ব্রেকিং নিউজ

কাজী নজরুল ইসলামের উপর চারটি বই প্রকাশ করেছি: ফারুক আহমেদ

ফারুক আহমেদ

কলকাতা প্রতিনিধি :: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে অনলাইনে মুক্ত আসরের নিয়মিত আয়োজন ‘আমিই নজরুল’।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৬২ তম পর্বের বিষয় কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণায় উদার আকাশ প্রকাশন ও উদার আকাশ পত্রিকা। এই বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করলেন ভারতের উদার আকাশ এবং শিক্ষা ও সমাজ পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজ-চিন্তাবিদ ও সংগঠক ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমিই নজরুল কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ। এই উদ্যোগের একজন অতিথি হিসেবে থাকতে পেরে অনেক আনন্দিত। কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণায় উদার আকাশ প্রকাশনের কাজ নিয়ে আলোচনা মূলত। কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর উপর চারটি বই প্রকাশ করেছি আমাদের প্রকাশন থেকে। ড. সা’ আদুল ইসলামের নজরুল–”সাহিত্যে দেশকাল”, শেখ মকবুল ইসলামের “নজরুল নানা মাত্রা”, আবুল হোসেন বিশ্বাসের “সেকুলার ভিসন অব কাজী নজরুল ইসলাম,” ও নুরুল আমিন বিশ্বাসের লেখা “নজরুল সাহিত্যের দিগবলয়”— গবেষণামূলক চারটি বই নিয়ে আলোচনা প্রয়াস। নিঃসন্দেহে কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমিকদের ভালো লাগলো মুক্ত আলোচনা।’

মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ও গবেষক বাংলাদেশের আবু সাঈদ বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে মুক্ত আসরের আয়োজন চলবে বছরব্যাপী। এই আয়োজনের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম গবেষক, শিল্পী, অনুরাগীদের চিন্তা চেতনা তরুণসমাজের কাছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিশাল কর্মযোগ তুলে ধরা। নজরুল শুধু মাত্র বাংলা সাহিত্যের একজন কবি, লেখক, অনুবাদক, সংগীতজ্ঞ নন, তিনি বিশ্বের একজন শক্তিশালী কবি। এই মহামানবকে আমরা সারাবিশ্বের তুলে ধরতে চাই। সবার সহযোগীতায় “আমিই নজরুল”-এর মাধ্যমে আমরা আরও নানা রকমের উদ্যোগ নিতে চাই। আমাদের সঙ্গে যাঁরা যাঁরা যুক্ত হয়েছেন তাঁদের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’

অনুষ্ঠানটির সঞ্চলনা করেন অধ্যাপিকা চৈতী চক্রবর্তী। বছরব্যাপী নিয়মিত এ আয়োজনটি রাত নয়টায় শুরু হয়ে চলে এক ঘণ্টা। দেখা যাবে ‘আমিই নজরুল’ ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে এবং মুক্ত আসরের ফেসবুক পেজে। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশিদের খ্যাতিমান গবেষক, শিক্ষক, শিল্পী, তরুণেরা নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

ইতিপূর্বে অংশ নিয়েছেন খিলখিল কাজী, অনিন্দিতা কাজী, শাহীন সামাদ, সেলিম জাহান, শামীম আজাদ, মনতোষ কুমার দে, কাজেম কাহদুয়ি, ইন্দিরা দাশ, মল্লিকা ব্যানার্জি, মোহিত কামাল, লায়লা আফরোজ, বনা রানী হায়দার, খায়রুল আনাম, অভীক চ্যাটার্জি, আজম খান, বিষ্ণুমুরারি চট্টোপাধ্যায়, মিত্রা ঘোষ, রত্না দাস, মুমিত আল রশিদ, মোহাম্মদ আহসানুল হাদী, শিরির কুমার রায়, শাশ্বতী নন্দ, দেবু ভট্টাচার্য্য, গুলজার হোসেন উজ্জ্বল, মেহেদী হাসান, সোমঋতা মল্লিক, নুরুন আখতার, সাববিনা আহমেদ জুডি, আল জাবির, তরুণ চক্রবর্তী, তৈমুর খান, মো. রিজাউল ইসলাম, মনিরা পারভীন, শান্তা তাওহিদা, এলিজা বিন এলাহী, লিপি হালদার, সংগীতা আচার্য্য, সাইফুল্লাহ সাদেক, সৈকত বালা, বিপ্লব সরকার, রিকি হায়দার আশা, জিৎ দেব, মোহাম্মাদ এরশাদ আলী, সোলায়মান কবীর, নাজিয়া তাসনিম দীপ্তি, নবারুন ভট্টাচার্য, আশিক রেজা, মীম মিজান, সর্বানি মিশ্র, কমলিকা চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য, শৈবাল চৌধুরী, ত্রিপর্ণা চৌধুরী,সুরাইয়া শাকিলা শুক্লা, রাশেদা নাসরীন, জগলুল আসাদ, বৃন্দা রায়চৌধুরী, কস্তুরী সাহা, নাফিজা রহমান, সম্পা দাস, চৈতি চক্রবর্তী, সাইদুল হাসান, সুদীপ্ত শেখর দে, শারমিন আক্তার শাকিলা, সাদিয়া রশ্নি সূচনা, ইওরমা শায়ের জাহান, আদৃতা প্রিয়দর্শিনী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ফারুক আহমেদ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ভাঙড় অঞ্চলের নাটাপুকুর গ্রামে ১৯৮৩ সালের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ডা: মো: আবেদ আলি ও মা ফজিলা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রথমে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে, পরে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ. পাস করেন।

বর্তমানে তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে এবং কর্মরত আছেন। শিল্প–সাহিত্যবিষয়ক ‘উদার আকাশ’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকাটি ২০১৯-সালে পশ্চিমবঙ্গ ছোট পত্রিকা সমন্বয় সমিতির বিচারে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। কবি, ছড়াকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ফারুক আহমেদের সম্পাদিত কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : কাব্যগ্রন্থ “মূল্যবান তারার খোঁজে” এবং “বিশ্বপ্রেম” সম্পাদনা গ্রন্থ ‘রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু’, ‘কংগ্রেস ও বাম-শাসনে মুসলিম ভোট-ব্যাঙ্ক’, ‘আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ’, ‘পশ্চিমে সূর্যোদয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের উলটপূরাণ’, ‘প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন’, ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’ প্রভৃতি ।

লেখালেখি, সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি সামাজিক নানা কাজে ও আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত আছেন। পেয়েছেন অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার। ২০১৭ সালে নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য সংসদ “চর্যাপদ” পুরস্কার, অল ইন্ডিয়া ইমাম-মুয়াজ্জিন অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (মুর্শিদাবাদ জেলা) ২০১৬-তে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সম্মাননা, ২০১৭-সালে ‘কথামালা ভারত-বাংলাদেশ-মৈত্রী’ সম্মাননা ও ২০২০ সালে নজরুলরত্ন পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর প্রকাশনায় দুই বাংলার লেখকদের ৭৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আব্দুস সাত্তার এর গুচ্ছকবিতা

সঠিক লগ্ন অপেক্ষায় জন্মের পর থেকেই অদৃশ্য পরোয়ানা নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ছায়ার মতো ...