ব্রেকিং নিউজ

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে অটোরিকসা

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পাঁচ শতাধীক অটোরিকসা

রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকসা চালানোর কারণে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় প্রায় ২০টি রুটে চলাচলকারী পাঁচ শতাধীক অটোরিকসা বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটতে পারে প্রাণহানী।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার আছেন ছয়জন। এসব ডিলারসহ অন্যান্য উপজেলার ডিলারদের কাছে থেকে কেনা সিলিন্ডার পরবর্তী ধাপে চলে যায় বিভিন্ন দোকানে। সিএনজিচালিত অটোরিকসা চালকরা এসব এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনে গাড়ীতে ব্যবহার করে থাকেন।

গাইবান্ধা রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শহরের জেলা পরিষদ মোড়-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ, গোরস্থান মোড়-বাদিয়াখালী, ভিএইড রোড-ভরতখালী-সাঘাটা, ভিএইড রোড-বোনারপাড়া, পুরাতন ব্রীজ-ধর্মপুর, পুরাতন ব্রীজ-কামারজানী, খানকাহ শরীফ-সাদুল্লাপুর-মাদারগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে পাঁচ শতাধীক সিএনজিচালিত অটোরিকসা চলাচল করে।

অটোরিকসা মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও চালক সমিতির সভাপতি শফিসহ কয়েকজন চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা থেকে বগুড়ায় গ্যাস আনতে গেলে গাড়ী প্রতি বিভিন্নস্থানে টোল ও চাঁদা দিতে হয় ১৯৫ থেকে ২১৫ টাকা করে।

এ ছাড়া মহাসড়কে ট্রাফিক ধরলে পাঁচ হাজার টাকার বেশি জরিমানা করে। এ কারণে লোকসানে পড়তে হয়। তাই ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে জেনেও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েই অটোরিকসা চালাতে হচ্ছে। সড়কে এসব টোল ও চাঁদার পরিমাণ কমালে তারা বগুড়ায় গ্যাস আনতে যাবেন বলে জানান। তবে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে অটোরিকসা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন হাবিবুর রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজিচালক বলেছেন, সমস্যার সমাধান না করেই আমাদের বগুড়ায় গ্যাস আনতে বাধ্য করা হলে এই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস অটোরিকসার নিজস্ব সিলিন্ডারে প্রবেশ করিয়েই গাড়ী চালাবো। এতে করে কেউ বুঝতেও পারবে না এই গ্যাস এলপি গ্যাস সিলিন্ডারেরই।

সদর উপজেলার খোলাবাড়ী এলাকার মনির মিয়া বলেন, সিএনজি অটোরিকসা চালকরা খুব সকালে বগুড়ায় যেত গ্যাস আনতে। সম্প্রতী সকালে বগুড়ায় যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু শহরের সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে গিয়ে শুনলাম তারা আর বগুড়ায় যায়না গ্যাস আনতে। পরে অন্য উপায়ে যেতে হয়েছে।

গাইবান্ধার দায়িত্বরত রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর আশরাফুল আলম বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকসা মালিক ও চালক সমিতিসহ এ বিষয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করে বগুড়ায় গ্যাস আনতে যাওয়ার সমস্যা দূর করা প্রয়োজন।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, গাড়ীগুলো তো এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার নয়, যেন একেকটা বোমা নিয়ে ঘুরছে। কখন বিস্ফোরিত হবে তার কোন ঠিক নেই।

গাইবান্ধা বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, চালকরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কোনভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জরিমানাও করা হয়। তারপরও এসব গাড়ীতে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, এই সমস্যাটা অনেকদিন থেকে চলে আসছে। এটা একার বিষয় না, সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বিষয়টি নজরে আছে। এ বিষয়ে সবার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কলাপাড়ায় পৃথক ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজন নিহত

মিলন কর্মকার রাজু কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সড়ক দূর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় পুলিশ ...