একশনএইডের বিভাগীয় শিখন উৎসব

একশনএইডের বিভাগীয় শিখন উৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি :: বরিশালে বিভাগীয় এক শিখন উৎসবে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে যুবদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যুবদের ভবিষ্যতের উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যত। তরুণদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সক্ষম হবে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) ‘যুবরা করছে অংশগ্রহণ, ত্বরান্বিত হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন’ বিষয়টির আলোকে কুইন্স ইয়ং লিডার প্রোগ্রামের সহায়তায় একশনএইড বাংলাদেশ এই বিভাগীয় শিখন উৎসবের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস এ অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: খাইরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইকবাল আক্তার, একশনএইডের ম্যানেজার-ইয়ং পিপল মো: নাজমুল আহসান ও যুব প্রতিনিধি তানিয়া আক্তার ইভা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ ফায়ারস্টার্টার ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের ম্যানেজার প্রিয়ংবদা চাকমা।

আলোচনায় বক্তারা তরুণদের ভবিষ্যৎ বিনির্মানে এবং প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে অতিথিবৃন্দ মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বৈকালিক অধিবেশনে বরিশাল বিভাগের সহযোগী সংস্থা, স্থানীয় এনজিও, মিডিয়া, স্থানীয় সরকারী বিভিন্ন অধিদপ্তর থেকে প্রতিনিধি, এনজিও, বরিশাল বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক প্রমুখ অতিথি বক্তা হিসেবে তারা দুটি প্যানেল আলোচনা অংশগ্রহন করেন।

যুব সংগঠক সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল যুব উন্নয়নে করনীয় , যেখানে গোড়ামী ও আমূলসংস্কারবাদ পরিহার করে যুবদের অংশগ্রহন ও নেতৃত্ব প্রদানে ভূমিকা রাখতে কিভাবে সকল স্টেকহোল্ডারদের সহায়তা বৃদ্ধি করা যায় এবং যুবদের কাজগুলোকে তুলে ধরতে ও নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদানে সকল স্টেকহোল্ডারদের কিভাবে আরও উৎসাহী এবং অংশগ্রহনমূলক পদ্বতিতে সংযোগ বৃদ্ধি করা যায়। পরবর্তী সেশন ভবিষ্যৎের অভিমুখে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পার্টনার সংস্থা ও সম্পৃক্ত যুবদের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় যথাচিত কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটানো এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ীত্বের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সংযোগ স্থাপনের পদ্ধতি ও কিভাবে স্থানীয় পর্যায় থেকে এ সকল ইস্যু সমূহ জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দিনব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদেও সফলতার অভিজ্ঞতা (অর্জন, শিখন, প্রতিবন্ধকতা , সর্বোত্তম পদ্ধতি) সম্পর্কে সবার সাথে শিখন বিনিময় করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হল বিএফআই প্রকল্পের অধীনে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজের আনন্দের সাথে সবাইকে অংশীদার করার মাধ্যমে যুব ক্ষমতায়নের প্রেরণা শক্তি সৃষ্টি ও তাদের অভিজ্ঞতা , শিক্ষনীয় বিষয় সমূহ এবং সেগুলো কিভাবে অনুশীলন করছে তা যুবরা তুলে ধরা। এরই সাথে বিভিন্ন এ্যাডভোকেসি উদ্যোগ গ্রহন ও স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যুবদের প্রাধান্য দিয়ে আমরা আমাদের সমাজে বর্তমান লিঙ্গ বৈষম্য ও বয়সভিত্তিক চিরাচরিত সমস্যাগুলোর বিরুদ্বে রুখে দাড়ানো।

উল্লেখ্য যে, তিন বছরের বেশী সময় ধরে একশনএইড বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফায়ারস্টার্টার ইনিশিয়েটিভ’ খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, এবং বরিশাল বিভাগের ৪৯ টি সহযোগী সংস্থাকে নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০১৯ সালে বরিশাল বিভাগের মোট ১০ টি সহযোগী সংস্থা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৫ টি সংস্থার ১৫-৩০ বছর বয়সী যুব সম্প্রদায় বিশেষ করে যুব নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন কর্মসূচী পরিচালনা করে আসছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে গরু বিতরণ

আব্দুর রউফ হায়দার, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি :: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সোমবার ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে দারিদ্র ...