জাহাঙ্গীর আলম, হোসেনপুর(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি  :: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হতদরিদ্র বিধরা আয়শা (৬২) স্বপ্ন দেখেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘরের। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর গড়মাছুয়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের স্ত্রী। ৩০ বছর আগে ৩টি ছোট ছোট ছেলে সন্তান রেখে তাঁর স্বামী আমির মারা গেলেও অধ্যাবধি জুটেনি বিধবা ভাতার কার্ড। তাই সংসারের হাল ধরতে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ কাম করে সন্তানদেরকে বড় করেন ।

এরই মধ্যে থেকে অভাবের তাড়নায় একটি ছেলে মারা যায়। বেঁছে থাকা দু’সন্তানরা নিজ পরিবারের ভরণ-পোষণ করতেই হিমশীম খায়, সেখানে মায়ের ভরণ-পোষণ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। যে জন্য বাধ্য হয়েই অন্যের বাড়িতে কাজ করে দু,মুঠো ভাত জোগাতে হয় কিন্ত এথন বয়সের ভারে নতঝানু হয়ে নানান অসুখ-বিসুখের কারণে আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তার প্রকৃত বয়স ৭৫ এর বেশি।

কিন্তু জন্ম নিবন্ধন কার্ডে তার জন্ম সাল ১৯৫৮ সে হিসেবে বর্তমান বয়স বাষট্রি। এত দিন ৬০ বছর পূর্ণ না হওয়ায় মিলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। তার অভিয়োগ, অনেকেই ভাতা দিবার কথা বলে একাধিকবার নাম নিলেও অদ্যাবধি তাঁর ভাগ্যে জুটেনি কোন প্রকার ভাতার কার্ড । জন্ম থেকে যদিও একটি চোখ নষ্ট সে হিসেবে অন্তত একটি প্রতিবন্ধি কার্ড পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটিও জোটেনি।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে এভাবেই ব্যক্ত করলেন আয়শা তার মনের বেদনার কথা। রান্না ঘরের অর্ধেক অংশ যার দৈর্ঘ্য ৩ ফুট, প্রস্তে ৫ ফুট এ রকম জায়গায় একটি চৌকি ফেলে এখানেই খাবার হাড়ি-পাতিল রেখে সেখানেই বসবাস করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে আয়শা।

এ সময় এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে শেষ আবদার জানিয়ে বলেন, এ বয়সে যদি একটি ঘর পেতাম, তবে সে ঘরে অন্ত:ত শেষ জীবনে একটু শান্তিতে ঘুমিয়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করতাম।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here