ব্রেকিং নিউজ

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট : ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাস। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন সিলেট-তামাবিল সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এসময় তারা ধর্ষণকারীদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এমসি কলেজে গণধর্ষণে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
সিলেটের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজ হোস্টেলে সংগঠিত গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এমসি কলেজ সংসদ।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এমসি কলেজ সংসদের সভাপতি পংকজ চক্রবর্তী জয় এবং সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত দেব এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
এসময় বিবৃতিতে বলা হয়, এমসি কলেজ হোস্টেলে গণধর্ষণের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে জড়িতরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত৷ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অনতিবিলম্বে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। ধর্ষক সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হোস্টেল সুপার ও দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য কলেজের সকল প্রকার কর্মকান্ড থেকে অপসারণ করতে হবে এবং ধর্ষণের স্বীকার হওয়া নারীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা, আসামি ৯
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিক্ষার গৃহবধূর (২০) স্বামী বাদী হয়ে শনিবার সকালে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় মামলাটি করেন। মামলায় নয়জন আসামির মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ূম চৌধুরী মামলা দায়েরের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) থেকে মামলার এজাহার থানায় পাঠানো হয়। এজাহার দাখিলের পরপরই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সেটি নথিভুক্ত (নম্বর ২১) করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন নাম উল্লেখ করা ছয় আসামি হলেন সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লঙ্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)। তাদের সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি। এর মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত। বাকিরা এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র। নাম উল্লেখ করা ছয়জনের সঙ্গে তিনজন সহযোগী ছিলেন উল্লেখ করে তাদের অজ্ঞাত বলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিরা বাদীর কাছে (তরুণীর স্বামী) চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত গাড়িটি এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের পঞ্চম তলা ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এমসি কলেজে ‘ছাত্রলীগের দখলে থাকা’ কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ‘ছাত্রলীগের দখলে থাকা’ কক্ষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশীয় পাইপগানসহ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে। শনিবার ভোরের দিকে শাহপরান থানার পুলিশ ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়। ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিন পুলিশের অভিযানের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে কক্ষে তল্লাশি কেন করা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো তথ্য ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষের কাছে নেই বলে তিনি জানান। সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণকারীদের শনাক্ত করতে শুক্রবার রাত থেকে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ভোর সাড়ে চারটার দিকে শাহপরান থানার একদল পুলিশ ছাত্রাবাসে অবস্থান নেয়। পরে তল্লাশি করতে গিয়ে একটি কক্ষ থেকে পাইপগানসহ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞাপন শাহপরান থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, ধর্ষণে জড়িত থাকতে পারেন ছাত্রলীগের এমন ছয়জনের নাম পেয়ে পুলিশ অভিযানে নামে। এই ছয়জনের একজন এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক ছাত্র মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম। তাঁর দখলে ছিল ছাত্রাবাসের ওই কক্ষ। কক্ষ থেকে পুলিশ একটি পাইপগান, চারটি রামদা, দুটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করেছে।

প্রসঙ্গত, সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে এক গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে এসে গণধর্ষণের স্বীকার হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে নগরীর টিলাগড়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নির্যাতিতা গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ঘুরতে আসেন। ঘুরার এক পর্যায়ে রাত ৯ টার দিকে গৃহবধূকে স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেইটের বাইরে বের হন। এসময় কয়েকজন যুবক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চান। এতে গৃহবধূর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধোর শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের হোস্টেলে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রলীগের তিন-চারজন নেতাকর্মী গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এসময় তাদের সাথে থাকা ৯০ টি মডেলের একটি কারও ছিনিয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কারটি তাদের জিম্মায় নেয়। এবং গৃহবধূকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে প্রেরণ করে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দুর্গাপূজায় চারদিনের ছুটি বেনাপোল স্থলবন্দরে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা চারদিনের ছুটির ফাঁদে ...