কাজী আসমা আজমেরী

স্টাফ রিপোর্টার :: ভ্রমণকণ্য কাজী আসমা আজমেরী বলেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় আমার পোশাকের জন্য মানুষ লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এবং সেই সাথে থাকে তাদের বাজে কিছু কথা ও মন্তব্য। শুধু রাস্তায় নয়, বাসে কিংবা অফিস এ প্রতিটা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়। যখন আমরা বিদেশ ভ্রমণে যাই, তখন এমন বাজে মন্তব্য শুনতে হয় না। অথচ আমাদের নিজের দেশের লোক আমাকে তার চোখ দিয়ে ধর্ষণ করে।

কাজী আসমা আজমেরী সোমবার (১০ অক্টোবর) সকালে ইউনাইটেড নিউজের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ কালে এভাবে মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এ রকম হাজারো মেয়েরা ঘরে বাহিরে, মহল্লায়, অফিস আদালতে – লোলুপ দৃষ্টি, বাজে কথা, এমন কি গায়ে হাত দেয়া, এসব পরিস্থিতির শিকার হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এসব অন্যায় কে কিছুই বলে মনে করে না। সত্যিই এ দেশের মেয়েরা খুব অসহায়। আমাদের সমাজের মানুষ এখনো এতটাই পিছিয়ে যে আমাদের সমাজের মেয়েরা এখনো এ সব নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে। ইভটিজিং এর আইন থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর নয়।

তিনি বলেন, বহিবিশ্বে কিন্তু মেয়েদের পরিধান নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা থাকে না বা কেউ চিন্তাও করে না, তাহলে সমস্যা কি আমাদের চিন্তায় ? আমরা আমাদের নিজেদের মা বোন দেড় সম্মান দেই, কিন্তু বাহিরের কেউ হলে তাকে সম্মান দিতে চাইনা, মূলত এই জাতিকে মানসিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে, আর এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে হবে আমাদের তরুণ সমাজের।

কাজী আসমা আজমেরী বলেন, মেয়েদের নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে সরকারের আরো অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত, শুধু আইন করে নয়, সেই আইনের বাস্তবায়ন আরো কঠোর ভাবে করা দরকার। ধর্ষণকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা খুবই জরুরি, যাতে অন্যরা এই নিকৃষ্ট কাজের কথা চিন্তায় ও আনতে না পারে।
.
তিনি আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই এগিয়ে আসুন। আর সকল ভ্রমণ প্রেমিকদের বলবো আসুন আমরা সোচ্চার হই আমাদের মা, বোন, কন্যা স্ত্রী ও বন্ধুর নিরাপত্তায়। তিনি সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহবান জানান।
.
উল্লেখ্য, কাজী আসমা আজমেরী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাভেলার্সদের মধ্যে অন্যতম একজন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের ১১৫টি দেশ।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here