ব্রেকিং নিউজ

করোনাভাইরাস নিয়ে ফেসবুকে আপনার লেখা (২৮ মার্চ)

ডেস্ক নিউজ :: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের আধুনিক জীবনে এক নতুন বাস্তবতা। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তি তথ্য, মতামত, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আদান-প্রদান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমানে মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব রেখে চলেছে। বর্তমানে অনেকেই ঘরে বসে করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার মতামত তুলে ধরছেন। ইউনাইটেড নিউজ আজ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন জনের মতামতগুলো সংগ্রহ করে হুবহু তুলো ধরবে-

 

সাবেক সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তা- আপনি বিসিএস অফিসার হয়েছেন,তার আগে আপনার মানুষ হওয়াটা জরুরী ছিলো,আপনার আগাগোড়া ষোলআনাই মিছে।’তর্কের খাতিরে মেনেই নিলাম যে ঐ তিনজন চাল ডাল কিনতে না, কাজ করতেই এসেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার করে বাবার বয়সী মুরুব্বিদেরকেকে কানে ধরিয়ে এভাবে অপমান করতে পারেননা আপনি সরকারি বেতন নেন রাষ্ট্রের নির্দেশে কিংবা সরকারের নির্দেশ পালনের জন্য।ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বাবার বয়সী মুরুব্বিকে হেনস্তার জন্য নয়।

ভ্রমণকণ্য কাজী আসমা আজমেরী- এটা কখনোই মেনে নেয়া যায়না এরকম একটি রেসিস্ট মহিলাকে। বর্ণবাদী না হলে কখনোই তিনি এইভাবে স্বল্প আয়ের শ্রেণীর লোকদের যারা জীবিকার দায়ে কর্মরত আছে তাদেরকে শাস্তি দিচ্ছে।বাংলাদেশের মানবতা অনেক দিনই চলে গিয়েছে। কিন্তু এখানে তো দেখছি মানবতা মেয়ে মানুষের কাছ থেকে যে কত দূরে চলে, তা তার মোবাইলের খেলনা হয়েছে। শুনেছি বলে সরকার নিম্ন কর্মজীবীদের অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করবেন তাদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করবেন এইভাবে কি তার সৈন্য সেনা পাঠিয়ে, তাদেরকে পেটে লাথি মেরে ব্যবস্থা করছেন?
সরকারি কর্মকর্তা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন খুব দুর্বল মানুষদের উপর যা সত্যিই মেনে নেয়া যায় না বাবার বয়সী লোকদের কে কিভাবে তিনি হেনস্ত করছেন।
মানবতা কিংবা ভদ্রতা সভ্যতা তুমি আজকে কোথায় দাঁড়িয়ে আছো? বাংলাদেশে আসলে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে?
আমি পৃথিবীর বুকে চলেছি তারমধ্যে একটি শ্লোগান হচ্ছে”আমি রিকশাচালক আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না”আমার টি-শার্ট আমি এটি ছাপিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়েছি এবং অ্যাওয়ারনেস করার চেষ্টা করছি।
আর বাংলাদেশের মহিলারা মানুষরা কি করে? অফ, যারা খেতে পায়না দুপুরবেলা খাবারের সন্ধানে কাজ করছে জীবিকার জন্য 50 এর উপরে ও তারা প্রতিনিয়ত খেটে চলেছে সেই সব বাবাদের আজকে অপমান, সত্যি সহ্য করতে পারছিনা। আমার বাংলাদেশের ভালো করে ল জানা নেই, তবে এতটুকু জানি এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অবিলম্বে তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
আর সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই সব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাবার ব্যবস্থা করেন, তাদেরকে বাসায় রাখতে হলে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। না খেয়ে বাসায় থাকতে পারবে না। আসুন সরকারের সাথে আমরা যেসব ভ্রমণপ্রিয় মানুষ আছি তারাও সাহায্যে লেগে যায়।

ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন- এ কেমন যুদ্ধে আজ সকল বিশ্ব জড়িয়ে গেলো। সবাই যেন অজানা শত্রুর ভয়ে নিরস্ত্র হয়েও খেলছে।

হোসনা মোনালিসা- সাহায্যের নামে লোক দেখানো কাজ করতে গিয়ে নিজেকে এবং অন্য কে করোনা ঝুকির মধ্যে ফেলবেন না।

আবু বকর শিবলী- সমাজের বিত্তবান দৃষ্টিআকর্ষন করছি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ এর জন্য লকডাউন এর জন্য গরীব অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসুন।

 কাজি গোলাম আলউদ্দিন- হে রহমানির রহিম, আপনি পৃথিবীবাসীকে ক্ষমা করে দিন, করোনা ভাইরাস থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন, আমিন।

আসমা আক্তার সাথী- আমি আজ সত্যিই আপসেট। আমার “মা” সমতুল্য বোন, আমার সন্তানতুল্য নান্না মুন্না দুই ভাগ্নে ও ভাইয়া আছেন সেখানে। আমি আর নিতে পারছি না, করোনাভাইরাসের এই ভয়াবহতা। প্রতিটি মূহুর্ত আতঙ্কে থাকি। হাজার খুঁজে কোন সমাধান পাচ্ছি না। আল্লাহ্ আমরা মা-বাবা হারা পাঁচটি ভাইবোন আজ পাঁচ জাগায় পড়ে আছি। তুমি আমাদের ও আমাদের পরিবারকে কে নেক হায়াত দান করো।
চোখে ঝাপসা দেখছি। আপুনিকে খুব মনে পড়ছে। সে মা পাখি হয়ে তার ডানার নীচে আমাকে আর রাসেলকে আগলে রেখেছে। চাকরি করি তখনও মুখে তুলে খাইয়ে দিতো আপি। আমার ড্রেস পরে গড়াগড়ি খেত, আমাকে ক্ষেপানোর জন্য, কারণ আমি বাইরের ড্রেস ঘরে পরা পছন্দ করি না। কিন্তু তুমি বাইরে চলে যাবার পর থেকে এগুলো খুব মিস করি। একটা ঈদও আর একসাথে করা হয় না আমাদের। অথচ একটা সময় ছিল যখন আমরা ৩ ভাইবোন গলাগলি করে ঈদগুলো পার করতাম, শুধু আমরা ৩ জন, তুমি আমি আর রাসেল। এ্যালিফ্যান্ট রোড চষে রাসেলের ঈদের ড্রেস কিনতাম। তুমি একবার আড়ং এর ডিজাইনে ওর মাপের পাঞ্জাবী কাজ করে বানিয়ে দিলে। ঈদে কোন ঘোরাঘুরি নয়, কারো বাসায় যাওয়া নয়, শুধু তিন ভাই বোনে গায়ে গায়ে লেপটে থাকা। এটাই ছিল মজা। আর সেইসাথে তোমার হাতের মজার মজার রান্না। মুখে তুলে খাইয়ে দেয়া আর টিভির ঈদ অনুষ্ঠান দেখা। আমরা টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যেতাম, রাসেল মশারি টানিয়ে দিতো…. আহা আমাদের ভালোবাসাময় সেই রঙিন দিনগুলি….. টিকাটুলির বাসায় থাকতে আমার একবার জ্বর হলো সাথে বমি। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি, রাস্তায় পানি। তখনতো উবার ছিলো না। রাত তখন ১১/১২ টা বাজে। রাসেল এই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোত্থেকে ইয়ালো ক্যাব যোগাড় করে নিয়ে এলো। তোমার মাত্র কয়েক দিন আগে এ্যাপেনডিক্সের অপারেশন হয়েছে, সব উপেক্ষা করে আমাকে নিয়ে ছুটলে ক্লিনিকে। স্যালভেসনে নেয়ার পরে রাব্বি ভাই বললেন স্যালাইন দিতে হবে। আমিতো কোনভাবেই স্যালাইন পুষ করতে দিবো না, ইনজেকশনে আমার প্রচন্ড ভয়। তুমি আর রাসেল মাথায়, মুখে হাত বুলিয়ে সব ম্যানেজ করে নিলে। তোমাকে ঘুমাতে বলে সারা রাত রাসেল জেগে রইল, তুমিও ঘুমালে না, রাসেলও না, আমি ঘুমাই আবার জেগে উঠে, রাসেল টিস্যু দাও, বড়পা পানি খাব…… এই করে করে রাত পার।
আল্লাহ্ আমাদের ভাই বোনদের হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলি আবার ফিরে পেতে চাই। তুমি করোনাভাইরাস মুক্ত পৃথিবী ফিরিয়ে দাও আমাদের। ফিরিয়ে দিও আমাদের সেই রঙিন দিনগুলো। যেখানে ভালোবাসার সরোবরে সাঁতার কেটেছি আমরা। কম খেয়েছি, কম পরেছি, কিন্তু সুখের সাগরে ভেসেছি। তুমি আমাদেরকে আবার সেই সাগরে ভাসতে দিও।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের এই ভয়াল থাবা। আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। আল্লাহ্ তোমাদেরকে সুস্থ রাখুক। তোমরা সাবথানে থেকো। মোটেও ঘর থেকে বের হইও না। আল্লাহ্ র ইচ্ছায় আবার আমরা একসাথে হাসবো, কাঁদবো……

সাংবাদিক মোশতাক আহমেদ- এই সময়ে বয়স্ক মানুষ এবং খেটে খাওয়া মানুষগুলোর প্রতি যার যার অবস্থান থেকে একটু বেশি মানবিক হোন। করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে আতঙ্কে আছেন বয়স্ক মানুষগুলো, যারা কারও মা-বাবা,দাদা-দাদি, নানা-নানি বা স্বজন । তাদের সাহস দিন, হাসিখুশিতে রাখুন। অবশ্যই অন্য বয়সীদের প্রতিও ভালোবাসা থাকবে। সবাই সচেতন ও মানবিক হলে নিশ্চয়ই এই বিপদ কেটে যাবে। আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন-আসুন সাহস রাখি, মনোবল দৃঢ করি। করোনা নিয়ে কোথায় কতজন মারা গেছেন,কার কত কষ্টের মৃত্যু হয়েছেএইসব আপাতত বন্ধ রাখি। করোনা মহামারি এটা বাস্তব।দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে এটাও সত্য। এটি একটি ভাইরাস , শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এধরনের ভাইরাস পৃথিবীতে আগেও এসেছে।কিন্তু এত ব্যাপক হয়নি। একটি ভাইরাসের ভয়াবহতা মাত্রা ছাড়িয়েছে এবার।আমার মনে হচ্ছে ক্রমশই আমরা মানুষেরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছি, মনোবল ভেঙ্গে যাচ্ছে, জীবাণুরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। সবাইকে বলব মনোবল দৃঢ রাখুন।সাহস রাখুন, ভাইরাস মোকাবেলায় নিজের শরীরকে তৈরি রাখুন।বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাও পরামর্শ দিয়েছে শরীর মনকে ফিট রাখতে।যুদ্ধ করতে জানলে এই ভাইরাস পালাবেই।

আশ্রাফুল আলম মাসুম- সংকটের এই সময়ে মহান পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনকারী সকল ডাক্তার, নার্স,স্বাস্থ্য কর্মী, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস,সাংবাদিক ও জরুরী সেবা প্রদানে নিয়োজিত সকলকে জানাই হাজার কোটি সালাম। তাদের কর্ম চেষ্টা নিশ্চিত করবে বাসযোগ্য সুন্দর বাংলাদেশ।

স্নিগ্ধা বাউল- অসুখের রঙগুলো ধূসর ভাবতাম। ভাবতাম ওগুলো নির্মোহ আর কেমন চণ্ডাল হবে। হবে কোন বর্ধিষ্ণু জ্বালার মতো। ভুল ভাবতাম। অসুখের রঙগুলো বেশি উজ্বল, এতো যে তাকানো যায় না। চোখ দুটো জ্বলে যায় তীব্রতায়। বন্ধ হয়ে আসে পাতা আর পাতার ঘুম।

সারাদিন বসে বসে পড়েছি কতগুলো পুরাতন চিঠি, সবুজ কালির ভাবনায় রঙিন মথভাঙা প্রজাপতির মতো। কয়েকটি অস্হির দেবালয় ভাঙার গল্পও আসে, আসে রেডিওতে পুরাতন বন্ধুর ভয়েস। এখানে কড়ইতলায় গরম মিষ্টি ভাজার কথা মনে পড়ে, মনে হয় ভ্যানগাড়িতে পা ঝুলিয়ে চলে যাই কোকিল ডাকছে বিষণ্ণ যে মেহগনির ডালে তার পায়ের তলায়। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসা এক ভাঁজের পাঁচশ নোটের আকার একই আছে কেবল হেসেছি আনমনে অযত্নকৃত নিজের বেখেয়ালে।

সবুজ নোটবুকটা দাদা দিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে কয়েকটা মোবাইল নম্বরসহ।আমার কাঁচা হাতের লেখায় আরও বেশ কয়েকটি নামহীন অজ্ঞাতনামা নম্বর লিখা আছে, তারা কারা জানছি না আমি আজও। আছে বইমেলায় একজন লেখকের অটোগ্রাফ, নিলামে তুলতে ইচ্ছে করছিল সেদিনগুলো এবং সর্বোচ্চ দামে আমিই হয়তো কিনে নিবো,,,,

মাসুদ সুমন- লক ডাউন এর কারনে। সবছেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রিক্সাওয়ালা ভ্যানগাড়ী ওয়ালা দিন মজুর এবং দরিদ্র জেলে পরিবার।
প্রতিটি ওয়ার্ডের এই দরিদ্র রিক্সা ওয়ালা ভ্যান গাড়ি ওয়ালা দিন মজুর দরিদ্র জেলে পরিবারের নাম লিস্ট করে এদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিন।

নাছরীন আক্তার- এখনো যারা ভাবছেন তাদের অনুরোধ করে বলছি আর ভাবার সময় নাই।যা পারেন তাই দিয়ে সহযোগীতা করুন।ঘরবন্ধী মানুষগুলোর ধৈর্যশক্তি তলানিতে ঠেকার আগেই সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেচে যাবে অনেকগুলো পরিবার।

লাকি রাহাত- * আর পারছি না!!! অস্থির হয়ে উঠছে জনজীবন ও পারিবারিক জীবন!!! এভাবে কন্টিনিউয়াস ঘরে বসে থাকাটা পুরুষমানুষের খেটমাটি। আর হাওয়া না খাওয়া! বুয়ারা না আসা! মুখোরোচক খাবার মজাদার খাবার রান্না করতে পারছি না। এতো কাটা বাছা করাটা সম্ভব নয়! তাই সীমিত করতে হচ্ছে। একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শরীর মন!!!!

তবুও ভালো যে ডিস লাইনটি আছে। আর ফেসবুকের লাইনটি কাটেনি!! তাহলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যেতো । ঘরে বসে থাকাটা একনাগাড়ে এটা করোনার থেকে ও ভয়ংকর!! তখন আর ভালোবাসাবাসি থাকে না। ঠাঁসাঠাসি আর কাশাকাশি থাকে। আমি ঘরে বসে নামাজ কোরআন তাসবীহ পড়ছি আর দোওয়া করছি। সবটা মিলিয়ে আল্লাহপাক আমাদের দ্রুত রোগমুক্তি করুন। আর সবকিছু স্বাভাবিক করে দিন। সকলেমিলে একে অপরের জন্য দোওয়া করবেন। আমিন। সকলের অনেক মঈল কামনা করে।

ফজলে এলাহি শামীম- ” করোনা ভাইরাস ” বিশ্ব জুড়ে একটা আতংকিত মহামারীর নাম করোনা। এই ভাইরাসের ভয়ে গোটা দুনিয়া আজ লকডাউন।
প্রত্যেক সচেতন ও অসচেতন মানুষ এবং সরকার তার দেশটিকে মৃত্যুর নগরী না বানানোর ভয়ে বা মহামারী সংক্রামিত হতে না দেওয়ার ভয়ে নিজ থেকেই বা সরকারী ভাবে একপ্রকার জোরপূর্বক সেইফ হুমে রাখবার চেষ্টা করাচ্ছেন প্রত্যেক জনগনকে বাঁচাতে। কিন্তু এরপরও কিছু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ রাস্তায় বা হাট-বাজারে বের হয় পেটের দায়ে, সংসার রক্ষার স্বার্থে। হাট-বাজারে বা রাস্তায় বের হলেই কদিন যাবত দেখেছি পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী এবং উচ্ছাসিত প্রভাবশালী লোকজন সাধারণ মানুষকে মাক্স জন্য বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দিচ্ছে বা লাঠিচার্জ করছে। একটা স্বাধীন দেশে বসবাস করে কি আমরা সামান্য একটা মাক্স পেতে পারি না সরকারের পক্ষ থেকে এই মহাদূর্যোগ মূহুর্তে? মাক্স না পরার জন্য কি আমার উপর লাঠিচার্জের বিধান দেওয়া হয়েছে আমার সংবিধানে? আমি আমার দেশের মানণীয় সরকার প্রধানের কাছে জানতে চাই। আমি বা আমার পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হলে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল ও মেডিকেল ভর্তির বিলের সাথে যে টেক্সস আমি বা আমার পরিবারের সদস্য থেকে কেটে নেওয়া হয় বা আমি বা আমার পরিবার প্রতিনিয়ত মেডিসিন ক্রয় বাবত যে টেক্স গুলো দিচ্ছি তার উপর আমি ও আমার পরিবার এদেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনতার পর থেকে যে খাজনা-টেক্স দিয়ে আসতেছি তার বিনিময়েও কি এই দেশের জনগণ হিসেবে এই জাতীয় দূর্যোগ মূহুর্তে সরকারের পক্ষ থেকে একটা একটা মাক্স পাওয়ার অধিকার কি আমাদের নেই? নাকি পিপিই এর মত মাক্সও পাবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী-আমলারা? তবে পরিশেষে একটি কথাই বলবো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। দয়া করে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লাঠিচার্জ না করে উত্তম ব্যবহার করুন। আমাদের দেশের শান্তি প্রিয় নিম্ন ও মধ্যবৃত্ত মানুষরা সুন্দর ব্যবহারকে শ্রদ্ধা করতে জানে।।

কবি রোকেয়া ইসলাম- করোনা এক অঘোষিত জীবানু যুদ্ধ । অথবা প্রকৃতির উপর অসহ্য আচরণের নির্মম পরিশোধ । মানুষ ভালবেসে প্রকৃতিকে জয় করবে । এ যুদ্ধে মানুষ জয়ী হবেই । সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টিকে হারতে দেবে না । প্রতিষেধক নেই তবে প্রতিরোধ করার উপায় আছে মানুষের হাতে । আসুন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি । করোনা ঠেকিয়ে রাখি । আল্লাহ্ সহায় হোন এ যুদ্ধে।

নূর কামরুন নাহার- মাস্ক পরা কি সরকার বাধ্যতামূলক করেছে ? আমাদের এইসব আচরণের মানে কি? সরকার সাধারণ ছুটি দিয়েছে। দেশে কোনো জরুরি অবস্থা নেই। মানুষকে সচেতন করতে হবে। কিন্তু অপমানজনক আচরণ কেন?

সাইফুল আলম মাসুম- আজ সমস্ত পৃথিবীর মানুষ অসহায়। পৃথিবীর অনেক দেশে, অনেক গোত্রে যুদ্ধ চলছিল, আজ তা থেমে গেছে। অহংকার কমে গেছে মানুষের মাঝে। পুঁজিবাদি লোকজনের মাঝে ভয় ঢুকে গেছে। মিথ্যা, অনাচার, ব্যাবিচার, অত্যাচার অনেকাংশে কমে গেছে। এটা পরিবর্তনের একটা সুসংকেত। এ পৃথিবী মানব কল্যানের চেয়ে মানব সভ্যতা ধ্বংসের জন্য ব্যায় করতে বেশি মনযোগী ছিল। আজ একটি মহামারিতে সবাই এক নিয়মে চলতে বাধ্য করেছে । সময় এসেছে নতুন করে ভাবার, নতুন পরিকল্পনার, নতুন নিয়মের, নতুন শিক্ষার, নতুন পরিবেশের, নতুন ভাতৃত্বের। বন্ধ হোক যুদ্ধ, বন্ধ হোক শোষন, অত্যাচার, অনিয়ম, অনাচার, হিংসা, দূর্নীতি, জয় হোক মানবতার। সকল ধর্মীয় অনুভূতি সকল ধর্মের মানুষের মাঝে আলোকিত হোক। দূর হোক ভয়, দূর হোক মহামারী, রক্ষা হোক মানব সভ্যতা।।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সকল অফিস আদালতের জন্য ১২টি নির্দেশনা জারি

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি ...