একজন করোনাযোদ্ধা ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন

ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন

স্টাফ রিপের্টার :: জেলা চাঁদপুর, উপজেলা মতলব উত্তর। এই উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে গত চার মাস আগে যোগদান করেন ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন। স্থানীয় জনগনের চাহিদা মোতাবেক তাদের দাবি মতো সাজাতে থাকেন এই হাসপতাটি। চালু করেন অপারেশন থিয়েটার, শুরু করেন সিজাররিয়ান অপারেশন । এলাকা বাসী হাপতালের কর্মকান্ডে বেশ খুশি হয়। ২১ জন চিকিৎসক ১৪ জন নার্স আর স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে বেশ ভালোই চলছিলো, হঠাৎ করোনার থাবায় যেনো সব লন্ড ভন্ড করে দিলো মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। কিন্তুু হার মানবার পাত্র নন এই হাসপাতালটির প্রধান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন হলে সেখানকার মানুষ প্রশাসনের দৃষ্টির অগোচরেই এই এলাকায় প্রবেশ করে।নারায়নগঞ্জের খুব কাছে হওয়ায় এখানকার হাজার হাজার মানুষ সেখানে কাজ করেন।পুলিশ প্রশাসনের আপ্রান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মানুষের এই স্রোত বন্ধ করা অনেকাংশেই সম্ভব হয়নি। আর সেটা নদীপথের কারনেই হয়তো হয়েছে। এসব আগত লোকজনের অনেকের শরীরে করোনা ভাইরাস বহন করেন। এই হাসপাতাল আইসোলেশন থেকে তিনজন করোনা পজেটিভ রোগীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মেহেদী হাসান করোনা আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্যাম্পল কালেকটর সহ চিকিৎসক ও নার্সরা আক্রান্তদের সহচার্জে আশায় আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স বর্তমানে হোমকোয়ারিন্টিনে রয়েছেন। বর্তমানে রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করা, তাদের হোম কয়ারেন্টিনে কি ভাবে থাকতে হবে সেই নির্দেশনা দেওয়া, প্রশাসন ও থানা পুলিশের সাথে সমন্বয় করা একই সাথে জেলা সিভিল সার্জনের পরামর্শ নেয়া এবং সেই মত কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন একজন করোনা যোদ্ধা ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন। একই সাথে প্রতিদিন শত শত রোগীর সরাসরি ফোন কল রিসিভ করে তাদেরকে বাসায় রাখা এবং কি করনীয় তা বলে যাচ্ছেন বিরতিহীন ভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মূলভবন করোনা ছড়িয়ে পড়লে সেই ভবনে সবধরনে সেবা স্থগিত রাখেন, কিন্তুু সাধারণ রোগী এবং নতুন করোনা রোগীদের সেবা যাতে বন্ধ না হয়ে যায় তার জন্য পাশের নির্মানাধীন নতুন ভবনে শুরু করেন হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মূল হাসপাতাল ভবন ভালো ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে আবার কার্যক্রম শুরু করেছেন তবু হাসপাতাল লকডাউন করতে নারাজ তিনি।

এই হাসপাতালের একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স যেটি করোনা রোগী বহন করায় সেটিতে ভালো রোগী বহন যোগ্যনয় বিধায় তিনি সিভল সার্জনের সহায়তায় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আরো একটি গাড়ী নিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে পাশ্বর্বর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহযোগিতা নিয়ে বর্তমানে স্যাম্পল সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

কথা প্রসঙ্গে ডাঃ মিথেন বলনে, অসহায় মানুষ গুলোর মুখের দিকে তাকালে বড় মায়া লাগে, আমাদের এই হাসপাতালের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, আবার করোনার মতো ভাইরাস যে আসবে কে জানতো! আক্রান্ত রোগীদের কথা বলার সময় অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। করোনা মুক্তির জন্য তিনি প্রতিদিনই রোজা রাখছেন।

ডাঃ মিথেন বলেন, আমরা যারা স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করছি তারা হলাম সম্মূখ যুদ্ধে অবর্তীণ। আমরাতো মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে কাজ করছি।এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। এটাই আমাদের ধর্ম। এই যুদ্ধে পিছু হটবার কোন সুযোগ আমাদের নেই।

তিনি আরো বলেন, আমার প্রত্যেক টিম মেম্বার চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী দিনরাত জীবন বাজি রেখে কাজ করছে। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সাখাওয়াত উল্লাহ প্রতিটি কাজের নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।এছাড়াও অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তারাও সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছেন। মতলবের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য, জন প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিকসহ সকল সাংবাদিক প্রমুখ সকলের সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।একই সাথে এই এলাকার জনগন আমাদের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, নিশ্চই আমরা তা রক্ষা করতে পারবো।আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন ও মাফ করবেন।

একজন চিকিৎসক হিসেবে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন নিবেদিত এক প্রাণ হয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কাজ করে যাচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইউটিউবে তামিম ইসলামের নতুন ১০টি গান

স্টাফ রিপোর্টার :: শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক তামিম ইসলাম ২০১৪ সালে ...