ব্রেকিং নিউজ

কোটি টাকা নিয়ে উধাও পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রকল্পের নামে ঋণ দেওয়ার কথা বলে চারশতাধিক গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সঞ্চয় ও ঋণদান সংস্থা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তারা স্থানীয় এসব ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋন দেওয়ার প্রলোবন দেখিয়ে লাখ প্রতি ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আদায় করে। এ ভাবে চারশতাধিক গ্রাহক থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা রাতারাতি উধাও হয়ে যায়।

রবিবার দুপুরে পৌর শহরের মেহের খাঁ সড়কের পাশে (আবাস ভবন) ওই ঋণদান সংস্থার কার্যালয়ে ঋণ নিতে এসে গ্রাহকরা কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখে। এমনকি সংস্থার সংশ্লিষ্টদেরকে খোজাখুজি করে না পেয়ে শেষে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। দীর্ঘ অপেক্ষার এক পর্যায়ে কাউকে না পেয়ে গ্রাহকরা প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

সরেজমিনে পৌর শহরের মেহের খাঁ সড়কে পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আবাস নামে একটি ভবনের পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সাইনবোর্ড ঝুলছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনকৃত পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, যার এস.আর.এ সনদ নং- ০০২৯২/ ০০৬৭৯/ ২০০০/১৯৯০, এনজিও বুরো রেজিঃ নং- ১৬৭৮/২০১৪। কিন্তু ভবনটির মেইন গেইটে তালা ঝুলছে। এ সময় শত-শত গ্রাহক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় ও গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ কার্যালয়টি ভাড়া নিয়ে দু’জন পুরষ ও একজন মহিলা ‘পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’র কর্মকর্তা ও মাঠকর্মী পরিচয়ে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতে কেন্দ্র স্থাপন করে উঠান বৈঠক করে।

বৈঠকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উৎপাদনে সঞ্চয়-ঋন দেওয়ার নামে লোভনীয় কথা বলে সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ৫০টি কেন্দ্রের আওতায় ২শ জন গ্রাহক, দত্তপাড়া ইউনিয়নের ২০টি কেন্দ্রের ৫৫জন, বটতলী গ্রামে ৯টি কেন্দ্রের আওতায় ৬৫জন, আনন্দপুর গ্রামের ১০জন, শহীদপুর গ্রামের ২০জন ও রায়পুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার চারশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১০-২০ হাজার টাকা হারে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

এ জন্য গ্রাহকদের সঞ্চয় পাসবইও দেওয়া হয়। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য পৌর শহরের মেহের খাঁ সড়কে (আবাস) একটি ভবন অফিস হিসেবে ভাড়া নেয় প্রতারকচক্র। নিয়মানুযায়ী রবিবার সকালে গ্রহকদের ঋণ দেওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই গ্রাহকদের সঞ্চয়ের ১ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে ভূয়া সঞ্চয় ও ঋর দান সংস্থার লোকজন।

প্রতারণার শিকার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের নুরুল হুদা, সিপন-১, সিপন-২ ও লোকমান জানান, ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেনের কর্মকর্তা রুবেল, কোষাধ্যক্ষ জামাল সিকদার ও মাঠকর্মী একজন মহিলা তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার ১৫০ টাকা হারে জামানত নেন। যা ৫ হাজার টাকা হারে ৫ মাসে ২২ কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী আজ ঋণের টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু টাকা নিতে এসে দেখেন কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। পরে কর্মকর্তা রুবেলের ০১৪০৮১৫১৬৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে অফিস ভাড়ার দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন ভবনটির মালিক মো. ফারুক। জানান, পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন একটি এনজিও সংস্থা দুইদিন আগে অফিসের জন্য ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েছেন। সোমবার তাদের সাথে ভাড়ারচুক্তি হওয়ার কথা। গ্রাহকদের কাছে জানতে পারি তার আগেই তারা উধাও হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বেশি কিছু জানেন না বলে তিনি চলে যান।

এদিকে বটতলী গ্রামের আবদুর রহমান জানান, পল্লী উন্নয়ণ ফাউন্ডেশনের লোকজন বটতলী কোটাবাড়ি এলাকার তিনিসহ ৪টি পরিবারকে ঋন দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন ঋনের টাকা নিতে এসে তাদের খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে আমাদের তালিকাভূক্ত কোন এনজিও বা ঋনদান সংস্থা নেই। তবে গ্রহকরা অভিযোগ করলে এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজসেবার অনুমোদনকৃত কোন সংস্থা ঋণ দিতে পারবে না বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গলাচিপায় মন্দিরের প্রনামীর অর্থে ত্রাণ বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার :: মন্দিরের প্রনামীর যে অর্থ দিয়ে অবকাঠামোর উন্নয়ন কিংবা দেবতার ...