এই পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্বগুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি: এমদাদুল হক হৃদয়

এমদাদুল হক হৃদয়

আ হ ম ফয়সল :: একজন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান, উপস্থাপক এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয় মীরাক্কেল সিজন ৯ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্য দিয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে এখন দর্শকদের চাহিদার কথা মূল্যায়ন করে, পারফর্ম্যান্স বেইজড কিছু ভালো কন্টেন্ট তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন।বলছি এমদাদুল হক হৃদয় -এর কথা। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় হলেও বাবার সরকারি চাকুরি সূত্রে জন্মগ্রহণ করে ছিলেন চাঁদপুরে। তবে, ছোটবেলা থেকেই ঢাকাতে বেড়ে ওঠা। থাকছেন হাতিরপুল এলাকায়। নিজ উদ্যোগে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিয়ে-শাদির ভাবনা এখনও শুরু হয়নি। কন্টেন্ট তৈরি, স্টেজ পারফরমেন্সসহ বিভিন্ন কাজে ছুটেচলা তরুন মানুষটি করোনার কারনে লকডাউনে কি করছেন ? এসব বিষয়ে কথা হয় এমদাদুল হক হৃদয়ের সাথে-

 

কেমন আছেন?

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি, ঘরে আছি, অপেক্ষায় আছি, একটা সুস্থ পৃথিবীর।

 

করোনা কালে ঈদ কেমন কাটলো ?

অন্যান্য ঈদের চেয়ে এবার একটু ভিন্নরকমের ঈদ গেলো। অনেক কিছুই হয়নি, আবার অনেক কিছুই হয়েছে একটু অন্যরকম ভাবে। তবুও বলবো, নিজের পরিবারের সাথে, আর সুস্থ পৃথিবীর স্বপ্ন নিয়ে ভালো কেটেছে ঈদ, আলহামদুলিল্লাহ।

 

বাসায় কিভাবে সময় কাটছে ?

বই পড়ে এবং অনলাইন মাধ্যমে নিজের জীবন এবং কাজকে আরও উন্নত করতে স্টাডি করছি। ঘরের কাজে অংশগ্রহণের চেষ্টা করছি। লেখালেখি করছি। আর ঘরোয়া পরিবেশে, আমার টীমের অন্যদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করে, ডিজিটাল মিডিয়ায় থাকা আমার দর্শকদের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করছি।

 

করোনা পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করছেন?

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। ফুল টাইম ঘরে থাকার চেষ্টা করছি। আর একজন মানুষ হিসেবে এবং একজন শিল্পী হিসেবে, এই পরিস্থিতিতে নিজের দায়িত্বগুলোকে খুঁজে বের করা এবং সেগুলো পালনের চেষ্টা করছি। জানিনা, কতটুকু পারছি। তবে, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

দিনের পর দিন ঘরে থাকছেন, ঘরের কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন এসছে কি?

নিশ্চয়ই এসেছে। আমি খুব একটা এক্সপার্ট না হলেও, নিজের ঘরের কাজগুলো নিজেই করার চেষ্টা করছি। যেমন ধরুন, নিজের বিছানা গোছানো, খাবারের প্লেট পরিষ্কার করা, নিজের কাপড় ধোয়া, ইত্যাদি। যদিও, আমার মা অনেক এক্সপার্ট মানুষ। সে সুযোগ পেলেই, আমাদের কাজগুলোও করে ফেলছে। তবুও আমরা অংশগ্রহণের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি ।

 

কর্মহীন ঘরে থাকা মানুষগুলোর জন্য কোন পরিকল্পনা আছে?

জী, আলহামদুলিল্লাহ। পরিকল্পনাটা শুরুর দিকেই করার সৌভাগ্য হয়েছিলো এবং চেষ্টাটা চলছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী, অভাবীদের সাহায্যের কাজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে একটা ফান্ড-রেইজিং এর চেষ্টা করেছি আমি এবং আমার টীম। আল্লাহর রহমতে বেশ কিছু মানুষ সাহায্য পাঠিয়েছেন, এবং ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কিছু পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

 

করোনা দেশের বিনোদন জগতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

আসলে, করোনা তো গোটা অর্থনীতিতেই একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। নিঃসন্দেহে, বিনোদন জগতও তার বাইরে না। তবে, আমার মনে হয়, এই নেতিবাচক প্রভাবের মাঝেও বিনোদন জগতের মানুষদের, ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে নিজেদের দায়িত্ব পালনের বা কাজ করার বেশ কিছু সুযোগ আছে, যেটা হয়তো অন্য ক্ষেত্রের অনেক পেশাজীবিদেরই নেই। অতএব একটা নেতিবাচকতার আশঙ্কা নিশ্চয়ই আছে, পাশাপাশি অপর্চুনিটির জায়গাও আছে। আমরা শিল্পীরা এবং আমাদের বিনোদন জগতের মানুষেরা তাদের চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

 

করোনা মোকাবেলায় যারা যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে তাঁদের নিয়ে কি বলবেন?

তাদের প্রতি শ্রদ্ধাটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। অনেক অনেক দোয়া রইলো তাদের সকলের প্রতি। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত। আল্লাহ তাদেরকে এবং তাদের পরিবারকে অনেক ভালো রাখুক, ইনশাআল্লাহ।

 

করোনা মুক্ত আগামীর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

খুব সুন্দর, আর সুখের একটা বাংলাদেশ, একটা সুন্দর পৃথিবী দেখতে চাই, যেখানে অনাহারে থাকবে না মানুষ, ভালো থাকবে সবাই, আর আমরা বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলবো, আলহামদুলিল্লাহ।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৬ মাসে বিরাটের সঙ্গে মাত্র ২১ দিন কাটিয়েছি: আনুশকা শর্মা

ডেস্ক নিউজ :: ভারতীয় ক্রিকেট ও বলিউডে বরাবরের মতোই আলোচনায় বিরাট ও ...

0Shares