ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক ::

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের মিডল টাউনে উদাযাপন হয়েছে বাংলা নববর্ষ। স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মিডল টাউনের বাংলাদেশি মালিকানাধীন তন্দুর রেস্তোরাঁয় বাংলা নববর্ষ পালনের আয়োজন করেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা। মিডে টাউনের সুপরিচিত মুখ বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মোস্তাক মাহমুদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন।

সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত নববর্ষ পালনের এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশাজীবি বাংলাদেশি পরিবার পরিজনসহ শিশু কিশোরদের কলতানে, পান্তা ইলিশ আর বাংলা গানের অসাধারণ আয়োজনে একটি অত্যন্ত সুন্দর সন্ধ্যার আয়োজন করেন তন্দুর রেস্তোরাঁ।

অনুষ্ঠানে খিচুড়ি, ইলিশ, চিকেন কারী, বিফ ভুনা, পান্তা ভাত, শুঁটকির দোপেঁয়াজা, বেগুন ভর্তা, আলু ভর্তা, টোম্যাটো ভর্তা, রসগোল্লা, চা, তেঁতুল ও আমের ফ্রেশ পানীয়, পান সুপারিসহ পহেলা বৈশাখের বাংলাদেশি সমস্ত খাবারের  পাশাপাশি মেন্যু থেকে যে কোনো খাবার অর্ডার দেবার ব্যবস্থা ছিল। বাংলাদেশি অতিথিদের আনন্দ প্রদানের জন্য সংগীত শিল্পীদের দ্বারা গানের ব্যবস্থা ও বিনোদনে ব্যবস্থা করা হয়।

কানেকটিকাটের বাংলাদেশি আমেরিকান সিপিএ শ্রাবনী তার পুত্র কৃষকে নিয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তন্দুর রেস্তোরাঁয় তিনি বহু দিন ধরে আসা যাওয়া করেন।সম্প্রতি বাংলাদেশি মালিকানাধীনে নতুন করে রেস্তোরাঁটির যাত্রা শুরু হয়। এ রেস্তোরাঁয় সব খাবার সম্পূর্ণ হালাল। ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন রেস্তোরাঁর মালিক কর্তৃপক্ষ। নিজেরা উপস্থিত থেকে সবসময় খুব সুন্দর ভাবে তারা সব কিছু পরিচালনা করেন।
মোস্তাক মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত। তাদের দুই সন্তানের এ দেশেই জন্ম। কিন্তু তাদের ব্যবহার এবং পরিবেশন শতভাগ বাঙালি। কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। এই প্রসঙ্গে মোস্তাক মাহমুদের স্ত্রী বলেন, বহু দিন ধরে তারা মিডল টাউনের বাসিন্দা কিন্তু বাংলাদেশি হালাল খাবার পেতে খুব কষ্ট হতো। তাই কম্যুনিটির চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারা এই রেস্তোরাঁটি খোলার উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে এ রেস্তোরাঁয় ইফতারির আয়োজন করা হয়। এখানে বুট পিয়াজুর পাশাপাশি তেহারি জিলাপির ব্যবস্থা ছিল। বিভিন্ন মসজিদে ও কমিউনিটির অনুষ্ঠানে সুলভে ক্যাটারিং করা হয় তন্দুর রেস্তোরাঁ থেকে। তাছাড়া বাংলা নববর্ষ, ভ্যালেন্টাইন ডে, স্বাধীনতা দিবস কিংবা নিউ ইয়ার এরকম সব কটি বিশেষ দিনে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বহু আইটেমসহ বিশেষ বাফের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই মূলধারার কাস্টমারদের জন্যে রেস্তোরাঁয় এ সমস্ত ব্যবস্থা থাকে  তবে বাংলাদেশি কম্যুনিটির জন্যে থাকে বিশেষ চমক এবারের পহেলা বৈশাখের দিন তাই বাংলাদেশি কম্যুনিটির জন্যে হৃদয়গ্রাহী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তন্দুর রেস্তোরাঁয়।

সিপিএ শ্রাবনী জানান কম্যুনিটির অনেকেই যখন হিংসা দ্বিধা বিভক্তিতে কিংবা নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধারে মগ্ন, তখন মিডল টাউনের তন্দুর রেস্তোরাঁয় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে উদাহরণ সৃষ্টি করেন তিনি।

তিনি বলেন ছোটবেলা থেকেই রান্না করতে পছন্দ করেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মার্কেট থেকে গ্রোসারি সামগ্রী আনা হতো তাদের চট্টগ্রামের বাসায় পহেলা বৈশাখের দিনে তাছাড়া মিষ্টি থেকে স্পেশাল অর্ডারে শত শত মিষ্টির প্যাকেট আনা হতো। সেগুলো তার মা-বাবার আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী পাড়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম কলেজ এর প্রিন্সিপাল কিংবা মেয়র মহিঊদ্দিন আংকেলের বাড়িতে তাদের কর্মচারীরা দিয়ে আসতেন। তার মায়ের অনেক কলিগ ছিলেন বিহারি। তিনি মোগলাই রান্না থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ বেকিং সবকিছুতে পারদর্শী ছিলেন। তাই রান্না করার প্রতি ছোট বেলা থেকেই আগ্রহ। কিন্তু ক্যারিয়ার এর ব্যস্ততায় আমেরিকায় রান্না করার সুযোগ হয়ে ওঠেনা তার। তাই হরেক রকমের রেস্তোরাঁয় ছেলেকে নিয়ে ডাইনিং আউট করে থাকেন তিনি।

ট্যাক্স সিজনে কানেকটিকাটের বাংলাদেশি খাবা্রের ক্রেভিং হলে এখন আর নিউ ইয়র্ক যেতে হয়না। মিডল টাউনে তার অতি প্রিয় মেইন স্ট্রিটে এখন বাংলাদেশি খাবার পাওয়া যায়। ছেলেকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চান শ্রাবনী।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here