গাইবান্ধায় কোচিং সেন্টার খোলা রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি রওশন আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: ঢালাওভাবে প্রশ্নফাঁসের দোষারোপে কোচিং সেন্টার বন্ধের প্রতিবাদে এবং এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টারগুলোতে এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখার দাবিতে গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোড়ের এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে সদর উপজেলার সহায়ক শিক্ষা পরিবারের পরিচালক, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে তারা বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক লিয়াকত আলী, রবিউল ইসলাম, এহতেশামুল হক, জাহিদ হাসান, শফিকুল ইসলাম, মো. শাহিন, মো. রিগেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকার দেশে সুশিক্ষিত জাতি গঠনে পাবলিক পরীক্ষা পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিসহ সকল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের শনাক্তও করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। যে কারণে গত পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের তালিকায় গাইবান্ধা জেলার কোনো সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জড়িত ছিল না।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলা শহর ও সদর উপজেলার সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব কোচিং সেন্টারগুলোতে কোন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়ে পাঠদান করানো হয় না। এসব সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোচিং সেন্টারগুলোতে ফ্রিল্যান্সার শিক্ষিত বেকার যুবকেরা পাঠদান করে থাকে। যা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার মধ্যেই চলছে।

সারাদেশে পাবলিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত আলাদা বা স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় এক এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে দেশের সকল সরকারি কলেজসহ ২ হাজার ৫৪১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ মাস ৬ দিন ১ম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণির সকল প্রকার পাঠদান বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে একাদশ থেকে অনার্স-মাষ্টার্স পর্যন্ত শ্রেণির ক্লাস বন্ধ থাকবে। এতে করে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ১ মাস ৬ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিং বন্ধ রেখে অন্যান্য শ্রেণির কোচিং চালু রাখা প্রয়োজন।

অপরদিকে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সারাবছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাবলিক পরীক্ষার (এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি ও পিইসি) জন্য ৯০ দিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ছুটি ৭০ থেকে ৮৫ দিন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আরও ২৬ দিন, অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার জন্য আরও অন্তত ৩০ দিনসহ প্রায় ২৩৭ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকে। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৩৭দিন বাদ দিলে মাত্র ১২৮ দিন শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলে। যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের বাৎসরিক সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম কোনভাবেই শেষ করা সম্ভব না। যেসব অভিভাবকের আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে তারা সন্তানদের হোম টিউটর দিয়ে পড়াচ্ছেন। যার পরিমান লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগের বেশি নয়।

অপরদিকে আর্থিক অস্বচ্ছল লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের পক্ষে হোম টিউটর রেখে পাঠগ্রহন করাও সম্ভব না। যে কারণে তারা অল্প টাকায় সকল বিষয়ে পাঠগ্রহণের জন্য কোচিং সেন্টারের সহায়তায় বাৎসরিক সিলেবাস শেষ করতে পারছে। তা না হলে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ১২৮ দিন শ্রেণি পাঠগ্রহন করে ভালো ফলাফল দূরের কথা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে পরতো। তাছাড়া বছরে ২৩৭ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ থাকায় কোন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে তার সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হতো না। তাই ফ্রিল্যান্সার শিক্ষিত বেকার, বেকার যুবকদের কর্মসৃষ্টির পাশাপাশি অল্প টাকায় পাঠদানের জন্য কোচিং সেন্টারগুলো চালু রাখার বিকল্প নাই।

এই অবস্থায় বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সুশিক্ষার বিকল্প নাই। তাই সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টারগুলো এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার কারণে বছরে ৯০ দিন বন্ধ রাখলে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার শিক্ষিত বেকার যুবকরা কর্মহীন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি আর্থিক অস্বচ্ছল লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী হোম টিউটর দিয়ে পড়তে না পেরে এক মাস ছয় দিন অলস সময় পার করবে। তারা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে। যা গোটা জাতির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here