স্টাফ রিপোর্টার :: ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে সোমবার (৩০ নভেম্বর) ‘লিঙ্গ সমতায়নে পুুরুষের অংশগ্রহণঃ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল ও পরিবর্তন’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় পারিবারিক পর্যায়ে লিঙ্গ সমতায়নে স্বামী এবং স্ত্রীর যৌথ অংশগ্রহনের এর উপর গবেষণাকৃত ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত ইউএসএআইডির নবযাত্রা প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলায় লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও দূর্যোগ সহনশীলতা উন্নয়নে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো ক্ষতিকারক সামাজিক চর্চা দূরীকরণ এবং পারিবারিক পর্যায়ে লিঙ্গ সমতার উন্নয়নে নবযাত্রা প্রকল্প “পুরুষের অংশগ্রহন এবং লিঙ্গ সমতা” মডিউলের বাস্তবায়ন করেছে।

‘মেল এনগেজমেন্ট সেশন’ এর দ্বারা নবযাত্রা প্রকল্প স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক প্রথার পরিবর্তন, গৃহস্থালি কাজে ও সেবাদানে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাল্যবিবাহের মত ক্ষতিকর প্রথা সম্পর্কে কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।

এই কর্মশালার মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতায়নে পুরুষের অংশগ্রহন-এ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, সমীক্ষার ফলাফল এবং সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউএসএআইডি বংলাদেশে, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসমূহ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সমূহ, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, এমপি। এ সময় তিনি বলেন,  এক্ষেত্রে আমি নবযাত্রা প্রকল্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, মেল এনগেজমেন্ট বিষয়ক তাদের এই সময়োপযোগী স্টাডি সম্পাদনের জন্য। নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগ চলমান কাজসমূহকে তরান্বিত করবে। স্টাডির তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, গৃহস্থালী পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাল্যবিবাহ বিষয়ক সচেতনতা, নারীদের ঘরের বাইরে কাজে অংশগ্রহণ, এবং গৃহস্থালী পর্যায়ে নারীদের প্রতি সহিংসতা হ্রাসে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ৯২.৬৫% পুরুষ মনে করে গৃহস্থালী কাজে পুরুষদের সহায়তা করা উচিত। প্রায় ৯০% দম্পতি মানেন যে, বাল্যবিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মানুষের চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আসছে এটি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যাঞ্জক দিক। কোভিড-১৯ শুধু আমাদের দেশে না, বরং বিশ্বজুড়েই নারীর প্রতি সহিংসতাকে তরান্বিত করেছে যা রীতিমত আশংকাজনক আর এ অবস্থার নিরসনে নারী ও পুরুষ একত্রে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। একত্রে কাজ করা উচিত সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থারও। নবযাত্রাকে ধন্যবাদ এরকম চ্যালেঞ্জিং সময়ে সময়োপযোগী ও অনুকরণীয় গবেষণাটি সম্পাদন করার জন্য। এ বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও কাজ যদি করা সম্ভব হয় তাহলে পরিবর্তন সমভব বলে আমি বিশ্বাস করি।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জনাব সোকো ইশিকাওয়া যুক্ত করেন যে, “লিঙ্গ ভিত্তিক প্রথা, সম্পকের্র পরিবর্তন ও সহিংসতা রোধ করা সম্ভব। প্রতিরোধে ফোকাস করাটা কঠিন। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর মেল এনগেজমেন্ট এর কাজের ডিজাইনে গবেষণা এবং ফলাফলের প্রাসঙ্গিক প্রয়োগ প্রশংসনীয়।”

কর্মশালায় উপস্থিত ইউএসএআইডি বাংলাদেশ মিশনের পরিচালক জনাব ডেরিক এস ব্রাউন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, লিঙ্গ সমতায় পুরুষের সহযোগীতা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ইউ এস আইডি ওয়ার্ল্ড ভিশনের বাংলাদেশের অংশীদ্বারীত্বে সহিংসতা মুক্ত ও লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক নারী পুরুষের সম্পর্ক গড়ে তুলতে সফল্‌ভাবে রিসোর্স এবং টুলস তৈরি করেছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে এই টুলস গুলো ব্যবহার সম্ভব। পারিবারিক পর্যায় কাজের পাশাপাশি, শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলো এবং সরকারী কাঠামো গুলোকে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে। কমিউনিটি কে শক্তিশালী রাখতেএবং সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ইউএসএআইডি মেল এঙ্গেজমেন্ট এর মতো লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক এপ্রোচ এ কাজ করে যাবে।

জনাব রাকেশ কাটাল, চিফ অফ পার্টি, নবযাত্রা প্রকল্প, আশা প্রকাশ করে বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন-এর মেল এনগেজমেন্ট একটি অন্যতম এ্যাপ্রোচ। লিংগ সমতা অর্জনের লক্ষ্যে এ এ্যাপ্রোচ কতটা কার্যকর তা জানার জন্যই এ গবেষণাটি করা হয়েছে। আমরা সংলাপ ও এভিডেন্স-বেইজড অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে স্টাডির ফলাফল শেয়ার করে মেল এনগেজমেন্ট এ্যাপ্রোচের কার্যকারিতা তুলে ধরতে চাই।

উল্লেখ্য, আমেরিকান সরকারের আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি এর খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম, যা বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর অংশীদারিত্বে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নে লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও দূর্যোগ সহনশীলতায় খুলনা জেলার দাকোপ ও কয়রা উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় কাজ করছে। প্রকল্পটি ৮,৫৬,১১৬ জন দরিদ্র উপকারভোগীর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী, যেমন: মা, শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি, ওয়াটার ও স্যানিটেশন, কৃষি ও বিকল্প জীবিকায়ন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী-পুরুষ সাম্য এবং সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here