ব্রেকিং নিউজ

করোনা ও ধান্দাবাজ

কৃষ্ট মোহন সিংহ :: গতরাতে আমি স্বপ্নে আমেরিকা চলে গেলাম। আমার ধান্দা ছিল করোনায় কিছু সাপা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু একটা ওফার দিবে। সব ফ্রি ফ্রি, বিমান ভারা, পাসপোর্ট, ভিসা কোনটাই লাগবে না। আগে আসলে আগে যাবে এমনটা। আমি সে সুযোগটা পেয়ে গেলাম।  চলে গেলাম স্বপ্নের আমেরিকা। ইন্টারনেট, টিভিতে দেখা  সমুদ্র সৈকতের স্মৃতি মনে পরে গেল। ধান্দা করতে লাগলাম জীবনকে উপভোগ করার জন্য সেখানে আগে যাই। গিয়ে দেখলাম সবাই হৈ হুল্লোড় করে খুশিতে ঘুরাঘুরি, সাঁতার কাটা এবং খাটেবসে কপোত-কপোতীর শীতল বাতাস আর সমুদ্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। আমি সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছি। সবার মুখে চোখে হাসি হাসি ভাব। কারো নেই করোনার ভয়ের ছাপ। হবে কেন? সেখানে কি কারো বংশধর আছে? সবাই প্রবাসী। কেউ মরলো কি কেউ সঁড়লো কে কার খবর রাখে। আমার দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। শুনেছি নিজে কে কি করবে কর কিন্তু কারো দিকে তাকাতাকি করবে না। হটাৎ দেখলাম এক সুন্দরী রমনী একা একা সৈকতে গলাভর্তি পানিতে সাঁতার কাটছে। আমি তার দিকে তাকাচ্ছি আর সে-ও আমার  দিকে তাকাচ্ছে। তাকে ১০০% বাঙালি মনে হল আর সুযোগ টা পেয়ে গেলাম। আমিও একা সে-ও একা। সে-ও আমার মত ধান্দামি করে এসেছে এবং ধান্দা করছে। ” May I help you?” সে সহাস্যে আমাকে বলল। বুঝলাম না সে’ই তো পানিতে আর আমি ডাঙায় সে আবার আমাকে কি সাহায্য করবে? মনে হলো সে আমার ধান্দামি বুঝে গেছে। আর সম্ভবত বিদেশের ভাষা এমনই।
বুঝতে পারবে না তো অনাহারে থাকবে। পানির দিকে এগুতে থাকলাম। উঃ কী ঠান্ডা! শীতল বাতাস আর ঠান্ডা পানি। শরীর থরথর করে কাঁপছে। ধপাস শব্দ হলো। আমার খাঁটের নিচে দেশি আলুগুলো ধরেয়া (গেছো ইঁদুর)  একটা একটা করে নিয়ে যাচ্ছিল। উপরে তুলতে অসাবধানতাবসতঃ একটি আলু পরে গেল। ব্যাটা ইঁদুর ধান্ধাবাজ। হাটবাজার যেতে পারি না, আলুগুলো এ কদিন খাবো বলে একসাথে ১০ কেজি কিনে এনেছি।  আর সে কি শুরু করেছে? ঘুম ভেঙে গেল। গায়ে চাদরটা তুলে নিলাম। আহাঃ স্বপ্নটা যদি আরেকটু দেখতে পারতাম।
যাহোক আজ ৬ এপ্রিল ২০২০। যে বিষয়টা নিয়ে লেখতে বসেছি সেটা হলো গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনায় আপদকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াতে প্রায় ৭৩ কোটি হাজার টাকা প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।  নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগোপযোগী ঘোষণা। বেঁচে থাকার, টিকে থাকার এবং কি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খুশি হয়েছে অনেকে। কিন্তু অনেকে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে, প্রাপ্যরা পাবে তো? কেউ ধান্দামি করবে না তো? কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো না।
তবে আশার বাণী এই যে, যাদেরকে এ সুবিধা দেওয়া হবে তার নিজ ব্যাংক একাউন্টে টাকা যাবে( টকশো তে এক সচিবের মন্তব্য মতে)। ধান্দামি করার কিছু নেই এখানে।  তাছাড়া করোনার ছোঁবলের দিনে কেউ ধান্দামি করবেও না। আর যদি কেউ করে তবে জনগন তাকে মীরজাফরের মত ঘৃণার চোখে দেখবে। আরে তুমি যে কি বলো? অনেক লুটপাট হবে এখানে। পছন্দের লোকের নাম দিবে আর নাম দিতে টাকা নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন আশা স্বাভাবিক।  দেখি ধান্দাবাজ কারা?
১) করোনা: করোনা ভাইরাস হলো এক বড়সড় ধান্দাবাজ। ৩৬০ বার জিন পরিবর্তন করলো।বৈজ্ঞানিকগণকে ধরা দিচ্ছে না। শুনা যাচ্ছে প্রতিষেধক তৈরি করতে আরো ১৮ মাস সময় লাগবে। তাছাড়া করোনা এমন দেশে বেশি  ছড়িয়ে পড়েছে যে দেশের লোকজন জীবনকে পুরোপুরি ভোগ করে নিয়েছে । বিশেষ করে বয়স্করা। (ফানি)
২) কিছু  অসৎ ব্যবসায়ীঃ তারা সুযোগ বুঝে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে অধিক মুনাফা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম। মানুষ ঘর থেকে বেরও হয না আর খরচও করে না। দাম বাড়িয়ে লাভ কি?
৩) ধর্ম ব্যবসায়ীরা: তারা বলতে শুরু করলো যারা সৃষ্টিকর্তাকে মানে না, বিধর্মী, তাদেরকে করোনা ধরছে। এই সুযোগে যদি কিছু লোককে বাগে আনা যায়। বাস্তবে সৃষ্টিকর্তাকে সবাই মানে।
৪) কিছু অসৎ খামারিঃ মাছ খামারিরা বলছে মুরগীতে করোনা আছে আর মুরগী খামারিরা বলছে মাছে করোনা ছড়াচ্ছে। কেননা উহানে আগে জেলেদের  গায়ে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ইত্যাদি। এ সুযোগে গুজব ছড়িয়ে যদি মুনাফা হয়ে যায়।
৫) কিছু গার্মেন্টস মালিকঃ  তাদের চিন্তা এখন বিশ্বে মাস্ক আর পিপিই খুব চাহিদা। ওফারও এসেছে অনেক।  যদি সুরক্ষা ব্যবস্থা করে কারখানা চালু রাখা যায়। টাকা মানে আর টাকা। কিন্তু যদি করোনা ধরে ফেলে আর ১০০/১০০০ কর্মী সাপা হয়ে যায়, এটা কি কেউ ভেবে দেখেছে? যতসব সস্তা চিন্তাভাবনা।
৬) কেউ কেউ বলছে নেটওয়ার্ক থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে, আবার কেউ বলছে বনরুই থেকে ছড়াচ্ছে।
কিন্তু আমি বলছি কারেন্ট (বিদ্যুৎ) থেকে করোনা ছড়াচ্ছে। কেননা ‘ক’ থেকে করোনা আর ‘ক’ থেকে কারেন্ট। তাছাড়া গত ৪ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা দিলেন ৫ তারিখে (৪+৫=৯) রাত ৯ টা ৯ মিনিট মোমবাতি জ্বালাতে হবে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে। সবাই মানলো আর দলমত নির্বিশেষে মোমবাতি প্রজ্বলিত করলো। আর কিছু হোক বা না হোক গোটা জাতির সংহতি প্রকাশ পেলো। আর আমার কথাটা মিলে গেল।  ক থেকে ক। (ফানি)
যা হোক আসল কথায় আসি। ধান্দামি করে লাভ নেই। টাকা দিয়ে কি হইবো,  মানুষের জান যদি না থাকে। ধান্দাবাজি করে বড় লোক হবেন, বেশি খাবেন ডায়েবিটিস হবে, করোনা সহজেই পরাস্ত করে ফেলবে।
২০০৪ সালে ২১ আগস্ট ধান্দাবাজিদের গ্রেনেড হামলায় ত্যাগী নেতারা যদি ধান্দামি করতো, নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যেতো, মানবঢাল তৈরি না করতো তো জননেত্রীকে পেতাম না। দেশ উন্নত হতো না। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে মানবতার মাকে রক্ষা করলেন তাঁরা। কী মানবতার দৃষ্টান্ত!
করোনা ভাইরাস বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলছে। সবাই আমরা ঘরে বন্দী। চারিদিকে অসহায় মানুষের হাঁ হাঁ কার। জনদরদী নেতৃবৃন্দ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের কাঁধে করে অনাহারীর মুখে খাদ্য তুলে দিচ্ছে। অসহায় ব্যক্তিদের সাহস যোগানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রনোদনা ঘোষণা করেছে। চলুন আমরা ব্যক্তি হিংসা পরিহার করি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছে তাকে ত্রান দিব, ও ওমুক পার্টির লোক তাকে দেওয়া যাবে না, এটা করা যাবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা  সকলের প্রধানমন্ত্রী। তার দেওয়া সাহায্য আমরা সবাইকে দিবো। কারো হক কেঁড়ে নিব না। আমরা কেউ ধান্দাবাজ হবো না এবং নয়।
লেখকঃ প্রভাষক (যুক্তিবিদ্যা), সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়, বালিয়াডাঙ্গী, ঠাকুরগাঁও।
Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

স্যাটেলাইট টেলিভিশন “কলকাতা টিভি’র” চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা হলেন সনজিত কর্মকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের ২৪ ঘন্টার সংবাদ ভিত্তিক বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন কলকাতা টিভি’র ...