কলেজ ছাত্রী রত্না হত্যা মামলা এখন ডিবিতে

কলেজ ছাত্রী রত্না হত্যা মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধি :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কলেজ ছাত্রী রত্না হত্যা মামলাটি এখন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। ঘটনার মাত্র ১৩ দিন পর বৃহস্পতিবার সরাইল থানা থেকে আলোচিত ওই মামলাটি ডিবি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুপুরে সরজমিনে ঘটনাস্থল সরাইলের ইসলামাবাদ (গোগদ) গ্রাম পরিদর্শন করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মঈনুর রহমান। তিনি বাদী সহ বেশ কয়েকজন লোকের সাথে একান্তে কথাও বলেছেন।

মামলাটি দ্রুত ডিবি পুলিশের কাছে চলে যাওয়ায় স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বাদী সহ নিহত রত্নার স্বজনরা।

রত্নার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানায়, বসত বাড়িতে ডাকাতের হামলায় নির্মম ও নৃশংষ ভাবে খুন হয় ইসলামপুর কাজী শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী রত্না বেগম। আর ডাকাতের পিটুনিতে গুরুতর আহত হয় রত্নার বাবা উসমান ও চাচাত ভাই ইয়াছিন।

এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো ইসলামাবাদ গ্রামে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে রত্নার পিতা মাতা। সুযোগে বাণিজ্যের নেশায় মাতোয়ারা হয়ে উঠে ২-১ জন পুলিশ কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনের চেয়ে টাকা কামাইয়ের দিকে হয়ে পড়েন অধিক মনোযোগী।

রত্নার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর ইনফরমেশনে অভিযান চালিয়ে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে চারজনকে আটক করে এস আই আবদুল আলীম। ওইদিন রাতে আটক করেন আরো তিন ব্যক্তিকে।

রত্নাকে দাফনের আগেই ২-১ জন পুলিশ অফিসার আটককৃতদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ছেড়ে মোটা অংকের টাকা কামাইয়ের ফন্দি ফিকির শুরু করেন। থানায় বসে শুরু করেন রফাদফা ও পরিকল্পনা। দাফনের পরের দিন রোববার ১৬ নভেম্বর সকালে রত্নার বাবা গুরুতর আহত উসমানকে মিথ্যা কথা বলে চিকিৎসকের নিষেধ সত্বেও হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

থানায় পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রেখে জোর করে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় সাদা কাগজে স্বাক্ষর। নিজেদের মত করে লিখে নেন মামলা। ঘটনাটি নিয়ে যিনি এলাকা চষে বেড়ালেন।

সাত ব্যক্তিকে আটক করলেন তাকে রহস্যজনক কারনে করা হয়নি মামলার আইও। এমনকি তার অজান্তেই ছেড়ে দেওয়া হল চার ব্যক্তিকে। এসব কারনে থানা পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে রত্নার পরিবার। ঘটনার দুইদিন পর পুলিশ সুপার গিয়েছিলেন রত্নাদের বাড়িতে। মামলার সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। তারা এসব বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে নালিশও করেছেন। আই ও পরিবর্তন করার জন্য লিখিত আবেদনও নিয়ে গিয়েছিলেন।

অবশেষে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রত্না হত্যা মামলাটির তদন্তভার পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ইতিমধ্যে তারা তদন্তও শুরু করেছেন। হাফ ছেড়ে স্বস্থি প্রকাশ করেছেন রত্নার বাবা মা ও স্বজনরা।

প্রসঙ্গত: গত ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাতে বসত বাড়িতে ডাকাতিকালে ডাকাতের হামলায় খুন হয় কলেজ ছাত্রী রত্না বেগম। এ ঘটনায় তারেক, মেহেদী ও বাবলু নামের তিন ডাকাত বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে রত্না হত্যা মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মঈনুর রহমান বলেন, কলেজ ছাত্রী রত্না হত্যা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব আমাদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। কাজ শুরু করেছি। দ্রুতই ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা

শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ...