শ কুম্বলেই, মত হরভজনের

imageuuস্পোর্টস নিউজ; ভারতের নতুন হেড কোচ হিসাবে অনিল কুম্বলের নাম ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই এবার প্রাক্তন লেগস্পিনারের প্রশংসা শোনা গেল সেই হরভজন সিংহের মুখে। কুম্বলেকে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সর্বকালের সেরা ম্যাচ উইনার হিসাবে তুলে ধরে হরভজন জানিয়ে দিলেন, ভারতের কোচ হিসাবেও সফল হবেন তাঁর প্রাক্তন স্পিন পার্টনার।

তাঁদের স্পিন-জুটি বিশ্বের তাবড় ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। ভারতের নতুন হেড কোচ হিসাবে অনিল কুম্বলের নাম ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই এবার প্রাক্তন লেগস্পিনারের প্রশংসা শোনা গেল সেই হরভজন সিংহের মুখে। কুম্বলেকে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সর্বকালের সেরা ম্যাচ উইনার হিসাবে তুলে ধরে হরভজন জানিয়ে দিলেন, ভারতের কোচ হিসাবেও সফল হবেন তাঁর প্রাক্তন স্পিন পার্টনার। বিরাট কোহলির সঙ্গে কুম্বলের রসায়নও জমে যাবে বলেই পূর্বাভাস পঞ্জাবের অফস্পিনারের।
‘‘কারও প্রতি অসম্মান না করেই বলছি, অনিল কুম্বলে টেস্টে ভারতের সর্বকালের সেরা ম্যাচউইনার। ও এই দলের মধ্যেও সেই জয়ের খিদেটা আমদানি করবে,’’ বলেছেন হরভজন। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ওর কাছে বিরাট অনেক কিছু শিখতে পারবে। বিরাট ড্রয়ে বিশ্বাস করে না। অনিল ভাই-ও তাই। বিরাটের আদর্শ বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে ও।’’
প্রায় এক দশক ধরে কুম্বলের সঙ্গে খেলেছেন হরভজন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলে দিচ্ছেন, ‘‘কুম্বলে মানেই অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে দারুণ সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। অনিল ভাইয়ের অধীনে চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে টেস্ট ম্যাচ জিততে শিখে যাবে ভারতীয় দল। ভারতীয় স্পিনারদের সফল হতে হলে পছন্দের বাইশ গজ দরকার, এই ধারণাটাই ভেঙে দেবে অনিল ভাই।’’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিং ডিগ্রির চেয়েও হরভজন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞতাকে। হরভজন বলেছেন, ‘‘কোচের ভূমিকাটা কী? ক্রিকেটের এই পর্যায়ে কোচ শুধু অধিনায়ককে স্ট্র্যাটেজি তৈরিতেই সাহায্য করতে পারে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে অনিল ভাই আমার সঙ্গে ও লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে কথা বলত যেহেতু আমরাই দলের প্রধান বোলার। আমরা ওকে বলতাম আমাদের পরিকল্পনার কথা। তারপর অনিল ভাই নিজস্ব মতামত দিত। এবং সেই মতামত শুনেই আমরা বুঝে যেতাম যে, বেশ হোমওয়ার্ক করেই এসেছে অনিল ভাই।’’
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৪-০৫ সালের টেস্ট সিরিজে ম্যাথু হেডেনকে নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা তৈরির ব্যাপারটা উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেছেন হরভজন। বলেছেন, ‘‘২০০১ সালের টেস্ট সিরিজে হেডেন আমাদের বিরুদ্ধে ৫৪৯ রান করেছিল। এমনকী, অফস্টাম্পের বাইরের বলও সুইপ করে দিচ্ছিল। ২০০৪-০৫ সালে আমরা ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেলেও হেডেন কিন্তু সেবার সব ইনিংস মিলিয়ে আড়াইশোর কম রান করেছিল। অনিল ভাই-ই আমাকে বলে দিয়েছিল হেডেনকে কোথায় বল করতে হবে। আমি ওকে তিনবার আউট করেছিলাম। অনিল ভাই ও মুরলী কার্তিক একবার করে হেডেনের উইকেট পেয়েছিল।’’
কুম্বলে আবার নিজের মতাদর্শ জোর করে দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন। শুক্রবার বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুম্বলে বলেছেন, ‘‘কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া আমার কোচিংয়ের ধরন নয়।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘কোচ হিসাবে আমার কাজ হবে অধিনায়কের কাঁধের বোঝাটা ভাগ করে নেওয়া। ক্রিকেটীয় ও অক্রিকেটীয় বেশ কিছু সিদ্ধান্তে অধিনায়কের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নেওয়াটাই আমার লক্ষ্য।’’ তাঁর কোচিংয়ে জন রাইটের প্রভাব থাকবে বলেও জানিয়েছেন কুম্বলে। ভারতের নতুন হেড কোচ বলেছেন, ‘‘আমি রাইটের অধীনে খেলেছি এবং ওঁর দারুণ প্রভাব আমার ওপর ছিল। আমিও ওঁর মতো করেই এগোতে চাই।’’

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সাকিব আল হাসান

শীর্ষে সাকিব আল হাসান

ডেস্ক নিউজ :: বিশ্বকাপ শুরুর আগে আরেকটা সুখবর পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ...