বিগত এক সপ্তাহে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৭ জন। আর করোনা শনাক্ত রোগী মারা গেছেন ৪৬ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা শনাক্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ১৫, উপসর্গ নিয়ে ১৯ জনের।

এর বাইরে খুলনার পাঁচটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে গত এক সপ্তাহে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চারজন রোগী। আর করোনায় মারা গেছেন ৩৩ জন। অবশ্য কিছুদিন আগেও খুলনায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ছিল।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনার উপসর্গ নিয়ে যাঁরা মারা যান, তাঁদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয় না অথবা পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। এর একটি কারণ নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে চাপ অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে এক বা দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা ও ফলাফল পাওয়া দুষ্কর। গ্রামের মানুষ রোগীদের এমন সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যান, যখন অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়। এতে পরীক্ষা ও ফল পেতে সময় পাওয়া যায় না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগারের দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা ১৮৮টি। সেখানে দিনে ৪৫০ থেকে ৬০০ নমুনা জমা পড়ছে। চাপ বেশি বলে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।

উপসর্গ নিয়ে মৃতের তালিকায় যাঁদের নাম ওঠানো হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব রোগীর জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গও থাকছে। তবে তা শুরুর দিকে বেশি দেখা যায়। পরে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অবশ্য কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, গলাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি না থাকা ও স্বাদ না পাওয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

কারও কারও ক্ষেত্রে সব উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসছে বলে উল্লেখ করেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীরা শ্বাসকষ্ট, কাশিসহ খুব খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের করোনার সব উপসর্গ থাকে। তবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় কোনো কোনো করোনা শনাক্ত হয়নি বলে দেখা যায়।

করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) প্রতিবেদনেও। সংস্থাটি দেশে মহামারির শুরু থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করোনা নিয়ে দুই সপ্তাহ পরপর প্রতিবেদন দিয়ে আসছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ১৯ মার্চ থেকে এ বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত সময়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ২ হাজার ৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই—এই দুই সপ্তাহে। এ সময় সারা দেশে উপসর্গ নিয়ে ৪৮৬ জন মারা যান।

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here