ঝোড়োগতিতে দেশের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে তালেবানের এভাবে পৌঁছে যাওয়াটা অনেকের কাছেই এখন বিস্ময়ের নয়। কেননা গত মে মাস থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রসজ্জিত আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। ধাপে ধাপে দেশটির উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিয়েছে তারা।

এসব অঞ্চল তালেবানবিরোধী এবং সরকার ও তার প্রতি অনুগত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শুধু গত কয়েক দিনেই দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত এবং কান্দাহারসহ ৩৪ প্রদেশের ১৮টি দখল করে নিয়েছে তালেবান।

সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কাবুলে সাঁড়াশি আক্রমণ পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল তালেবান উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর মাজার–ই–শরিফ লক্ষ্য করে বহুমুখী হামলা চালায়। পাশাপাশি দেশজুড়ে আরও প্রদেশ ও শহর দখলে অভিযান অব্যাহত রাখে তারা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার তোড়জোড় এবং অন্যদিকে সরকারি সেনাদের ওপর তালেবানের চড়াও হওয়া—এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে কাবুলের পতন ঘটতে পারে বা দেশটি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধে পতিত হতে পারে।

গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস গত শুক্রবার বলেছেন, আফগানিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত ও গৃহযুদ্ধে পতিত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। দেশটিতে আল–কায়েদার মতো গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে এবং তারা আবার পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এএফপি বলেছে, তালেবানকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গত ২০ বছরে আফগান সেনাদের শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য যুদ্ধসরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। দিয়েছে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ। কিন্তু এর কিছুই এখন কাজে লাগছে না।

সেনাদের অসহায় আত্মসমর্পণে এসব অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ তালেবান যোদ্ধাদের কবজায় চলে যাচ্ছে। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে তালেবানের সাফল্য বেগবান করছে।

এদিকে তালেবানের সঙ্গে লড়াই করার সামান্য আগ্রহও আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেখাতে পারছে না। যেটা পারছে তা হলো, তালেবানের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তালেবান যোদ্ধাদের অস্ত্রভর্তি বাক্স জব্দ করতে দেখা যাচ্ছে; যার বেশির ভাগ পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here