ব্রেকিং নিউজ

করোনা সংকট মোকাবেলায় আমাদের করনীয় ?

মোঃ শাহীন :: সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। এটি অতিক্ষুদ্র একটি জীবাণু যা মাইক্রোস্কোপের সাহায্য ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না। বর্তমান বিশ্বে এটি সবচেয়ে বড় দুঃচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা পৃথিবী ব্যাপী মানুষকে নাকানিচুবানি খাইয়েছে। বিশ্বের সব বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা এর প্রতিষেধক বেড় করতে হিমসিম খাচ্ছে। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।  যে কোন ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে,  প্রথমে সে ভাইরাস সম্পর্কে জানতে হবে। ভাইরাসটি কিভাবে ছড়ায়, সে সম্পর্কে জানতে হবে । করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে যে রোগটি হয়। তার নাম কোবিড-১৯।
করোনা ভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন ভাষার করোনা থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো “মুকুট”।কারণ দ্বিমাত্রিক সঞ্চালন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি আবরণ থেকে গদা-আকৃতির প্রোটিনের কাটাগুলির কারণে এটিকে অনেকটা মুকুট এর মতো দেখায়।করোনা ভাইরাস ১৯৬০ এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমে এটি মুরগীতে সংক্রমিত হয়।পরে সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত রোগীতে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়।
মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি, “মনুষ্য করোনা ভাইরাস ২২৯ই ” মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩ নামে নামকরণ করা হয়। তবে এর পর বিভিন্ন সময় এ ভাইরাসের আরও বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে চীন এসএআরএস-সিওভি-২ পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রমণ দেখা দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে প্রাথমিকভাবে ২০১৯-এনসিওভি নাম করণ করে। বর্তমানে ১৯০ টিরও অধিক দেশ ও  অধীনস্থ অঞ্চলে ৫,৩২,১০০ এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। কোবিড-১৯ এ বাংলাদেশে আজ ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের ও মোট আক্রান্ত ১৬৪, আইডিসিআর এর মতে।
এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ । করোনা ভাইরাস যেহেতু ছোঁয়াচে। এটি বায়ু, স্পর্শ, হাঁচি, কাশি থেকে ছড়ায়। তাই এটি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আক্রান্ত রোগীর সাথে মেলামেশা করা যাবে না। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলতে হবে। মাক্স ব্যবহার করতে হবে। জ্বর,  সর্দি,  কাশি হলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। খাবার পর সাবান দিয়ে হাত ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
খাওয়ার আগে কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। বাহিরের খাবার খাওয়া যাবে না। বাসায় রান্না করা খাবার খেতে হবে। রান্না ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খাবার পরিবেষণের আগে থালা-বাসন ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। বাজার থেকে কেনা শাক সবজি রান্নার পূর্বে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। শাক সবজি ও মাংস ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হবে। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। বিনা কারণে বার বার চোখে,  মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে আলাদা ঘরে রাখার ব্যবস্তা করতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।  জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অযথা ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে যাওয়ার দরকার নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ভিটামিন -সি যুক্ত খাবার খেতে হবে। এই সময়ে লাল মাংশ এড়িয়ে চলাই ভালো। ফলমূল ও শাক সবজি বেশি খেতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সচেতনতাই পারে যে কোন ধরনের বড় বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষ অন্যান্য অঞ্চলে না যাওয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের লোকজন আক্রান্ত অঞ্চলে না যাওয়া। এ বিষয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেন- কোন মহামারীতে আক্রান্ত অঞ্চলের লোকজন অন্য অঞ্চলে যাবে না এবং অন্যান্য অঞ্চলের লোকজনও আক্রান্ত অঞ্চলে যাবে না। তিনি আরও বলেন- তোমরা অসুস্থ উটকে, সুস্থ উট থেকে আলাদা করে রাখবে।
আসুন আমরা সবাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্ধেশনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কোনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করি।
লেখক, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধি। 
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঈদ শেষে উদ্যোক্তাদের ভাবনা 

স্টাফ রিপোর্টার :: উদ্যোক্তাদের জীবনে টিকে থাকতে হলে অবস্থান ধরে রাখার জন্য ...