করোনার কারণে বিজনেস প্ল্যানে পরিবর্তন আনতে হয়েছে: নুসরাত জাহান

নুসরাত জাহান

আ হ ম ফয়সল :: দেখতে শুনতে খুব সাধারণ একজন মানুষ মনে হলেও কাজ করছেন অসাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে জার্মানিতে ‘ইউজেবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে মাস্টার্স করতে যান। শেষ করে সেখান থেকে ফিরে যুক্ত হয়েছেন আইটি পেশায়। এখন তিনি এ সেক্টরের একজন উদ্যোক্তা। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন, কাজের প্রতি তার সেই ভালোবাসা এখন নেশাই বলা চলে। বলতে গেলে যার পুরোটা সময় সময় কেটে যায় কাজের মধ্য দিয়েই। নুসরাত জাহান। তিনি ইন্টার‍্যাক্টিভ আর্টিফ্যাক্ট লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। যেখানে এম্বেডেড সিস্টেম, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং বর্তমানে টেলিমেডিসিন নিয়ে কাজ করছেন। কাজের সুবাদে দেশ-বিদেশে ঘুরেছেন অনেক, পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মেয়ে হলেও কর্মসূত্রে এখন তার পুরোটা সময় কাটে রাজধানীতে। করোনাময় লকডাউন পরিস্থিতিতে কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন নুসরাত জাহানের। কথা হয় তার সাথে-

 

কেমন আছেন?

আসলে, কেমন আছি বুঝতে পারছিনা। এত লম্বা সময় বাসায় থাকা হয়নি আগে কখনও। এভাবে বাসায় বসে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই। সো, ভালো আছি বলতে পারছি না। আবার খুব যে খারাপ আছি, সেটাও না। তবে, বাসায় একদম একা আছি বলে কাজের মাঝেও মন খারাপ লাগে।

 

বাসায় কিভাবে সময় কাটছে?

অফিসের কাজ, বাসার কাজ আর ধর্মকর্ম করে।

 

করোনা পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করছেন?

করোনার পরিস্থিতির কারণে আমাদের বিজনেস প্ল্যানের কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আমাদের প্রোডাক্ট ‘ফিজিওট্র্যাক’ ছিল হাসাপাতাল-ভিত্তিক কিন্তু যেহেতু হাসপাতালে খুব জরুরী রোগী ছাড়া কেউ যেতে পারছেনা, সেহেতু আমাদের সেলস টিমও সেখানে যেতে পারছেনা। এই প্রোডাক্টের মার্কেটিং আমরা আপাতত বন্ধ রেখেছি। অন্যদিকে ‘ডকটক’ নামে ফেইসবুক পেইজ-ভিত্তিক একটা সার্ভিস আমরা শুরু করেছি যেখানে সাধারণ রোগীরা অনলাইনে ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করতে পারবে। সো, মূলত এই কাজেই অনেকটা সময় যাচ্ছে। অন্যদিকে কোম্পানীর জন্য দেশের বাইরে থেকে ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজ করার ট্রাই করছি।

 

দিনের পর দিন ঘরে থাকছেন, ঘরের কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন এসেছে কি?

তা তো এসেছেই। মূলত, করোনা পরিস্থিতির আগে আমার বেশির ভাগ সময় রেস্টুরেন্টেই খেতে হত কিন্তু এখন তো সব বাসাতেই রেডি করে খাচ্ছি। তাই, রান্না-বান্না, বাসার অন্যান্য কাজ সব করতে হচ্ছে।

 

কর্মহীন ঘরে থাকা মানুষগুলোর জন্য কোন পরিকল্পনা আছে?

কিছু বিষয়ের উপর অনলাইন ট্রেইনিং-এর প্ল্যান আছে, যাতে করে তাঁরা নিজেরাই ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করতে পারে কিন্তু এখনও বিস্তারিত বলার সময় আসেনি।

 

করোনায় বাংলাদেশের আইটি সেক্টরের কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

করোনা ভাইরাসের জন্যে হঠাৎ করে আইটি সেক্টরের চেহারা বদলে গেছে। সারা বাংলাদেশ জুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে যখন মানুষ একদম সময় পাচ্ছিল না তখন হঠাৎ করেই সবকিছু স্থবির হয়ে গেলো। অবশ্য, এটা পুরোটা নির্ভর করছে বিজনেসের ধরণের উপর। যদি কারো সেলস অনলাইনের উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে তাদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে/ফেলবে। ই-কমার্স সেক্টরের ডিমান্ড খুব বেড়ে যাবে, অলরেডি বেড়ে গিয়েছে । অপরদিকে, তথ্যপ্রযুক্তির সব সেবা এককভাবে অনলাইনে দেয়ার সুযোগ নেই। যেমন, যেসব খাতের সঙ্গে হার্ডওয়্যার সম্পৃক্ত এবং যেখানে এক্সপার্টকে হার্ডওয়্যার সরবরাহসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান মার্কেটে গিয়ে করতে হয়, সেটা সম্ভব হচ্ছেনা।

 

এ ক্ষেত্রে সরকার কি কি পদক্ষেপ নিতে পারে?

প্রণোদনা এবং ঋণের নিশ্চয়তা, প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, রপ্তানীতে সাহায্য করা, সরকারি ট্রেনিং গুলোতে আরও বেশি প্রাইভেট কোম্পানিকে যুক্ত করা, সরকারি টেন্ডারে ছোট ও মাঝারী সাইজের কোম্পানীগুলোর জন্যে নিয়ম শিথিল করা।

 

করোনা মোকাবেলায় যারা যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে তাঁদের নিয়ে কি বলবেন?

তাঁদের প্রতি আমাদের আরও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিৎ এবং সরকার থেকে তাঁদের জন্যে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা উচিৎ।

 

করোনা মুক্ত আগামীর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

এক কথায়, পরিশুদ্ধ, ইতিবাচক একটি বাংলাদেশ যেখানে হানাহানি, খুন, ধর্ষণসহ কোন রকম নেতিবাচক কিচ্ছু থাকবেনা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৯২ জন

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মে মাসে ...