ব্রেকিং নিউজ

এলিজা খাতুন’র কবিতা ‘বৃত্তের স্বর’

বৃত্তের স্বর

-এলিজা খাতুন

মোহনায় আছড়ে পড়ে ক্ষ্যাপা ঢেউ
খড়কুটো ফুল পাতা ভেসে চলে
রোদ্দুর তাতানো ঘোলা জলে
বয়ে যায় সময়ের ফলমুল
দুঃখের আনাজ আর জীবনের ভুল

বৃষ্টির মাস এলে মাটির কোলে নামে
অনির্বাদ আবাদের দিন
অথচ শস্যের ধ্বস নামে চিরকাল
খরার চাইতে বেশি নিভৃত আগুনের হলকায়

সারাটি রাত কাটে বঞ্চনার বেনোজলে
মাঠের পূর্ণিমা পুড়ে মরে
শোষক আর আঁধারের ঘায়ে

সম্মুখে বাড়াই তৃষ্ণার হাত
ছুঁয়ে আসে মেঘমালা, নীল
দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে ঘাতক সময়
নক্ষত্রের স্মৃতিটুকু বাঁচে জানালায়

নিরুপায় অন্তর্গত ক্ষয় বেঁধে নিয়ে
গুটিয়ে রাখি হাত
প্রত্যাখ্যান করি ফাল্গুনী রং

সারাদিন অন্ধকার খুঁটে ফিরে আসি ঘরে
ঘর ভরা আঁধারে মেলে দিই-
বিশ্বাসের সুকোমল পালক

হৃদয় খুললেই পাই শীতার্ত অসুখ
প্রতিবার মৌসুমে কুয়াশায় ঢাকা পড়ে
আমাদের নামে লেখা খাদ্য বস্ত্রের ওম
পরিত্রাণ ভালোবেসে চেয়ে থাকি
ঝলমলে রোদ ওঠা সকালে

দুপুরের ঘামে ভিজে ধুয়ে যাওয়া তিল
ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলো নীল চোখের চাঁদ
অথচ নগরের নিয়ন্ত্রিত পথে
হেঁটে যাই ধূলো ধুসরিত চুলে

যেখানে যাবার কথা ছিল মনমধ্যে ;
যাইনি সেখানে, সভ্যতার সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে
এসে গেছি এক আনবিক ব্রীজে

চতুর্পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে
তেলতত্ত্বে মত্ত আঁতেল
রয়েছে তাদের বানিজ্য আর সুসজ্জিত বিছানা
হাজার বছরে বয়েছে কত যে নির্মম ঝড় !
এখানে কষ্ট হাহাকার আর অন্যায়ে ঠাসা দিন

আমাকে এবং আমার স্বজনকে মৃত্যুর দিকে
টেনে নিয়ে যাচ্ছে নৈরাজ্যের নিরাকার ব্যধি
এখানে পাতা ঝরার মতো অজস্র মৃত্যু
এখানে নিদারুণ বিরুদ্ধ সময়

যারা ছড়িয়েছে বিদ্বেষ-বিষ জীবনের আনাচে কানাচে
তাদের নামে প্রতিবাদ কই ! কই সাম্যের শ্লোক!?

ইচ্ছে হয় ছিঁড়ে ফেলি, খুলে ফেলি প্রথাগত বাকল
প্রতিদিন সাবধানে রেখে দিই আমাদের স্যান্ডেলে-
ছেঁড়া ফিতে জোড়া দেওয়া সেফটিপিন
ইচ্ছে করে খাঁচার কষ্ট ঝেড়ে ফেলি, হাঁটি অনন্ত পথ

জোনাকিরা নিভে গেছে আমাদের দুঃখ শুনে শুনে
ঘোর কৃষ্ণপক্ষ ! প্রত্যেক ঘরে ঘরে নির্বাসন-শিখায়
স্বপ্নরা ধুঁকে ধুঁকে আয়ুহীন হয়
নীরবতাকে মনে হয় আনমনা পাথর এক !

শেষ হয়ে গেছে বৃক্ষের দিন, নিদারুণ তছনছ-
পাতাদের ফাঁকে পাখির পাতানো সংসার

আহারে ‘ভালোবাসা’ ! এ শব্দ মুখে নেই কতদিন !
পাথরের গা কেটে মসৃন মুখশ্রী বানানোর মতো
কে আছে ভাস্কর এমন !?
বহুদিন সমস্ত হৃদয় যেন- পিরামিডে সুরক্ষিত মমি !
অন্তরের কারুকাজে কে দেবে অন্তর সাজিয়ে !?
খাটিয়া সাজাবে কে কাফন আর কর্পূর ঘ্রাণে !?

সহিষ্ণু-বিস্ময়ে ‘জীবন’ আর ‘জীবনের শ্মশান’
ভীষণ সমান্তরালে চলে
বন্ধন-সুতো ধরে যতবার টানাটানি হয় হোক
ইচ্ছে হয় যেকোনো মুহূর্তে সুবাতাস এসে গেলে
সুতো কাটা ঘুড়ি হবো একবার !

নীল ক্ষত পোষা সুগভীর হৃদয়টা
হৃদয় দিয়েই ডাকে
সূর্যমুখী-পাপড়ির মতো চায় আলো-তাপ
সূর্য ! তুমি কতদূরে থাকো !!

আমাদের জীবন-পরিধির ঠিক কোন পাশে-
খোলা আছে আলোপথ !?

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় ঢাবি

ডেস্ক নিউজ :: এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ...