ব্রেকিং নিউজ

একযুগ আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা: ভয়াবহ ঝুঁকিতে কপিলমুনি ইউপি ভবন

একযুগ আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা; ভয়াবহ ঝুঁকিতে কপিলমুনি ইউপি ভবন

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: মাত্র ৫শতাংশ জমির উপর ৬০ বছর পূর্বে নির্মিত কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। এরমধ্যে একাধিকবার সংস্কার হয়েছে। তবে তা দূর্যোগ প্রবণ জনপদে বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে পারেনি। ইতোমধ্যে দ্বিতল ভবনটির ছাদের প্রায় সিংহভাগ ধ্বসে পড়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তরা। বর্ষা মৌসুমে আকষ্মিক ধ্বসে পড়ার আশঙ্কায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ঠেক দিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশের খুঁটি। অতি ভারে দুলতে থাকে ভবনটি। এ যেন নিশ্চিত মৃত্যুর কোনো ফাঁদ। জীবনের চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সেখানে বিচারিকসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, চেয়ারম্যান ১২ জন ইউপি সদস্য, সচীব, তথ্য সচীব, গ্রাম আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচার প্রার্থী থেকে শুরু সেবা পেতে আসা শত শত সাধারণ এলাকাবাসী। প্রতিদিন চলে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস’ার সভা সমাবেশ। প্রতিদিন ভবনে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের।

প্রায় একযুগ আগে জেলা প্রশাসক ভবনটিকে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত পূর্বক পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন বার কয়েক। তবে জায়গার স্বল্পতাসহ সমন্বয়হীনতা ও নানা সংকটে অদ্যবধি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ না হওয়ায় চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাধ্যতামূলক ঐ ভবনেই চলছে দাপ্তরিক সকল কাজ।

৩৭.৮৮ বর্গ কিলো মিটার এলাকার কপিলমুনি ইউনিয়নে গ্রামের সংখ্যা ২২টি, মৌজা রয়েছে ২৭টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪টি, উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫টি, মাদরাসা রয়েছে ৩টি, হাট বাজারের সংখ্যা ৪টি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ১৩ জন, রয়েছে সচিব ও উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ ৯ জন নিয়ে পরিচালিত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদ ভবনটি ভেঙ্গে যে কোনো মূহুর্তে ঘটতে পারে মর্মান্তিক প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা।

সূত্র জানায়, তঃকালীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (স’ানীয় সরকার শাখা) খুলনার সহকারী কমিশনার সাবরিনা শারমিন এর প্রেরিত ৪৬.৪৪.৪৭০০.০২৪.১৬ নং স্মারকে পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের প্রস্তাবটি স’ানীয় সরকার বিভাগের ২০০৬ সালে ৭ আগষ্টের উপ-২/৩ কপি-৪৬/২০০২/৩৪২(৪৮১)নং পরিপত্র (কপি সংযুক্ত) মোতাবেক উপজেলা প্রকৌশলীর সহযোগিতায় পুরাতন ভবনের নিলামযোগ্য মালামালের প্রাক্কলন প্রস’তি হিসেবে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুণরায় স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রেরণ করতে নির্দেশনা দেন। কিন’ এরপরও কেটে গেছে একযুগেরও বেশি। তৎকালীণ জেলা খুলনা জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান পাইকগাছা উপজেলা পরিদর্শন শেষে অকষ্মিক কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনকালে পরিদর্শন বইয়ে পরিষদ ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেন বর্তমান জরাজীর্ণ ভবনটি অবিলম্বে বিধি মোতাবেক ভেঙ্গে এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। যেটি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা প্রদানের একটি কেন্দ্র হতে পারে। সাবেক জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, খুলনা ডিডিএলজি ইশরাত জাহানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ভবনের অবস’া আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করে দ্রুত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ শতক নূন্যতম ৩০ শতক জমি প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে রয়েছে মাত্র ৫ শতক জমি, যার ফলে আটকে রয়েছে আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ। এরপর জেলা প্রশাসক, ইউএনও সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে আধুনিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও অদ্যবধি কাজের কাজ শুধু ফাইল চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে হানা যায়, স্বাধিনতারও ১১ বছর পূর্বে ১৯৬০ সালের দিকে মাত্র ৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয় পরিষদ ভবনটি। এর দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৪টি কক্ষ, যার মেঝের মূল আস’রণ উঠে গেছে বহু আগেই। ছাদের কোনো অংশই বাকি নেই খসে পড়তে। ঢালাইয়ের নষ্ট রডগুলোও মরিচা পড়ে ঝরে পড়ছে। নিচতলার ৩টি ষ্টোর রুমও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যেখানে ইতোমধ্যে আছর করেছে বিষাক্ত সাপ ও পোঁকা মাকড়ের দল। ভাল নেই কোনো রুমের একটি জানালাও।

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মো. কওছার আলী জোয়ার্দার জানান, ২০১৬ সালের ১৫মে তার পরিষদের প্রথম সভা দূর্ঘটনা এড়াতে তিনি সামনের রাস্তার উপর খোলা আকাশের নীচে আয়োজন করেছিলেন। পাশাপাশি আধুনিক ভবন নির্মাণের প্রথম শর্ত নিজস্ব জায়গা কিনতেও কাজ করছেন তারা বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মিস ইউনিভার্স মুকুট জিতলেন জোজিবিনি তুনজি

ডেস্ক নিউজ :: এ বছরের মিস ইউনিভার্সের মুকুট উঠল দক্ষিণ আফ্রিকার সুন্দরী ...