ব্রেকিং নিউজ

কেমন কেটেছে বন্যা কবলিত মানুষের ঈদ

মোঃ আশিক মিয়া

মোঃ আশিক মিয়া :: পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ বাংলাদেশ। ছোট বড় সাতশতাধিক নদ-নদী এই দেশে। পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষপুত্র, তিস্তা এদেশের বৃহত্তর নদী। দেশের বেশিরভাগ নদীর উৎপত্তি ভারতে। নদীগুলো দেশের উত্তর অঞ্চল দিয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে। নদীগুলোর খর স্রোতোর কারনে নদীর দুকূল ভেঙ্গে গেছে। বর্ষা কালে নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে যায় হাজারো গ্রাম। বিশেষ করে দেশের উত্তর অঞ্চলে তিস্তা, ব্রক্ষপুত্রের পানি বেড়ে গেলে গ্রামগুলো দ্বীপে পরিনত হয়। দেশের উত্তর অঞ্চলের বেশিভাগ মানুষ দরিদ্র্য। দারিদ্র্যতার কারনে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তাদের। অধিকাংশ মানুষের ঘর-বাড়ি তলিয়ে যায়। তাদের থাকার মতো জায়গাটাও থাকে না।
.
বিশ্বে যখন মহামারি করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে। ঠিক তখনই বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যায় পরিনত হয়। বন্যা পানিতে মানুষের জীবন হয়ে পরেছে দুর্বিষহ। দিন দিন অতিবৃষ্টির কারণে পানি যেন বেড়েই চলেছে। ভারতে তিস্তা ব্যারেজ এর পানি ছেড়ে দেয়ায় পানির পরিমান আর বেড়ে গেছে। খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে এই মানুষ গুলো। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার কারনে এবং নদীর খর স্রোতের কারনে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কারও বা ভিটামাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এই মানুষগুলোর নেই খাবারের জোগান, নেই মাথা গোঁজার ঠাই টুকুও। আসহায় জীবন পার করছে তারা।
.
দেশে লকডাউনের কারনে সবার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাজ না থাকায় উত্তর অঞ্চলের মানুষ গুলো শহর থেকে গ্রামে ফিরে গিয়েছে। এখন গ্রামে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা খুব কষ্টে আছে। চতুর দিক থেকে তারা খুব আসহায় হয়ে আছে। শুধু মানুষই নয় গ্রামের মানুষের পশু পাখি গুলোও খুব অসহায়। পানির কারনে গবাদিপশুর খাদ্যের জোগান দিতে পারছে না এই মানুষ গুলো।
.
এরমধ্যে মুসলমানদের বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয় ১আগষ্ট। প্রতি ঈদে ছোট বাচ্চাদের নতুন জামা কিনে দিতো বাচ্চার বাবা। কিন্তু যেখানে দুবেলা খাবার জোগানো খুব কষ্টকর সেখানে নতুন জামা কেনাটা শুধু স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। সরকার বিভিন্ন গ্রামে ত্রান সামগ্রী প্রদান করলেও বন্যা কবলিত মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেটা খুব নগন্য। তাছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে ঈদে পশুর দাম কম এবং ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় তাদের অনেক পশু আটকা পড়ে আছে। এসব পশুর খাদ্যের জোগান দিতে পারছে না তারা। যেখানে বন্যা কবলিত মানুষ গুলো খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে তারা পশুর খাদ্যের জোগান দিবে কিভাবে? সত্যি এই বন্যা কবলিত মানুষ গুলো খুব আসহায় হয়ে পরেছে। সত্যি বন্যা যেন এই ঈদ উৎসবটাকে মাটি করে দিয়েছে। ঈদে পশুগুলো বিক্রি না হওয়ায় এবং বিক্রি পশুর দাম কম পাওয়ায় তারা যেন আর দারিদ্র্যে পরিনত হয়ে গেছে। তাদের কাছে ঈদ যেন একটা স্বপ্নই রয়ে গেল।
.
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফার্মেসি ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বাসা গাইবান্ধা। তিস্তা নদী পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের এলাকায় বন্যা পানি বেড়ে যায়। পশু পাখি খুব কষ্টে আছে। তিনি আরও বলেন- তার শখের  কবুতর ছিল বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার তার কবুতর গুলো না খেয়ে মারা যায়। প্রত্যেক বছর তার ঈদ ভালোই কাটে। কিন্তু এবার বন্যা এবং মহামারির কারনে ঈদ ভাল কাটেনি। কিন্তু তিনি এখনও স্বপ্ন দেখেন কমে যাবে বন্যার পানি। সেই সাথে শেষ হবে মহামারি  সামনের ঈদ গুলো কাটাবে উৎসব মুখরিত হয়ে। আমাদেরও আশা দ্রুত কমে যাক বন্যার পানি। আসহায় মানুষগুলো মুক্তি পাক এই বন্যা থেকে।
.
.
.
.
লেখক -শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সমাজের আয়নায় সম্পর্কের রঙ

মেহেরুন নেছা রুমা :: একমাত্র বিয়ে নামক সম্পর্কেই কঠিন স্বার্থ জড়িত, যা অন্য ...