কামরুল হাসান,কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি ::
কলারোয়ার আধ্যাত্মিক ফকির কন্যা আসমা হলেন বিসিএস ক্যাডার।টানাটানির সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। পরিবারের অন্ন জোটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন বাবা-মা। সেখানে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দেওয়া মানে তাদের পরিবারের এক অন্যরকম ঝামেলা। তবে দমে যাওয়ার মেয়ে নয় আসমা আক্তার মিতা। অভাবের মাঝেও খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। টিউশনের টাকায় বই কিনে দিনে পড়ালেখা করেছেন ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।
শুধু অর্থ আর আভিজাত্য মানুষকে সব কিছু পাইয়ে দেয় না। এজন্য প্রয়োজন প্রবল ইচ্ছাশক্তির। এমনই ইচ্ছাশক্তির অধিকারী এক মারফতি ফকিরের মেয়ে আসমা আক্তার মিতা হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার।
কলারোয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কিসমত ইলিশপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তার মিতা। আসমার বাবা মোতাহার হোসেন মন্ডল একজন আধ্যাত্মিক সাধক মারফতি ফকির। তিনি শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত ফকির মেলায় গান করে থাকেন। বাবার অভাবের সংসারের মাঝেও নিজেকে মেলে ধরেছেন আসমা আক্তার মিতা। শুধু তাই নয়, ছোট্ট কিসমত ইলিশপুর গ্রামকে আলোকিত করেছেন মিতা।
গত ৩০ মার্চ দুপুরে ৪০তম বিসিএসের চুড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৫, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, কৃষিতে ২৫০, শুল্ক ও আবগারিতে ৭২, সহকারী সার্জন ১১২ ও পশুসম্পদে ১২৭ জনসহ মোট ১ হাজার ৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়েছে। মিতা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আসমা আক্তার মিতা জানান, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে এই সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি যেন কর্মজীবনে নিজেকে সততার সঙ্গে উৎসর্গ করে দেশ ও জনগনের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন তার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে আসমা খাতুন ছোট। একমাত্র ভাই ফয়সাল হোসেন রিকো দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও এসএসসি পরীক্ষা দেননি। বর্তমানে সামান্য বেতনে বাস মালিক সমিতির স্টাটারের কাজ করে। সে সবার বড়। বড় বোন রেশমা আক্তার লতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে সে চাকরি খুঁজছে।
ছোটবেলায় বাবার কাছে বর্ণমালার হাতেখড়ি হয়েছে আসমার। আসমা কলারোয়ার কে.কে.ই.পি সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষা দেন। এরপর কাজিরহাট ড্রিগ্রি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচ.এস.সি পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জীবন এখানে এসে ডানা মেলে ধরতে শুরু করে তার। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাতক্ষীরার অজপাড়াগাঁয়ের সেই মেয়টি এখন বিসিএস ক্যাডার।
আসমার বাবা সুফিবাদ তরিকার সাধক দরবেশ মুহা. মোতাহার হোসেন জানান, কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে আজ আল্লাহর রহমত ও সবার দোয়ায় এই সফলতা পেয়েছি। তাদের মেয়ে যেন আরও বড় হয়ে এলাকায় মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। সেইসঙ্গে দেশ ও জনগনের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
কলারোয়ায় সদ্য যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস জানান, কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর গ্রামের মেধাবী ছাত্রী আসমা আক্তার ৪০তম বিসিএস এডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার প্রতি রইলো উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here