এবারের মতো রক্ষা পেলেও ভবিষ্যতে কী রক্ষা পাবো ?

কৌশিক কুমার দাস

কৌশিক কুমার দাস :: বিশ্বজুড়ে এখন করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব! চিনের উহান থেকে শুরু করে আজ তার অবস্থান পৃথিবীর প্রায় দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে। সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯৪৬৮৭৫ জন এরমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৪৮১৩৫ জন আর বাদবাকি সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ।

এই অবস্থায় সারা বিশ্ব আজ থমথমে! ঘরে বন্দী থেকে নিজের ঘরকেও মাঝে মাঝে মৃত্যুপুরি মনে হয় ।কারন এই রোগের কোন প্রতিশোধক এখন পর্যন্ত আমাদের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারে নি (তবে তারা দিনরাত নিরলাস পরিশ্রম করে যাচ্ছে ) তাই প্রতিরোধই একে দমনের একমাত্র হাতিয়ার !একে প্রতিরোধের জন্য মানুষকে প্রথমত জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে (কারন এই রোগটি খুব দ্রুত সংক্রমিত ব্যাক্তি থেকে একজন সুস্থ মানুষের দেহে ছরিয়ে পরে )। যার পরিপেক্ষিতে প্রায় সব দেশেই আজ লক ডাউন !!!

লক ডাউন যার ফলে বিশ্বের প্রায় দুই পঞ্চমাংশ মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পরেছে। যে সব মানুষ দিন আনে দিন খায় সোজা কথায় যারা দিন মজুরির কাজ করে এরা এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি বিপদে পরেছে!কারন তাদের একদিন আয় না করলে পরের দিন খবার বন্ধ হয়ে যায়।তবে এসব মানুষদের কথা চিন্তা করে প্রায় সব দেশের সরকার তাদের জন্য বিনা মুল্যে খাবার ব্যাবস্থা করেছে। প্রায় সব দেশেরে সরকার এসবের জন্য তহবিল ফান্ড তৈরি করেছে। এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো সঠিক ভাবে মোকাবেলা করতে পারালেও সমস্যায় পরবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ! তবে ভালোলাগার ব্যাপার এই যে এক দেশ অন্যদেশকে সাহায্য দেয়ার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে এসেছে যার অন্যতম উধাহরণ , ”সার্ক দেশগুলির ইমারজেন্সি তহবিল”।

বিবিসি বাংলার খবর অনুযায়ী, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জন্সন বলেছেন, ১২ সপ্তাহের মধ্যে করোনা ভাইরাসের ঢেউ উলটদিকে ঘুড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে ব্রিটেন । এর মধ্যে মোটে দেড় সপ্তাহ পার করেছেন তারা । তিন মাসের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমন পুরপুরি শেষ হতে অনেক সময় লাগতে পারে !

এতদিন যদি ব্রিটেনের লাগে তবে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোর কতদিন লাগতে পারে এটা খুব ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ ? লক ডাউন এর জন্য মানুষ আজ গৃহ বন্দী। এর জের ধরে বিশ্বের সব দেশের কারখানা বন্ধ হতে চলেছে তার কারনে সে সব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে । শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে ১ কোটিরও বেশি মানুষ । ব্রিটিশ দৈনিক মেইল এর অনলাইন ভার্সনের রিপোর্ট অনুসারে দলে দলে মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন কিংবা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।সবচেয়ে বেশি শঙ্কার বিষয় হচ্ছে ,চাকরিহীন কিংবা কর্মহিন মানুষ হওয়ার হার গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তহে দিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২১ মার্চের পর্যন্ত শেষ হওয়া সপ্তাহের হিসাব প্রকাশ করে ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার। সেখানে দেখা যাচ্ছে ৩.৩ মিলিয়ন মানুষ চাকরিহীন অবস্থায় সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে ।কিন্তু পরের সপ্তাহে আবাদনের পরিমাণ বেড়েছে দিগুন। অর্থাৎ ২৮ মার্চ শেষ হওয়া হিসেবে দেখা গেছে মাত্র তিন দিনের ব্যাবধানে এই আবাদনকারির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬.৬ মিলিয়ন। সব, মিলিয়ে চাকরিহীন বা কর্মহীন হয়েছে প্রায় ১ কোটি মানুষ ।

এই অবস্থাতে সে সব উন্নত দেশ করোনা মকাবেলার করেও তাদের কর্মহীন/ চাকরিহীন মানুষকে অর্থের যোগান দিতে পাড়বে । কিন্তু সব থেকে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়তো পরবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ! যেমন ধরুন বাংলাদেশ !!

বি জি এম ই এর সভাপতি রুবানা হক এমন শঙ্কাই করেছে তাদের সংস্থার ওয়েবসাইটের একটি ভিডিও বার্তায় ।উল্লেখ করেছে বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের ফলে ইতিমধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ১২ লক্ষ তৈরি পোশাক ক্রাখানা শ্রমিক। এভাবে চলতে থাকলে পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত ৪১ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে রাস্তায় নামতে হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি !সোমবার,৩০ মার্চ অবদি দেশের ৩৫০ টি তৈরি পোশাক কারখানার অর্ডার বাতিল হয়েছে স্তগিত করা হয়েছে অনেক অর্ডার।

এত শুধু তৈরি পোশাক শ্রমিক । এছাড়াও আমাদের দেশের রপ্তানির বড় অংশ আসে চামরা শিল্প, সাইকেল উৎপাদন শিল্প এসব কারখানার মালেকেরাও দিশেহারা! এসব ছোট মাঝারি শিল্প কল কারখানার মালেকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ নিয়ে !! আর দেশের মিষ্টির দোকানের শ্রমিক, চায়ের দোকান,খাবারের দোকানের কর্মচারী, ফুসকার দোকান, দোকান শহরের ছোট বড় গার্মেন্টস আর দোকান ইত্যাদি এদের কথা না আপাতত বাদই দিলাম।

এই অবস্থায় যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে শুধু বাংলাদেশ থকেই কয়েক কোটি মানুষ বেকার হয়ে যেতে পারে! এমনিতেই দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক রয়েছে তারপরে যদি এ সকল মানুষ যদি এদের সাথে ঐ একই রাস্তায় সামিল হয় তবে ঐ পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠতে পারে। তখন নিজেরাও নিজেদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পাড়ব না, কারন নিজের থাকলে তবে তো মানুষ অন্যকে দেয় !

তাই একটা জিনিসই বারবার মাথায় আসছে যে, এবারের মত রক্ষা পেলেও কী ভবিষ্যতে রক্ষা পাবো? তবে আশা রাখি এমন অবস্থা দেশে তৈরি হলেও দেশের সরকার বিপদের দিনগুলোতে দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে!!!

 

 

 

লেখক: স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ, রসায়ন বিভাগ, বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন, কলকাতা। (বাংলাদেশের নাগরীক)

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নোবেলের বিরুদ্ধে ভারতে মামলা দায়ের

ডেস্ক নিউজ :: ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’তে অংশ ...