এত হৈচৈ করার কি আছে!

লেখক, আরিফ চৌধুরী শুভ

আরিফ চৌধুরী শুভ :: পাটকলশ্রমিকদের অনশনে ১ জন মারা যাওয়ার খবরে সবাই শোকাহত এবং এটাই স্বাভাবিক। কোন অপমৃত্যু কখনোই সুখের খবর নয়। কিন্তু মৃত্যু নিয়েও রাজনীতির খেলায় ব্যস্ত হুজুগে বাঙ্গালীরা টাইমলাইন ভরেছেন দেখে সময় নষ্ট করেও একটু লিখতে ইচ্ছে করলো। হুজুগে বাঙ্গালীরা কিছু পারুক আর না পারুক, অন্তত ঘরে বসে সরকারকে ধুয়ে দিতে পারে যেকোন ঘটনায়। সব জায়গায় সরকারের দোষ খোঁজার ধান্দায় ব্যস্ত। এই একদল লোকের মাঝে আমারো বাস। এরা ৯৯ ভাগই নিজের স্বার্থে রাতের অন্ধকারে নিজের অজান্তে দেশের ক্ষতি করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এদেরই কেউ কেউ এখনো গাড়িতে লাল-সবুজ উড়াচ্ছেন এই বিজয়ের মাসেও। এদের বেশিরভাগেরই কর্মকান্ড দেখে মনে হয় এই নব্য বুদ্বিজীবীরা যদি আগামীর বাংলাদেশ হয়, তাহলে এই দেশের কপাল পাকিস্তান আমলের চেয়েও বড় খারাপ হবে। আমরা সুবর্ণ-জয়ন্তীতেও গোলামই থাকবো হয় ‘ভ’ এর নয় ‘প’ এর কাছে। কিন্তু আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তারা কিভাবে এটা মানতে পারি? তাই বার বারই দু:খ করে দিন গুনছি একটু ভালোর আশায়। আসবে কি ভালো?

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একখান সার্টিফিকেট নিলে আর একখান সমালোচনা করতে পারলেই এরা নিজেদের মহা পন্ডিত মনে করে। এরা নিজের কর্মের ফল মেনে নিতে মোটেও প্রস্তুত নয়। প্রকারন্তে রাষ্ট্রকেই জিম্মি করার চেষ্টা করছে সংকীর্ণ মস্তিষ্কে। অথচ আজ আমরণ অনশনে গিয়ে যে ১জন শ্রমিক মারা গিয়েছে, সেটি আরো ১০ বছর আগেই হওয়ার কথা ছিল। এই মৃত্যুর মিছিল ডাবল শুন্যের ঘর অতিক্রম করলেও আমি বলবো এই পরিস্থিতি শ্রমিকরাই তৈরি করেছেন নিজেদের অন্যায় অবৈধ সুবিধে দিতে গিয়ে। যে কাজে রাষ্ট্রের ক্ষতি সেকাজে দিনের পর দিন কেন নিজেকে মুজুর হিসেবে খাটিয়েছেন শ্রমিকরা? রাষ্ট্রকে সর্তক করার দায়িত্ব কি নাগরিক হিসেবে আপনাদেরও ছিল না? এভাবে প্রতিটি সেক্টরেই আজ গুণে ধরেছে পুজিবাদী মনোভাবের কারনে।

কারণটা একটু পিছনে দাদা। একদিনে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সরকারি পাটকলে চাকুরি করতো এমন কয়েকজন শ্রমিক আমার গ্রামেরও ছিল অতীতে। ছোটবেলায় দেখতাম তারা সারাবছর আমাদের কাজ করেছেন এলাকাতে থেকেই অথচ কয়েক মাস পর পর গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন তুলে নিয়ে এসেছেন বিনা কাজ করেও। এই কাজে অর্ধেক মুনাফার লাভে তাদের সহযোগিতা করতো কারখানার অসাধু ম্যানেজাররা। তখন ছোট ছিলাম বুঝিনি, ভাবতাম লেখাপড়া করে কি লাভ যদি বিনে পরিশ্রমে পয়সায় পাওয়া যায় মাস শেষে। এই লাভের লোভে শ্রমিকরা তার ভাইকে যুক্ত করেছেন, ছেলেকে যুক্ত করেছেন, আরো যুক্ত করেছেন নিকট আত্মীয়কেও। তখন কি খুব ভালো লেগেছে আপনাদের?
রাষ্ট্রের তলাটা খালি করে ফেলেছেনতো আগেই, তাই এখনতো না খেয়ে মরতে হবেই।

কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ‘জলে ও স্থলে যত বিপর্যয় সবইতো বান্দার কর্মের ফল’ তাহলে আজ এই মৃত্যু নিয়ে কাঠমোল্লাদেরও কোন মাথাব্যাথা থাকার কথা না। তারা আরো বড় স্বার্থপর। হেফাজত কান্ডে আমরা কাঠমোল্লাদের উপর আস্থার প্রমাণ পেয়ে গেছি। কাঠমোল্লারা রোজ মাংস রুটি খেয়ে দিন কাটাক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে আমাদের আর্জি তারা যেন এই রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলতে না পারে।

আমি মনে করি রূপপুরের বালিশ কাহিনীর মতো এই শ্রমিকরদের বিশাল অংশ সেদিন কাজ না করে যে হরিলুট করেছে কারখানাগুলোতে, তার প্রাশ্চিত্য তারা ভোগ করতেই হবে। রাষ্ট্র বড়জোর এই ডেডবডি দাফনের ব্যবস্থা করতে পারে!

বুদ্ধিজীবীরাতো আগেই মাথা বিক্রি করেছে দাসত্বের রাজনীতির কাছে। তাই সব মাথা বিক্রি সুশীল-বুদ্ধিজীবী পাটকলশ্রমিককের মৃত্যু নিয়ে সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ খোঁজার আগে নিজের অতীত ডায়েরি খুলে দেখুন, কুষ্টিতে কি লেখা আছে আপনার কর্মের? ভুলে যাবেন না, আজ পাটকল শ্রমিকের মৃত্যু হলেও কাল কিন্তু আপনার পালা!

 

লেখক: উদ্যোক্তা ও অন্যতম সংগঠক ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ আন্দোলন।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আসছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘সোলাস্তা’

স্টাফ রিপোর্টার :: দেশের অমিত সম্ভাবনাময় তারুণ্যের চাহিদায় সাড়া দিয়ে ঐতিহ্য, গৌরব ...