সঞ্জিব দাস,গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :: 
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে নবনির্মিত কাঠের সেতু -যাযাদি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীসহ হাজারো মানুষের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রাম ও সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চরমইশাদি গ্রামে হাজারো মানুষের বাস। এসব মানুষের আত্মিক বন্ধন শত বছরের। কিন্তু দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে উত্তর দক্ষিণে প্রবাহিত হচ্ছে ১৫০ মিটার প্রশস্ত নদী, যা পারাপারের একমাত্র উপায় ছিল নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো কিংবা ডিঙি নৌকা, যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি দপ্তরে একাধিক আবেদনেও সাড়া মেলেনি। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মিত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রাম ও সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চরমইশাদি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ধরান্দি খাল। খালের পূর্ব পাড়ে দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও একটি কলেজ রয়েছে। খালের পশ্চিম পাড়ের শত শত শিক্ষার্থী ও মানুষকে প্রতিদিন এই খাল পার হতে হতো। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো কিংবা ডিঙি নৌকা ছিল একান্ত সম্বল। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন মাইল ঘুরে আসতে হতো। খরচ হতো কমপক্ষে ৫০ টাকা। দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে এলাকাবাসী ধরান্দি খালের ওপর প্রথম একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী মিলেই মেরামত করে সাঁকোটির ওপর দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে রাখছিলেন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া বেশ কষ্টকর ছিল। কালক্রমে এটাও বিলীন হয়ে যায়।
কয়েক মাস আগে নড়বড়ে সাঁকোটি খালে হেলে পড়ে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মবর্তার নজরে আনলে তিনি একটি কাঠের সেতু স্থাপনের পরামর্শ দেন এবং কিছু অর্থ বরাদ্দ দেন। ইউপি চেয়ারম্যান প্রায় দুই মাস চেষ্টা করে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এবং চার ফুট প্রস্থের একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে ফেলেন। দেখা গেছে, গাছের গুঁড়ি পুঁতে তার ওপরে কাঠের পাটাতন বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেতুর রেলিং দেওয়া হয়েছে কাঠ দিয়ে। সেতুর মাঝখানে করা হয়েছে সুদৃশ্য নৌকার প্রতিকৃতি। উদ্বোধন উপলক্ষে সাজানো হয়েছে বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে। অবশেষে সেই দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্মিত সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফিতা কেটে সেতুটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল। সে সময় থেকেই সেতু দিয়ে লোকজনের চলাচল শুরু হয়।
তাদের মধ্যে বই-খাতা নিয়ে সেতু পার হচ্ছিলেন চরমইশাদি গ্রামের সিনথিয়া। সে কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিনথিয়া জানায়, ‘আগে তিন কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যেতাম। এখন এই সেতু হওয়ায় মাত্র ১৫ মিনিটে কলেজে যেতে পারব। আমাদের কষ্ট দূর হয়েছে।’কলাগাছিয়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, ‘নতুন কাঠের সেতু হওয়ার কারণে আমরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত। এই সেতু না থাকলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাঈনুল শিকদার বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে এই কাঠের সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। এছাড়া স্বেচ্ছাশ্রম ও গাছের মাধ্যমে সহায়তা করেছেন এলাকাবাসী। দুই মাস সময় লেগেছে সেতুটি নির্মাণে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘এ খাল পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করেছে। আশা করছি, ওখানে স্থায়ী সেতুও নির্মাণ করা হবে। সে বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here