ব্রেকিং নিউজ

‘এডওয়ার্ড কেনেডি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন’

স্টাফ রিপোর্টার :: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থী শিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন। সেই বন্ধুদেরই অন্যতম হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নয়াপল্টন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডি’র ১১তম মৃতু্যবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাপ-ভাসানী চেয়ারম্যান এম.এ মোসতাক, জয়বাংলা মঞ্চের সভাপতি মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজু, রাজনীতিক আ স ম মোস্তফা কামাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সহ-সভাপতি ফাতেমা খাতুন প্রমুখ।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের ঘোর সমর্থক ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন সরকারের একচোখা নীতি এক পা বাড়িয়ে বাস্তবায়ন করতেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। কিন্তু ওই মার্কিন রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরেই ছিল বাংলাদেশের অনেক সুহৃদ। সে সময়ের মার্কিন সিনেটের কার্যবিবরণীতে দেখা যাবে, একজন সিনেটর প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তাঁর দেশের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। সোচ্চার তিনি পূর্ব বাংলার পাইকারি গণহত্যার বিরুদ্ধে। লাখো শরণার্থীর জীবন বাঁচানোর নিরবচ্ছিন্ন তাগিদ তাঁর কণ্ঠে। তিনি সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৯ বছর।

তিনি বলেন, মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের তরুণ সদস্য এডওয়ার্ড মুর কেনেডি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় একাত্তরে মানবতার মুখপাত্র হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে। ১১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও মার্কিন সিনেটে এডওয়ার্ড কেনেডির বক্তৃতা–বিবৃতির ক্রম থেকে সহজেই বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তিনি ছুটে এসেছিলেন ভারতে, খুলনা সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে। স্বচক্ষে দেখেছেন মানুষের দুর্দশা।

সভাপতির বক্তব্যে এম এ জলিল বলেন, একাত্তরের ১১ আগস্ট মাদার তেরেসাসহ কলকাতায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন কেনেডি। এরপর দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন-নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পাকিস্তানেও যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াহিয়া তাঁকে ভিসা দিতে রাজি হননি। এডওয়ার্ড কেনেডি ছিলেন মার্কিন সিনেটের শরণার্থীবিষয়ক জুডিশিয়ারি উপকমিটির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধকালিন সময়ে এডওয়ার্ড কেনেডি ২২ জুন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের উদ্দেশে সিনেটে বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যম থেকে জানলাম গত রাতে পাকিস্তানি জাহাজ পদ্মা অস্ত্রবোঝাই করে নিউইয়র্ক থেকে করাচি যাত্রা করেছে। এটা মার্কিন নীতির চরম লঙ্ঘন। ভয়ংকর বিপদ হচ্ছে এসব অস্ত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সেই রসদ জোগাবে, যা দিয়ে তারা ইতিমধ্যে ৬০ লাখ লোককে শরণার্থী বানিয়েছে, অগণিত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।’ ৭ ডিসেম্বর সিনেটে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় কেনেডি বাংলাদেশে নয় মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এডওয়ার্ড কেনেডি বাংলাদেশ সফরে আসেন। ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪৭ বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুয়েটস রাজ্যের সিনেটর ছিলেন। আর ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত করে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাবনা-৪ উপ-নির্বাচন: বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ- আহত-১০

কলিট তালুকদার, পাবনা প্রতিনিধি :: আসন্ন পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরধরে ...