ডেস্ক রিপোর্ট:: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪টি
ডেস্ক রিপোর্ট:: সংসদীয় আসন থেকে ৪১ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কেন্দ্রের নীতি-নির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাবেক বর্তমান একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক-বর্তমান সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও সাবেক আমলা রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে ১৭ জন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে ৬ জন, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসন থেকে ৬ জন এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন থেকে ১২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বহুভাগে বিভক্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর থেকে দলের মধ্যে বিভাজন বাড়তে থাকে। এই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৭ জন।

তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ রেজাউল হক চৌধুরী, তার ভাই বুলবুল আহমেদ চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলার ডাংমড়কা গ্রামের প্রয়াত সাংবাদিক নাহারুল ইসলাম মন্টুর বড় ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আফাজ উদ্দিন আহমেদের ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুন বিশ্বাস, ছোট ছেলে আরিফ আহমেদ বিশ্বাস, বড় ছেলে নাজমুল হুদা পটল বিশ্বাস, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন রিমন, কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেওয়ান মাসুদ করিম মিঠু, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান রাকিব, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসানুল আসকার হাসু, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী খান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিক আল মামুন, আবদুল জলিল ও আহসান হাবিব।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেতে চান ৬ জন। এই আসনে টানা তিনবার মহাজোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা আসনটি জাসদকে ছেড়ে দিতে নারাজ। তারা আওয়ামী লীগের কাউকে নৌকা প্রতীক দিতে কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন – রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইফতেখার মাহমুদ, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাহার আলী, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শরিফুজ্জামান নবাব, সৈয়দ কামরুল আরিফিন ও রশিদুল আলম।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে চান ৬ জন। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. এ এফ এম আমিনুল হক রতন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনজুমান লাইলা বানু, ইউকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহাতাবুল হক জয় ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় মন্ত্রিসভায় আমীর-উল ইসলাম খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রথম জাতীয় সংসদে তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন পেতে চান ১২ জন। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের মেয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রউফ, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা তরুণ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর, সুনীল কুমার চক্রবর্তী, সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর, শাহিনুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী ও মিজানুর রহমান।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দীন খান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষ্যে অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here