ডেস্ক রিপোর্ট::  এলাকাভিত্তিক পানির দাম আগামী জুলাই মাস থেকে নির্ধারণ করতে চায় ঢাকা ওয়াসা। তবে, এলাকাভিত্তিক পানির দাম বাড়ানোর আগে নিয়মিত সমন্বয়নের অংশ হিসেবেও দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) কারওয়ান বাজারের ঢাকা ওয়াসা ভবনে সেবা সংস্থাভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

তাকসিম এ খান বলেন, পানির জন্য সরকার আর ভর্তুকি দেবে না। আর উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পানি বিক্রি করে ঢাকা ওয়াসাকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। সরকার যদি কোনো সরকারি সংস্থাকে ভর্তুকি দিয়ে চালায়, ওই সংস্থা কোনোদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের যদি ব্রেক ইভেনে আসতে হয়, তাহলে দামের সমন্বয় করতে হবে। দাম সমন্বয় কীভাবে?

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে একটা অংশ আছে যারা অনেক ধনী। বারিধারায় একটা দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখন চিন্তা করুন খিলগাঁওয়ে এ রকম একটা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে যিনি থাকেন, তিনি ভাড়া দেন ২০ হাজার। তো ২০ হাজার টাকা যে ভাড়া দেন, আর এক লাখ ২৫ হাজার টাকা যে ভাড়া দেন, তিনি একই দামে পানি খাচ্ছেন। সরকারের ভর্তুকির টাকা কেন আপনি বড়লোককে দেবেন। প্রশ্নই আসে না

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঢাকা ওয়াসা ‘এরিয়া অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বেইজড’ মূল্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। এজন্য একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। তাতে একটি এলাকার বাসিন্দাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে ৬-৭টি ধাপে পানির দাম নির্ধারণ হবে। যারা অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন তারা পানির দাম বেশি দিক। যারা কম কম ক্ষমতাসম্পন্ন তারা কম দিক।

তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবে আর সাবসিডি দেবে না। কাজেই আমরা কোনো দাম বাড়াচ্ছি না, ওই সিস্টেমটা চালুর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আগামী জুলাইয়ের আগে এটা চালু করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে সরকার যদি এটা চালু করতে সময় নেয়, আর ওই সময়ের মধ্যে যদি পানির দাম বাড়াতে চায়, সেটি করবে। কিন্তু আমরা ওই পথেই যেতে চাই। পয়লা জুলাই থেকেই যেতে চাই।

মতবিনিময় সভায় ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ছাড়াও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here