ব্রেকিং নিউজ

উপকূল আম্পানের তাণ্ডব: পাঁচ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব। ছবি: মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি

স্টাফ রিপোর্টার :: বুধবার সারা রাত তাণ্ডব চালানোর পর ঘূর্ণিঝড় আম্পান এখন একেবারেই দুর্বল হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সূত্র জানায়, স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আম্পান আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে রংপুর অঞ্চলের দিকে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাবে। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ যে সব এলাকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ  সংকেত ও ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ছিল,  সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। তার পরিবর্তে  ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে এবারও সুন্দরবনই বাঁচিয়ে দিয়েছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে আম্পান এটি স্থলভাগে উঠে আসতে শুরু করে। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। প্রবল বেগের এই ঝড়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

আম্পান সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে সাতক্ষীরায়। উপকূলীয় এ জেলায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১৪৮ কিলোমিটার। সেখানকার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় তীব্রগতিতে তাণ্ডব চলেছে সাতক্ষীরায়। পরে গতিবেগ কমে ১০০ কিলোমিটারে নেমে আসে।

আম্পানের মূল কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ হয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। এ সময় সাতক্ষীরা, খুলনাসহ পশ্চিম উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়। এতে প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা।

গাছ ও দেয়ালচাপায় এবং নৌকাডুবিতে বিভিন্ন স্থানে ১০ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রবল ঝড়ে গাছচাপায় সাতক্ষীরা শহরে গৃহবধূ, যশোরে ঘুমন্ত অবস্থায় মা-মেয়ে, পটুয়াখালীতে শিশুসহ দু’জন, কলাপাড়ায় নৌকাডুবিতে একজন, পিরোজপুরে দেয়ালচাপায় একজন, ভোলার চরফ্যাসনে গাছচাপায় একজন, বরগুনায় একজন এবং লক্ষ্মীপুরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অনেক বাঁধ। গাছপালা উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই উপকূলীয় এলাকার ৫১ লাখের মতো গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে ওড়িশা এবং সাগরদ্বীপে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ার পর এর বিধ্বংসী শক্তি কিছুটা কমে যায়। পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে আম্পানের অগ্রভাগ প্রবেশ করে বিকেল ৩টায়। আরও এক ঘণ্টা পরে এটি সুন্দরবন হয়ে সাতক্ষীরা উপকূল স্পর্শ করে। পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

স্পেশাল ম্যাংগো ট্রেনের যাত্রা শুরু

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  :: আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলষ্টেশন ...