ডেস্ক রিপোর্ট : : ফুসফুসে জটিলতা, শরীরের টিস্যুতে প্রদাহ, চোখের সমস্যা ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়াসহ নানা জটিল লক্ষণ বাড়ছে পোস্ট কোভিড রোগীদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের মধ্যেই এসব জটিলতা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের শঙ্কা, শুরুতেই চিকিৎসা না নিলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন জটিলতায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। যাদের বেশির ভাগের ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রিতে কারণ থাকবে-কোভিড-১৯।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা যত বড়ই হোক পোস্ট কোভিডের ইউনিট প্রায় শূন্য। যারা এসেছেন তারাও আসছেন জটিল অবস্থায়।

চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুস সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর সুইচ বা সঞ্চালক। কিন্তু কোভিড রোগীদের শ্বাসনালি দিয়ে দীর্ঘ সময় অক্সিজেন গ্রহণে প্রথমেই বড় ধরনের ক্ষতিও হয় এ অর্গানটিতে। এ ছাড়া চোখের টিস্যু শুকিয়ে যাওয়া, মস্তিস্কের ভারসাম্যহীনতা, শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারানো, শরীরের মাংসপেশিতে প্রদাহ এবং সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের ক্ষতি হয় অক্সিজেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে। যার ফলে শরীরে পানি চলে আসা ছাড়াও দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারানোসহ নানা “অর্গান ফেইলিউর”এর মূল কারণ। পোস্ট কোভিড পর্যায়ে অক্সিজেন গ্রহণকারীদের মধ্যেই এসব জটিলতা নিয়ে বেশি রোগী আসছেন হাসপাতালে বলছেন চিকিৎসকরা।

বিএসএমএমইউয়ের মেডিসিন বিভাগের ডা. এসএম মাহবুবুবর রহমান বলেন, যাদের ফুসফুসে আক্রান্তটা বেশি ছিল, তারা অক্সিজেন পেয়েছেন এবং সেরে উঠেছেন পরবর্তীতে তাদের আবার দেখতে হবে ফুসফুসে তাদের সংক্রমণটা কমে আসছে কিনা। কারণ এটা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসে সমস্যা হয়ে থেকে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু বেশি মাত্রায় অক্সিজেন গ্রহণেই নয় অপ্রতুল মাত্রায় অক্সিজেন গ্রহণকারীদের নিয়ে শঙ্কা আরো বেশি।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল রউফ বলেন, এ ধরনের রোগীদের কিডনি- হার্ট থেমে যেতে পারে, চোখে দেখাতে সমস্যা হতে পারে, লিভার ফেল করতে পারে। মূলত ওইসব মানুষ তাদের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া পোস্ট কোভিডের যে কোনো লক্ষণে ঘরোয়া চিকিৎসা না করার ওপর জোর দেন তারা।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here