কৃষকের ক্ষেত থেকে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ !

মির্জাপুরে কৃষকের ক্ষেত থেকে এক্সাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ!

জুনাইদ আল হাবিব :: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষেত থেকে মাটি নিয়ে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া-নয়াপাড়া পর্যন্ত ১২’শ ২০ মিটার নির্মাণাধীন রাস্তায় এমন অনিয়মের তীর যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এলজিইডির নির্মাণাধীন এ প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ২ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৯ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু মানুষের যোগসাজশে নিরীহ কৃষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক তাদের কৃষিজমি হতে আর্থ এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার। এলাকার কিছু মানুষ গরীব কৃষকদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হচ্ছেও বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

এতে নিরীহ কৃষকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান তারা। ভাওড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি প্রকৌশলী মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, যে মাটি ঠিকাদার নিজের দেয়ার কথা, সে মাটি কৃষকদের ক্ষেত থেকে কাটা অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়। এমন অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণের কারণে বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। এমন খবর পেয়ে আমি কিছু কৃষক নিয়ে ৮জুনে প্রতিবাদ করে ভেকুর চাবি নিয়ে আসি।

মির্জাপুরে কৃষকের ক্ষেত থেকে এক্সাভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ!

পরেরদিন ৯জুন সকালে আমাদের ভাওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে আমাকে ভেকুর চাবি ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিয়ে আসতে বলে এবং তার কখামতো আমি তাই করি। কিন্তু আমি চাবি জমা দেয়ার কিছুক্ষন পরেই চেয়ারম্যান গোপনে সেই চাবি আবার ভেকুর ড্রাইভারকে দিয়ে দেয়।

৯জুন থেকে পুনরায় অবৈধভাবে মাটি কাটা শুরু করে এবং ১২জুন পর্যন্ত কাজ চলে। কিন্তু পরবর্তীতে ১২জুন তারিখে এসিল্যান্ড পুনরায় অবৈধ কাজ বন্ধ করে দেয়। আমরা এলাকার মানুষ দ্রুতই সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বিষয়টি নিয়ে বলতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শাহিন আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোন সংযোগ মিলেনি।

আর প্রকল্পটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, শহরের রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এক রকম আর গ্রামের রাস্তার জন্য এক রকম। তাই ঠিকাদার রাস্তা নির্মাণে এমন করেছেন।

এ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে ভাওড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি প্রকৌশলী মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যে কথা। এমন কোন নিয়ম নেই। মোট কথা এলাকার কিছু প্রভাবশালী আছে, যারা ভাগ-বাটোয়ারা করে প্রকল্পের অর্থ লুট করে কৃষকদের বুকে লাথি মারছেন।

এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, বিষয় আমার মাথায় আছে। আমি এসিল্যান্ডকে বলেছি। দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লিবিয়ায় বিমান হামলায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ :: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি বিস্কুট কারখানায় বিমান হামলায় সোমবার ...