মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান

মাহমুদা হক মনিরা :: বেসরকারি সংস্থা ডরপ এর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান বলেছেন, “বর্তমান সরকার পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিভিন্ন কৌশলপত্র বিভিন্ন নীতিতে সংযোগ করেছেন। সাথে সাথে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও একটি অগ্রনী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। আলাদা করে আমাদের এখানে পানি, স্যানিটেশন, হাইজিনের কোনো বাজেট না থাকলেও বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্দিষ্টভাবে পানি, স্যানিটেশন, হাইজিন বাজেট নিয়ে কাজ করে।” এ সময় তিনি সরকারের কাছে বাজেটের বরাদ্দ বৃদ্ধির অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, “এর সাথে সাথে জনপ্রতি যে বরাদ্দতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন সেটি যাতে আমরা খুবই দ্রুত এই বাজেট কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়নে নিয়ে যেতে পারি।”

সম্প্রতি ইউনাইটেড নিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি আরও বলেন, “জাতীয় স্যানিটেশন মাস ২০২০ উপলক্ষে ডরপ ও ইউনাইটেড নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম এর যে ক্যাম্পেইনের আয়োজন তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে স্যানিটেশনসহ বিশেষ করে হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব আরোপ কর উচিত।”

এ সময় তিনি একটি তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সালে যৌথ পরিবেক্ষণ জরিপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে জরিপটি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী পানি পাচ্ছে আর স্যানিটেশন পাচ্ছে ৪৭ শতাংশ। কিন্তু একই সাথে হাত ধোয়ার ব্যপ্তি ৭৪ শতাংশ। এটা আমরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর একটি মাপকাঠি থেকে ব্যপ্তিটা দেখতে পাই কিন্তু নানাভাবে এই অর্জনটা আরোও বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের জনঅংশগ্রহণ বেশি প্রয়োজন বিশেষ করে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, চরাঞ্চলে, হাওড়-বাওড় অঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস করেন তাদেরকে হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট দরকার, নিরাপদ খাবার পানি এই বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করানো।”

তিনি আরোও বলেন, “বাংলাদেশের এই স্যানিটেশন মাস আয়োজন অনেক পুরোনো এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্দ্যোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই আয়োজনটি করে থাকেন, যেখানে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেন। এর কারন এই বিষয়টিকে যাতে জনগুরুত্ব বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বিষয়টি যাতে আমরা সবাই উপলব্ধি করতে পারি। আমাদের দেশের উন্নয়নের গোড়াই হচ্ছে মানুষ এবং এই মানুষকেই আমরা যতদিন সচেতন করতে পারবো তারা যখন উপলব্ধি করতে পারবে যে, পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাহলেই অনেকাংশে আমাদের উদ্দ্যোগগুলো সফলতা নিয়ে আসবে।”

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here